প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এম আমির হোসেন: শেখ হাসিনা‘বাংলার লৌহমানবী’

এম আমির হোসেন: বঙ্গবন্ধুর পর এ দেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার নাম অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে ইতিহাসে তা নিশ্চিত হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একাত্তরে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। বহিঃশত্রুর শোষণ থেকে তিনি আমাদের ভৌগোলিক স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয় দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা দেশকে যুদ্ধাপরাধের পাপমুক্ত করেছেন, বঙ্গবন্ধু-হত্যাকারীদের আংশিক বিচার করেছেন। দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশের অগ্রগতির জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ দেশের মানুষ বহুকাল বহিঃশত্রুদের দ্বারা শাসিত ও শোষিত হয়েছিল। ভৌগলিক স্বাধীনতা অর্জনের পর এখন শাসিত ও শোষিত হচ্ছে স্বদেশী শত্রুদের দ্বারা। ক্ষমতালিপ্সু কিছু রাজনীতিবিদ, সুযোগসন্ধানী আমলা, ব্যবসায়ী, মিডিয়াজীবী ও দুর্বৃত্ত কিছু পেশাজীবী গড়ে তুলেছে শোষণের এক দুর্ভেদ্য চক্র। শেখ হাসিনার বড় চ্যালেঞ্জ এই চক্রটিকে চিহ্নিত করা এবং এরা যতই ক্ষমতাবান বা নিকটজন হোক এদেরকে সমূলে উৎপাটন করা। এই চক্রটিকে ভেঙ্গে দেশের স্থিতিশীল ও ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য তিনি যদি দেশ পরিচালনার সুন্দর এক ‘মেকানিজম’ তৈরি করে যেতে পারেন তবে তা হবে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান। রাষ্ট্রক্ষমতায় তাঁর পরে যে-ই আসুক না কেন দেশ যেন সেই মেকানিজমে চলমান থেকে উন্নয়নের পথে হাঁটতে পারে। আর যেন হোঁচট খেতে না হয় আমাদের।

বঙ্গবন্ধুকন্যার দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। জীবনের ঝুঁকি নেওয়াসহ দেশের জন্য তিনি বহু ত্যাগস্বীকার করেছেন। তাঁর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দৃশ্যমান কোনো বিরোধীপক্ষ এখন নেই। দেশ এখন অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে অগ্রসরমান। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। এখনো অনেক কাজ বাকি আমাদের। দেশকে উন্নত-দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সত্যিকারের সোনার বাংলা হিসাবে এ দেশকে গড়ে তুলতে চাইলে সর্বক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য ও মেধাবী লোকের মূল্যায়ন জরুরি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। প্রচলিত ধারার ছাত্র-রাজনীতি, পেশাজীবী-রাজনীতি, আইনজীবী-রাজনীতি, শিক্ষক-রাজনীতি, শ্রমিক-রাজনীতি কিংবা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি কতটা অপরিহার্য এখন? কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দলের সাথে লেজুড়বৃত্তিক সংগঠনগুলোর প্রকৃতি পরিবর্তনের সময় কি এখনো আসেনি? সদস্যদের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য সংগঠন হলে সমস্যা নেই, কিন্তু তা ক্ষমতাকেন্দিক মূল রাজনৈতিক দলের লেজুড় হিসাবে কেন? এভাবে চলতে থাকলে আমাদের উন্নয়ন-ধারা এই স্টেইজেই স্থবির হয়ে থাকবে—আর এগুবে না। ক্ষমতায়নের প্রচলিত এই ধারায় প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও মেধাবীরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কখনো আসতে পারবে না—অপ্রধান হয়ে ‘মেনে-নেওয়া’ জীবন কাটাবে কেউ, টিকে থাকার জন্য কেউ সিস্টেমের সাথে অভিযোজন করে নিবে, অভিমান বুকে নিয়ে কেউ-কেউ দেশত্যাগ করে গোপন-দীর্ঘশ্বাস ফেলবে। ওদের কথা ভাবতে হবে। অব্যবহৃত সেই পটেনশিয়াল ফোর্সটিকে যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।

বর্তমান ও নিকট-অতীতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শেখ হাসিনার মতো এত ত্যাগ, সংগ্রাম, উত্থান-পতন, মৃত্যু-ঝুঁকি আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের জীবনে ঘটেনি। বহুবার তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলমান আছে। এতকিছুর পরেও তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলার লৌহমানবী, জোয়ান অব আর্ক। আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি তিনি। তিনি জানেন, তার সমাপ্তি মানে একটি দেশের অগ্রগতি ও প্রগতির সমাপ্তি। তাই তিনি শত ঝুঁকি নিয়েও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে।

পরবর্তী প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে জনগণের বহুধাবিভক্তি কমিয়ে আনার সময় এখন। পরমত-অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পেশাজীবীদের মাঝে, ছাত্র-শ্রমিক-কৃষকদের মাঝে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংগঠন-করা বন্ধ করতে হবে। নিজস্ব দাবিদাওয়া সম্বলিত সংগঠন থাকলেও এরা যেন নির্দিষ্ট কোনো দলের হয়ে অপব্যবহৃত না হয়। সবার পটেনশিয়ালিটি দিয়েই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশকে কয়েকটি অঞ্চলে বিভক্ত করে ক্ষমতা ও উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবেÑপ্রয়োজনে প্রাদেশিক সরকারব্যবস্থা করতে হবে। সব সেক্টরে টেকসই উন্নয়নের জোরদার এক প্রবাহ সৃষ্টি করতে হবে। সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হবে। আমরা পারবো, বাংলাদেশ পারবে, বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবÑএই বিশ্বাস প্রতিটি নাগরিকের মনে যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৃষ্টি হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করতে হবেÑনতুন হাইওয়ে-ব্রিজ নির্মাণ, বিদ্যমান হাইওয়েগুলোর প্রশস্তকরণ, বড় সিটিতে মেট্রোরেল নির্মাণ, রেল-এর আধুনিকায়ন, আকাশপথ, জলপথ সহজলভ্য করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের মনে যেন নিজের, পরিবারের ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ভয় না থাকে। আইনের সুষম প্রয়োগ করতে হবে, টানতে হবে দুর্নীতির লাগাম, অর্থ-পাচার বন্ধ করতে হবে। নিজ দেশের টাকা যেন বিনিয়োগহীন অলস পড়ে না থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। সব সিদ্ধান্ত-গ্রহণ শুধু প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক না থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। সব সেক্টরে থাকতে হবে নির্লোভ, পরিশ্রমী, সৎ ও সাহসী এক একজন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার পরেও তাঁর আদর্শকে তাঁর মতো করে ধারণ করার অসংখ্য প্রতিনিধি যেন থাকে। দেশ পরিচালনার জন্য চাই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী এক ‘মেকানিজম’। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতিকে দেশ পরিচালনার কাক্সিক্ষত সেই ‘মেকানিজম’ উপহার দিয়ে যেতে পারবেন বলেই আমার বিশ্বাস। তাঁর জন্মদিন শুভ হোক। লেখক : চিকিৎসক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত