প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস আজ

মাজহারুল ইসলাম: [২] ‘তথ্য সবার অধিকার: থাকবে না কেউ পেছনে আর’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস। বাসস

[৩] তথ্য জানার অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। ২০১৫ সালে ইউনেস্কোর নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম তথ্য অধিকার দিবস পালন করা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেবা বিস্তৃত হওয়ায় ডিজিটাল বৈষম্যের কারণে কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে, এবছর সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে ইউনেস্কো। দিবস পালন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন।

[৪] রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, “তথ্য অধিকার আইন একটি জনকল্যাণকর আইন। দেশের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সব স্তরে দুর্নীতি দূরীকরণের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে তথ্য অধিকার আইনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার অধিকার বিশ্বব্যাপী একটি মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে জনগণের চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তথ্য জানার অধিকারকে প্রাধান্য দিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে ‘তথ্য অধিকার আইন ২০০৯’ এবং এর যথাযথ বাস্তবায়নে ‘তথ্য কমিশন’ গঠন করা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার পাশাপাশি এ আইনের যথাযথ প্রয়োগে তথ্য কমিশনকে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। জনগণের তথ্য জানার অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

[৫] রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণকে তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে এবং তথ্য সেবা নিশ্চিত করতে তথ্য কমিশন অনলাইন প্রশিক্ষণ ও অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেম কার্যক্রম গ্রহণ করেছে জেনে আমি আনন্দিত। এর ফলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই আইনের সুফল ভোগ করতে পারবে এবং তথ্য জানার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে।’ তিনি আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০১৯ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

[৬] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সুবিধাদি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে। সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার ২৮৬টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তোলার মাধ্যমে তথ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।’

[৭] প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ক্ষমতায়নে তথ্য একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। জনগণের এ অধিকারকে সম্মান দিয়ে নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’ এবং এর আওতায় তথ্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। যার ফলে জনগণ ও গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রাপ্তির অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

[৮] তিনি বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহকে আরও বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি ওয়ার্ল্ড এবং সংসদ টেলিভিশনের পাশাপাশি ৪৫টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং ২৮টি এফএম বেতার কেন্দ্র এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা সহজতর হয়েছে। সংসদ টেলিভিশন চালুর ফলে গণমানুষের কাছে সংসদের কার্যক্রম সরাসরি পৌঁছানো সহজ হয়েছে। বর্তমান সরকার নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ৪৫ হাজারেরও বেশি অফিসের তথ্য সংবলিত বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন চালু করেছে। জেলা শহরগুলোর মধ্যে ৯৯ শতাংশ শহর ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। এখন ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম-এর মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে তথ্য আদান প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ‘আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার ২০১৯’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

[৯] তথ্য কমিশন দিবসটি পালনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, সংবাদ সম্মেলন এবং টেলিভিশন ও বেতারে টক শো প্রচার।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত