প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: শেখ হাসিনার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হবে নাকি দুর্ভাগ্যের দোলনায় বসবে মানুষ?

দীপক চৌধুরী: দুর্ভাগ্যের দোলনায় এদেশের মানুষ আর বসতে চায় না। তারা অতীত দেখেছে। গণতন্ত্রের নামে মানুষকে নিয়ে ‘ফুটবল’ খেলার ইতিহাস মানুষ ভুলে যাওয়ার কথা নয়। এ কারণেই মানুষের মধ্যেও ভয় ঢুকেছে কোনোভাবে যদি বিএনপি-জামায়াত পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে তাহলে এক জঘন্য শক্তির হাতে মানুষ পিষণ হবে। অগ্নিসন্ত্রাস, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা, চোখের সামনে সন্তানকে পুড়িয়ে মারার দৃশ্য, লুটপাট, মানবিক লাঞ্ছনা দেখেছে জনগণ। যা কখনো ভুলবার নয়। এ আতঙ্কের কারণেই সাবধান থাকতে হবে।

বুধবার পুরান ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে যথার্থই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,“ আপনারা মানুষ হত্যা করলেন, বাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলেন, বাস যাত্রীদেরকে পুড়িয়ে মারলেন, রেভিনিউ অফিসে আগুন দিলেন, এই অন্তর্ঘাতমূলক কাজগুলোকে আন্দোলন বলেন? আন্দোলনের নামে বিএনপি আবারও মানুষ পোড়ানোর পরিকল্পনা করলে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের বিষদাঁত ভেঙে দেয়া হবে।” সম্ভবত এক বিন্দুও এই তুখোড় নেতা বাড়িয়ে বলেননি। কী কৌশল ধারণ করে ‘রাজনীতির মহামারি’ সৃষ্টি করেছিল বিএনপি-জামায়াত এটা অত্যন্ত দক্ষ সুসংগঠক জাহাঙ্গীর কবির নানক বুঝতে পারেন। কারণ, তিনি তো তৃণমূলের খবরও রাখেন। তৃণমূল থেকেই আজ আওয়ামী লীগের রাজনীতির উচ্চআসনে অর্থাৎ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে অধিষ্ঠিত। শোনা যায়, দলপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাঁকে পছন্দ করেন।

মানুষের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতির বুধোদয়ের খবর পাই সাংবাদিকতার সুযোগে। বাজার-হাটে, চায়ের দোকানে, খেয়া নৌকা চড়ে নদী পারাপারকালে, গ্রামেগঞ্জে মানুষের সঙ্গে কথা বলে মনে হয় কোথাও একটা ভয় তাদের মনে কাজ করছে। তাদের প্রশ্ন, যদি ওরা পুণরায় আসে? ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে নানারকম চক্রান্তে নেমেছে অনেকে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সততা ও আদর্শ থেকে রাজনীতি পরিচালিত হলেই কেবল বাংলাদেশ সামনের কঠিন পথগুলো অতিক্রম করবে। সৎ ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আসা দরকার, তা না হলে রাজনীতি মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। এ সুযোগটি অপশক্তি নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সততা এবং দেশপ্রেম পরীক্ষিত। তাঁর কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে পারে। কিন্তু কাজ করতে হবে। শুধু বক্তৃতাবাজি চলবে না। মানুষ কথা আর কাজ দেখতে চায়।

বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্যকন্যা শেখ হাসিনা কঠিন মুহূর্তে বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি এতো সহজে হননি আজকের উন্নত সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন সারথি ।

’৭৫-এর ১৫ আগস্ট নরপিশাচ ঘাতকেরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়। জাতির পিতার সুযোগ্যকন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেন। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হয়েছে। বিচারকার্য প্রক্রিয়া চলমান।

সারাদেশে গৃহহীনদের বিনামূল্যে জমিসহ গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। করোনা সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ জাতিসংঘ, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, বিশ^খ্যাত পত্রিকা দ্য ইকোনমিস্ট, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। জিয়াউর রহমান আর এইচ এম এরশাদ আমলসহ বিএনপি-জামায়াত সরকারের শাসনকালে বোমা-গ্রেনেড হামলা, গুলি, পেট্রেলবোমা নিক্ষেপ করে বাংলাদেশের শত শত মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বহুবার বঙ্গবন্ধুকন্যাকেও হত্যা করার সকলরকম চেষ্টা করেছিল তারা। এমন কী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর আসনে থাকা অবস্থায় একের পর এক ষড়যন্ত্র করেছে। সেই ষড়যন্ত্র এখনো করছে। সুতরাং আমাদের সাবধান থাকতেই হবে।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত