প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] খুলনায় করোনা টেস্টের আড়াই কোটি টাকা নিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট লাপাত্তা

শরীফা খাতুন : [২] বিদেশগামীদের করোনার নমুনা পরীক্ষার প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত করে আত্মগোপন করেছেন খুলনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমার দাশ।

[৩] বিষয়টি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় খুলনা সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

[৪] সিভিল সার্জন জানান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাশ নমুনা পরীক্ষার ফি গ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি ল্যাব ইনচার্জেরও দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তিনি ২০২০ সালের ২ জুলাই থেকে প্রতিদিন যতজন পরীক্ষা করাতেন, তার চেয়ে কম সংখ্যক মানুষের নাম খাতায় লিপিবদ্ধ করতেন। বাকি টাকা আত্মসাত করতেন। প্রকাশ যে তালিকা দিতেন সে অনুযায়ী ক্যাশিয়ার টাকা বুঝে নিয়ে ব্যাংকে জমা দিতেন।

[৫] তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তাদের সন্দেহ হওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চিঠি দিয়ে প্রকাশের কাছে লিখিত হিসাব চাওয়া হয়। প্রকাশ কুমার বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা করে সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। এরপর চলতি বছরের ২২ আগস্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ১৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, যে পরিমাণ টাকা জমা হওয়ার কথা ছিল তার চেয়ে ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কম জমা দিয়েছে।

[৬] তদন্ত কমিটি মৌখিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসা করলে প্রকাশ কুমার হিসাবে গড়মিল রয়েছে বলে স্বীকার করে। এরপর তাকে শোকজ করা হয় এবং লিখিতভাবে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

[৭] গত বৃহস্পতিবার তার হিসাব ও টাকা জমা দেওয়ার শেষ দিন ধার্য্য ছিলো। বৃহস্পতিবার দুপুরে অফিসে বসে হিসাব করার একপর্যায়ে প্রকাশ কুমার কাউকে কিছু না জানিয়ে অফিস থেকে দ্রুত চলে যান। এরপর থেকে তিনি আর অফিসে আসেন না। তাকে দ্বিতীয়বার শোকজ করে তার বাসার ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়। তার বাসায় লোক পাঠিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

[৮] সিভিল সার্জন জানান, আত্মসাত করা টাকার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আইনজীবীকে দিয়ে মামলার এজাহার লেখানো হচ্ছে, লেখা শেষ হলে খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

[৯] সিভিল সার্জন আরও জানান, প্রকাশ কুমার যেনো দেশত্যাগ করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

[১০] তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সিভিল সার্জন জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ ছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ