প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজয় দাশগুপ্ত: শেখ হাসিনা: বাংলার মহীরুহ, বাঙালির ছায়া

অজয় দাশগুপ্ত: শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুকন্যা। তাঁকে যারা হিংসা করেন তাদের যেমন চিনি তেমনি জানি যারা তাঁকে ভালোবাসেন। আমাদের যৌবনে জিয়াউর রহমান যখন সামরিক শাসনে দেশের সবকিছু দখলে নিচ্ছিলেন তখন তিনি এসে নামেন দেশের মাটিতে। যখন এরশাদ সরকার গদি দখল করে একের পর এক কুকর্মের ভেতর দিয়ে ইতিহাস কলংকিত করার পাশপাশি সরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি দুঃশাসন কায়েম করছিলেন তখন তিনি ছিলেন আর্শীবাদ হয়ে। সেসব ইতিহাস এখন অতীত। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে দেশ শাসনে নিয়ে আসা শেখ হাসিনা কেন প্রতিক্রিয়াশীলদের দুশমন সেটা বুঝতে রকেট সায়েন্স জানার দরকার পড়ে না।

আমরা যৌবনের সিংহভাগ সময় কাটিয়েছি অবরুদ্ধ এক দেশে। তখন না ছিলো বাঙালি না বাঙালিয়ানা। মনে পড়ে যেদিন বঙ্গবন্ধু নিহত হলেন সেদিন ছিলো শুক্রবার। সে বিপন্ন সকালে চট্টগ্রামে খবর পাওয়া ও ছিলো কষ্টের ব্যাপার। আমরা তখন গভীর সংকটে। রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। গলির মোড়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখা সে দিনের ঘটনা জীবনেও ভুলবো না। গুটিকয় মানুষ প্রসন্ন চিত্ত আর হাত তুলে চিৎকার করছিল। তারা উল্লাস করছিল। তাদের পাকিপ্রেম আর হিন্দু বিরোধী স্লোগান সেদিন বুঝিয়ে দিয়েছিল আমাদের স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পাকিস্তানি মনোবৃত্তি। তাদের রেখে যাওয়া দালাল রাজাকারদের বীজ তখন আবার জেগে উঠেছে।

সে ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে বিএনপি আর জামায়াত জোট বেধে রাজনীতি করেছে দীর্ঘকাল। আর সে জোটের রাজত্বকাল ছিলো এরশাদ শাসনের মতোই ভয়াবহ। এরশাদ একা শাসন করতেন। তাঁর আমলে দেখেছি স্বৈরশাসনের চূড়ান্ত রূপ। আর এরপর জামায়াত বিএনপির জোট ছিলো অন্য ধরনের। তবে এ দুই সরকারের একজায়গায় ছিলো চরম মিল। তাদের কমন টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা। সব আমলেই তাঁকে

মেরে ফেলার চক্রান্ত হয়েছিল। কিছু কিছু ঘটনা আমরা চোখে দেখেছি। চট্টগ্রামে তাঁর ওপর যে আঘাত সেদিনটা ছিলো কলংকিত এক দিন। এরশাদের থাবা থেকে বারবার বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনাকে কাবু করতে পারেনি তারা। সবচেয়ে নির্মম আঘাতটি হেনেছিল বেগম জিয়ার শেষ আমলের গ্রেনেড আক্রমণ। জিয়াপুত্র তারেক রহমানের মদদে তখনকার ‘লুকিং ফর শত্রুজ’ নামে পরিচিত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের নির্দেশে শেখ হাসিনার ওপর ঢাকার রাজপথে গ্রেনেড হামলায় তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। আর সে ঘটনাতেই বিএনপির সময়কাল নির্দিষ্ট হয়ে যায়।

সময় কাউকে ছেড়ে কথা বলেনি। যে জামায়াত-বিএনপি ধরে নিয়েছিল তারাই শেষ কথা। আর দেশ চলবে পাকি কায়দায় তারা বুঝতে পারেনি এদেশের মাটিতে ঘুমিয়ে আছে লাখ লাখ শহীদ। এই মাটির প্রতিটি কণা যে রক্তে ভেজা বাতাসে ধর্ষিতার নিঃশ্বাস আর দেশের মাটিতে আছেন বঙ্গবন্ধুরকন্যা সেটা তারা ভুলে গেছিল। তাদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে ইতিহাস। আমি বলবোÑ ইতিহাস ই শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল কিছু জরুরি কাজের জন্য। যার ভেতর বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ও ছিলো যুদ্ধাপরাধীর দল। আত্মস্বীকৃত খুনিরা মনে করতো তাদের কেশ স্পর্শ করার সাধ্য নাই কারো। মীরজাফর খন্দকার মোশতাক এদের নাম দিয়েছিল সূর্য সন্তান। এসব পাপীদের শাস্তি হয়তো মানুষ আশা করেছিলেন। তারা জানতো এতোবড় পাপীরা ছাড় পেতে পারে না। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীরা সাজা পাবে কি পাবে না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ছিলো মানুষের মনে। এদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আর টাকাপয়সার দৌরাত্ম্য ছিলো সাংঘাতিক। দুনিয়ার নানা দেশের সাথে এদের গাঁটছড়া আর মানি কানেকশান কতোটা ভয়ংকর ছিলো তা আমরা বিচারের সময় দেখেছি। আমেরিকার মতো রাষ্ট্রের কর্তা লিবিয়ার গাদ্দাফীর ফোন কিছুই কানে তোলেননি বঙ্গবন্ধুকন্যা। অন্য কেউ হলে যেখানে ভয়েই আর এগোতো না সেখানে তিনি বুকের পাটা শক্ত রেখে বিচার ও সাজা নিশ্চিত করেছেন। সেসব ফোন কল ঠাণ্ডা মাথায় হেন্ডেল করে নিজ কার্যে অটল থাকার ভেতরেই বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা।

সে তাঁকেও বাঙালি ছাড় দেয় না। আমি কাছ থেকে দূর থেকে সবদিক থেকে দেখেছি এদের উদ্দেশ্য একটাই। এরা ছলে বলে কৌশলে একটা বিষয়ে একমত। যেভাবে হোক শেখ হাসিনাকে সরাতে হবে। তাঁকে বিরোধী দলে রাখলেও তারা নিরাপদ বোধ করতে পারে না। আর দেশ শাসনে থাকলেতো তারা অনিরাপদ । শেখ হাসিনা এই সাহস আর শক্তি পেলেন কোথা থেকে? আসলে যে মানুষটি তাঁর জীবনের সব প্রিয়জনদের এক রাতে হারিয়ে এতিম তাঁর ভয়ের কি কিছু থাকে? তিনি যে সময়ের বরকন্যা। তাঁকে সময় রেখেছিল রেখেছে বাঙালির ভবিষ্যৎ বিনির্মানের জন্য। আজকের বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক গরিব নামে পরিচিত দেশের ওপরে ওঠার দেশ। সে দেশের আপামর মানুষ সুখী হলেও এক শ্রেণির মানুষ নাখোশ। তাদের অন্তরে পাকিস্তান তাদের রকতে গাদ্দারী। এরা বাংলাদেশের সবকিছু ভোগ করে ও বেঈমান। এরা এখন রাজনীতি অর্থনীতি সমাজে পিছিয়ে থাকার কারণে ক্রমেই খেই হারিবে পরজীবী আর সমালোচকের নামে মীরজাফর হয়ে ওঠে। তারা এখন বলে প্রধানমন্ত্রী নাকি বস্তাভরে, ট্রাংকে করে বিদেশে টাকা নিয়ে গেছেন। ছাগল আর কাহাকে বলে! এই শতকে এই ডিজিটাল যুগে মানুষের পকেটে টাকা থাকে? মানুষ নির্ভর করে একটি কার্ডের ওপর। ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ট্রান্সফার হয়ে যায় কোটি কোটি টাকা। এসব গুহামানবেরা এখনো বাস করে মান্ধাতার আমলে। তাই মনে করে বস্তায় টাকা নেওয়ার যুগ আছে এখনো। পজিটিভ দিকটা দেখার চেষ্টা করো বাঙালি। গর্ব বোধ করো এই ভেবে, বায়ান্নের শহীদদের অবদান, বাঙালির মুখের ললিত ভাষা আজ আবার ধ্বনিত হয়েছে দুনিয়ার দরবারে।

শেখ হাসিনা না থাকলে কী হতো আর কী হবে সেটা পাগলও জানে। জানে বলেই তাঁর আমলের উন্নয়ন সৌন্দর্য সুখ অনুভবকারীরা বাংলাদেশের দিকে না তাকিয়ে তাকিয়ে থাকে লন্ডনের দিকে। সেখান থেকে কবে আসবে শেখ হাসিনা বিরোধী নির্দেশ। সে দূরাশা আলোর মুখ দেকবে বলে মনে হয় না। যতোদিন একজন দেশপ্রেমিক বেঁচে থাকবেন ততোদিন শেখ হাসিনাও থাকবেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা । তিনি সার্থক দেশচালক। তাঁকে আমরা না চিনলেও বিশ্বনেতারা চেনেন। এটা মানি সবসময় সবকাজ ঠিকঠাক হয় না। তিনি প্রগলভ বলেও পরিচিত। তাঁর সোজাসাপটা কথা অনেকে নিতে পারেন না। কিন্তু এটা তো সবাই জানেন তিনি মুখে আর মনে এক। তাঁর অন্তরে বাংলাদেশ। তাঁর গলায় বাংলা গান। তাঁর পোশাকেও বাঙালিয়ানা। সে কারণেই শেখ হাসিনা জাতিসংঘে আরো একবার বাংলায় ভাষণ দিয়ে লাল সবুজের মান রক্ষা করেছেন আপনি।

আপনি না থাকলে এই সম্মানকে বয়ে আনতো দেশের জন্য? আপনাকে ঘিরে থাকা দুষ্ট আর স্তাবকদের সরিয়ে দিলেই দেখা যাবে এই দেশের নেতার বুকে কতোটা প্রেম আর তাঁর জন্য কতোটা ভালোবাসা মানুষের মনে। জন্মদিনে আপনাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নেতা। আপনই বাংলার ভরসা। লেখক : কলামিস্ট। সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত