প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থানে শেয়ারবাজারে সূচক

মাসুদ মিয়া: [২] দেশের শেয়ারবাজার আগের দিনের ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসও সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইতে দুই রেকর্ডে হয়েছে। এদিন ডিএসইর দুইটি মূল্য সুচকই অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৫ পয়েন্ট বেড়ে ৭ হাজার ৩০০ পয়েন্টের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। যা সূচকটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থান। সূচকটি ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি চালু হয়েছিলো। এছাড়া অপর একটি সূচকও অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ডিএসই ৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬৯৬ পয়েন্টে।

[৩] এ বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অনেক দিনপর শেয়ারবাজারে রেকর্ড হয়েছে। এটা ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত- উল- ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে গতি ফিরতে শুরু করে শেয়ারবাজারে।

[৪] ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে প্রথম মিনিটেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা সূচকের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলেও দুপুর ১২টার পর একের পর এক প্রতিষ্ঠান দর হারাতে থাকে।

[৫] ফলে নিচের দিকে নামতে থাকে সূচক। অবশ্য এর মধ্যেও দাম বাড়ার ধারা ধরে রাখে বেশিরভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ফলে পতনের হাত থেকে রক্ষা পায় শেয়ারবাজার। ডিএসইতে দিনের লেনদেন শেষে ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে তিনটির এবং চারটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

[৬] অন্যদিকে সব খাত মিলে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৩টির। আর ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

[৭] এরপরও ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় পাঁচ পয়েন্ট বেড়ে সাত হাজার ৩০২ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর শরিয়াহ্ এক পয়েন্ট কমে এক হাজার ৫৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক পাঁচ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৬৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সূচকের উত্থানের সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ২৬৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় দুই হাজার ১৩৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১৩৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

[৮] টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার। কোম্পানিটির ২০৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকোর ১১৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১০১ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ফার্মা।

[৯] এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ড্রাগন সোয়েটার, শাহজিবাজার পাওয়ার, বেক্সিমকো ফার্মা, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ডেল্টা লাইফ এবং সাইফ পাওয়ার টেক।

[১০] অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৮টির এবং ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত