প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: বাংলাদেশের মানুষের অগ্রযাত্রায় শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টা

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: 
জন্মদিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই, শুভেচ্ছা জানাই ও শুভ কামনা জানাই। তিনি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। আমরা আশা করি যে তিনি দীর্ঘদিন সুস্থ শরীরে, সফলভাবে বাংলাদেশের মানুষকে নেতৃত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পৌঁছে দেবেন এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন। আমরা জানি তিনি একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছেন। এর মধ্যে রূপকল্প ২০৪১ সামনে আছে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে তিনি মানুষের জন্যও কাজ করছেন। বিশেষ করে শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যেও কাজ করছেন। কিছুদিন আগেই তিনি বাংলাদেশের প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষার অবকাঠামোগত একটি বড় পরিবর্তন সৃষ্ট করেছেন। একবিংশ শতাব্দির বাস্তবতাকে ধারণ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যেভাবে পৃথিবীতে এগিয়ে যাচ্ছে তার সঙ্গে তালমিলিয়ে চলার জন্য এ ধরনের পবিবর্তন করার দিক-নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন।
বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে যোগাযোগের যে অবদান সেটি তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করে সেভাবে দেশে বড় কয়েকটি মেগা প্রকল্প নিয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা দেখতে পাই পদ্মা সেতু প্রকল্প এবং পদ্মা সেতু দিয়ে রেলসংযোগ প্রকল্প। আমরা দেখতে পাই দেশের বিভিন্ন আন্তঃজেলা সড়কগুলোকে বহু লেনে প্রশস্ত করা। আমরা দেখছি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেল সংযোগ স্থাপণ করা। আমরা দেখছি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করা। আমরা দেখছি কক্সবাজার বিমান বন্দরকে একটি আধুনিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করা। ঢাকা শহরে মেট্রোরেল এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। সব প্রকল্পেরই মূল জায়গা হচ্ছে দেশের যোগাযোগ। কারণ যোগাযোগ যদি উন্নত করা যায় তাহলে দেশের জিডিপির পরিমাণও অনেক বেড়ে যায়। কারণ পণ্য পরিবহন, স্থানান্তরে এটি একটি বড় ভূমিকা রাখে। মানুষ স্থানান্তর। এক জায়গা থেকে মানুষ আরেক জায়গায় সহজে স্থানান্তর করতে পারবে। এটার জন্য যোগাযোগ হচ্ছে মৌলিক একটি অনুসঙ্গ। সেই জায়গায় তিনি কাজ করছেন। একই সঙ্গে মানুষের যে যোগাযোগ। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গার যাওয়ার প্রয়োজন পরবে না।
এক জায়গায় বসেই সারা পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এ ধরনের যোগাযোগ, যেটাকে আমরা গণযোগাযোগ বলি। সেই ধরনের যোগাযোগের জন্য দরকার হয় তথ্য প্রযুুক্তি এবং বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে তিনি কয়েকিট মেগা প্রকল্প উদ্ভোধন করেছেন। সমুদ্র পথে যোগাযোগের জন্য তিনি পায়রাতে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন করছেন। মহেশখালীতে সমুদ্বন্দর। এগুলোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন তখন আমরা দেখেছি মোবাইল, টেলিফোন একটি কোম্পানির কাছে বন্দক দেওয়া ছিলো। একটি মনোপলির মধ্যে ছিলো। সাধারণ মানুষের পক্ষে মোবাইল-টেলিফোন ব্যবহার করা সম্ভব ছিলো না, অতি উচ্চমূল্যের কারণে। সেই মনোপলিকে ভেঙে দিয়ে তিনি আজকে এমন একটা অবস্তার সৃর্ষ্টি করেছেন যে গ্রামের প্রতিটি মানুষের হাতে এখন মোবাইল, টেলিফোন আছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৬ কোটির অধিক মোবাইল-টলিফোন বাংলাদেশে কর্যকর আছে।

এই যে যোগাযোগ, এট অবকাঠামো উন্নয়নের যোগাযোগ হোক। অথবা মানসিকভবে যে যোগাযোগ যার মাধ্যমে মানুষ এক জায়গায় বসে সারাপৃথবীর যোগাযোগ করতে পারছে। মানুষের মনুষত্বের বিকাশের জন্য যে শিক্ষার প্রয়োজন এবং সার্বিক বিষয়গুলো যেভাবে তিনি এগিয়ে নিয়ে চলেছেন, তাতে আমি মনে কর শেখ হাসিনার এই অগ্রযাত্রা, বাংলাদেশের মানুষেরই অগ্রযাত্রা। আশা করি তিনি তার নেতৃত্বের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সকাল অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে, বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করবেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে সম্মোহনি শক্তি ছিলো, সেই বৈশিষ্ট্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিরা-ধমনীতে প্রবাহিত আছে। তিনি যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে চলছেন, তার একটি বিশেষ যোগ্যতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সাধারণ মানুষ একজন মানুষকে বাংলাদেশে বিশ^াস করে। তিনি যে কথাটা বলেন সেটা বাস্তবায়িত করেন। সেটা আমরা দেখেছি তিনি বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে কীভাবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকরাসহ নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন এবং সেই কাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে। এই সবই প্রমাণ করে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে তার প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে যান। তার চিন্তাভাবনা বাস্তবায়ন করেন এবং মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দেন সেই প্রতিশ্রুতি তিনি পালন করেন। এটিই হচ্ছে একজন সৎ নেতার মূল বৈশিষ্ট্য। তাকে জনগণ বিশ^াস করে। বঙ্গবন্ধুকে বিশ^াস করে যেমন সাড়ে সাত কোটি মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে ৩০ লাখ মানুষ রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। সেইভাবে আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৬ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরের কাজে লিপ্ত আছে। শেখ হাসিনার মধ্যে দূরদর্শিতা, মানবিকতা ও বিশ^স্ততা রয়েছে। মানবিকতাবোধে যে শেখ হাসিনা দীক্ষিত সেটিই কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি। দশ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে তিনি বাংলাদেশে যেভাবে আশ্রয় দিয়েছেন, যে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন সেজন্য ব্রিটিশ গণমাধ্যম চ্যানেল ফোর শেখ হাসিনাকে ‘মানবতার জননী’ অভিধায় ভূষিত করেছেন। এই যে বিদেশি একটি সংবাদ মাধ্যমের যে পর্যবেক্ষণ সেই কারণেই এই অভিধায় ভূষিত করেছেন। এতে বোঝা যায় তিনি জনগণের নেতা হিসেবে কতোটা উচ্চপদে আসীন আছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে বিশ^নেতৃত্বের পর্যায়ে অধিষ্ঠিত করে তাদের যে মূল্যায়ন সেই মূল্যায়নের প্রকাশ করেছে। আমরা গর্বিত আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে আমাদের মাঝে পেয়েছি।
পরিচিতি : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন আমিরুল ইসলাম

 

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত