প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে নজরদারিহীন নাটকের মান নিয়ে প্রশ্ন

ইমরুল শাহেদ: নাটকের সোনালি অতীতকে স্মরণ করে অনেক নাট্য অভিনেতা-নেত্রীরাই নাটকের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অনেকেই বলে থাকেন, নাটক প্রচারের পথ যত বেশি উন্মুক্ত হচ্ছে, নাটকের মান তত বেশি নিচের দিকে চলে যাচ্ছে। এসব আলোচনা করতে গিয়ে সামনে চলে আসছে ইউটিউবের নাম। নাট্যজন মামুনুর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কী বিশ্রী ও অশ্লীল নাম! নাম শুনে বোঝা যায়, এর পরিচালক কী ধরনের নাটক দর্শকদের দেখাচ্ছেন। এর জন্য দায়ী চ্যানেল কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন প্ল্যাটফরমের প্রযোজক। তারা ভিউ বাড়ানোর জন্য এমন অদ্ভুত নাম ব্যবহার করছেন। সংগঠনগুলোকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এমন নামের নাটককে অভিনয়শিল্পীদের রিফিউজ করার মানসিকতা থাকা দরকার।’ এ নিয়ে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বিরক্তি প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছিলেনও।

তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে সবার বলা উচিত। চুপ করে থাকতে থাকতে নাটকের মানের এই বেহাল।’ নাট্যজন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘শুধু নাম কেন- মেকিং, সংলাপ প্রক্ষেপণ, এডিটিংও জঘন্য হয়ে গেছে। কমেডির নামে চলছে ভাঁড়ামি। এত ভিউ দিয়ে কী হবে, যদি নাটক ইন্ডাস্ট্রির এমন করুণ দশা হয়?’ এইতো ক’দিন আগেই কয়েকটি নাটকের বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু মানহীন নাটক একশ্রেণির দর্শকের কাছে জনপ্রিয়, সবার কাছে নয়। এসব নাটকের জন্য সবাই দায়ী করছেন ইউটিউব চ্যানেলকে।

কারণ টিভি নাটকের যখন রমরমা অবস্থা, তখন মানসম্পন্ন নাটকই প্রচার হতো; কিন্তু ইউটিউব জনপ্রিয় হওয়ার পর নাটকের মান নেমে গেছে তলানিতে। বাস্তবতা হচ্ছে- টিভি চ্যানেলে এখন কেউ নাটক দেখছেন না। ফলে টিভি চ্যানেলের নাটক হয়ে পড়েছে দর্শকহীন। ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম যে আশার আলো দেখিয়েছিল, সেটি মানহীন কাজের কারণে নিভুনিভু। ভিউ বাড়ানোর জন্য উদ্ভট গল্পের সব নাটক নির্মাণ করছে অধিকাংশ ইউটিউব চ্যানেল। ইউটিউবের নাটক থেকে সবাই যখন চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তখন দেখাচ্ছে আশার আলো; কিন্তু কতদিন এটা দর্শক ধরে রাখতে পারে- সেটাই দেখার বিষয়। কারণ শুরু থেকেই অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত এই প্ল্যাটফর্ম। তবে এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, কিছু কিছু ইউটিউব চ্যানেল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম মানসম্পন্ন নাটক নির্মাণ করছে। আর দর্শক সেগুলো দেখছেন, তৃপ্ত হচ্ছেন।

শুধু নাটকের মান নয়, নাম নিয়েও অভিযোগ আছে দর্শকের। এমন অনেক নামের নাটক ইউটিউবের বিভিন্ন চ্যানেলে আছে, যেগুলো হাস্যকর, কুরুচিপূর্ণ; যা নিয়ে রীতিমতো বিস্ময় ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন গুণীজনরা। গত কয়েক বছরে চ্যানেল ও ইউটিউবে প্রচার হওয়া কয়েকটি নাটকের নাম- ‘ফাইস্যা গেছি’, ‘এক্স বয়ফ্রেন্ড’, ‘মি. অ্যান্ড মিসেস চাপাবাজ’, ‘দৌড়ের ওপর ঔষধ নাই’, ‘লাড্ডু সোনা’, ‘সেন্ড মি নুডস’, ‘বেড সিন’, ‘ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাকা’, ‘ফালতু’, ‘প্লে-বয়’, ‘ক্রেজি লাভার’, ‘ড্যাশিং গার্লফ্রেন্ড’, ‘আফ্রিকান বউ’, ‘চ্যাতা কাশেম’, ‘ছ্যাঁছড়া জামাই’, ‘প্রোটেকশন’, ‘শোবার ঘর’, ‘ইংলিশ জামাই’, ‘আনম্যারিড কাপল’, ‘ফিমেল’, ‘ডে কেয়ার’, ‘সেইরকম বাকিখোর’, ‘সেলিব্রেটি কাউ’, ‘মিউচুয়াল ব্রেকআপ’, ‘ম্যানেজ মকবুল’, ‘হেভিওয়েট মিজান’, ‘এক্সফেল মফিজ’, ‘কেন একসেপ্ট করবা না’, ‘মি. গিট্টু’, ‘বেবি গার্ল’, ‘তেজপাতা’, ‘কম খরচে ভালোবাসা’, ‘এক্সচেঞ্জ’, ‘নটি ভার্সেস কিউটি’, ‘গার্লফ্রেন্ড যখন ভাবী’, ‘ড্যান্সিং কার’ ইত্যাদি। জানা যায়, টিভি চ্যানেল বা ইউটিউবের জন্য নির্মিত নাটকের সেন্সর না থাকায় নির্মাতারা কোনো ধরনের বিচার-বিবেচনা ছাড়াই উদ্ভট নামের এসব নাটক নির্মাণ করছেন। দুই-একটি নাটক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় এখন সবাই এই স্রোতে গা ভাসিয়েছেন। এসব নাটকের নির্মাতাদের তালিকায় আছেন জনপ্রিয় থেকে নতুন নির্মাতা। আর গল্পের ফর্মুলাটা একদম কমন। সেখানে না আছে গল্প, না চরিত্র, না অভিনয়শিল্পীদের বৈচিত্র্য। আর লোকেশন? একটি রুমের মধ্যে নাটক শেষ!

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত