প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি বিরোধী দলগুলোর, সরকার বলছে, মুহূর্তে আইন তৈরির সুযোগ নেই

মহসীন কবির: [২] বর্তমানে ইসি গঠনে প্রচলিত বিধিও আইনসম্মত। আইন মেনেই সার্চ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে ইসি নিয়োগকে আইনসিদ্ধ অভিহিত করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, এবারও সার্চ কমিটি গঠনসহ সব রকম গ্রহণযোগ্য পন্থায় নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

[৩] বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে পরিষ্কার বলা আছেÑ ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক ৪ জন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে বাংলাদেশে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। উক্ত বিষয়ে প্রণীত আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনকে এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করবেন।’ তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আইন থাকতেই হবে এবং সেই আইনের ভিত্তিতেই কেবল নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব। নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে আর কোনো অপশন রাখা হয়নি।

[৪]  আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল হক বলেন, আমাদের সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দেয়ার জন্য আইন করার কথা বলা আছে। কিন্তু ইসি গঠনের আইনটি সরকার এখনও করতে পারেনি। আমরা অবশ্য আইন করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে আইন করে ইসি গঠনের মতো পর্যাপ্ত সময় সরকারের হাতে নেই।

[৫] আইনমন্ত্রী আরও বলেন, যেহেতু আমাদের আইন নেই, তাই ইসি গঠনে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করে থাকেন। এটাও আইনসিদ্ধ। বাংলা ট্রিবিউন

[৬] আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, সার্চ কমিটিও আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়ে আসছে। এই পদ্ধতিটা আইনে পরিণত হতে পারে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে সরকার। আইন মেনে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশে কমিশন নিয়োগ দেয়া হয়। এটি সংবিধান সম্মত।

[৭] সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করতে সুনির্দিষ্ট আইন থাকা জরুরি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ। দলটি মনে করছে, বর্তমানে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, গণতন্ত্র ও সুশাসনের অভাব। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে।

[৮] নির্বাচন কমিশন গঠন করতে সরকারকে আইন প্রণয়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন ৫২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক অধ্যাপক বদিউল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে “আইনের বিধানাবলি-সাপেক্ষে” নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও, গত ৫০ বছরে কোনও সরকারই এমন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।’

[৯]  জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও নির্বাচন কমিশন গঠনে দেশে একটি আইন নেই, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সময়ের আলো

[১০] প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সাড়ে চার মাস মেয়াদ রয়েছে। তাদের মেয়াদ পূরণের পর নতুন ইসির জন্য আগামী জানুয়ারি মাসে সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির বাছাই করা নামের তালিকা থেকেই সাংবিধানিক সংস্থা ইসিতে দায়িত্ব নেবেন নতুন ব্যক্তিরা, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন।

সর্বশেষ