প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাহাজে পরিবহন ভাড়া তিন গুণ আকাশপথে দ্বিগুণ বেড়েছে, বিপাকে রপ্তানিকারকরা

ইত্তেফাক: সমুদ্র ও আকাশপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সমুদ্রপথে কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ভাড়া বেড়ে হয়েছে তিন গুণ। আর আকাশপথে এটি দ্বিগুণ। মূলত হঠাত্ করে রপ্তানি-কনটেইনারের চাহিদা বেড়ে যাওয়াই এ ভাড়া বৃদ্ধির কারণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্লাইটের ঘাটতি থাকায় বাড়তি দাম দিয়েও অনেক সময় পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না। আবার কনটেইনারেরও তীব্র সংকট রয়েছে।

রপ্তানিকারক এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার আগে ইউরোপে ২০ ফিটের একটি কনটেইনারে পণ্য রপ্তানির খরচ ছিল ১ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার (১ লাখ ২ হাজার টাকা)। কিন্তু বর্তমানে একই কনটেইনার রপ্তানিতে ব্যয় হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ লাখ টাকা)। অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরগুলোতে একটি ২০ ফিটের কনটেইনার রপ্তানিতে খরচ হতো ২ হাজার মার্কিন ডলার (১ লাখ ৭০ হাজার টাকা)। বর্তমানে এটি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার মার্কিন ডলারে (৫ লাখ টাকার বেশি)।

একই অবস্থা আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে। আগে আকাশপথে প্রতি কেজি পণ্য রপ্তানিকারকরা দুই থেকে আড়াই মার্কিন ডলারে বিদেশে পাঠাতেন। এখন সেটি পাঠাতে খরচ হচ্ছে পাঁচ মার্কিন ডলার। মূলত পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন। একজন রপ্তানিকারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, কয়েক দিন আগে তিনি ইউরোপে ৫৮ কেজি পণ্য পাঠিয়েছেন এয়ার কার্গোতে। এতে তার খরচ হয়েছে ৬২ হাজার মার্কিন ডলার (সাড়ে ৫ লাখ টাকা)। নিয়মিত ফ্লাইট না থাকার কারণে অনেকে চার্টার্ড করে বাংলাদেশে ফ্লাইট এনে তা দিয়ে পণ্য রপ্তানি করছেন। আকাশপথে পণ্য রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সুবিধা একেবারেই নেই বললেই চলে। কার্গো ভিলেজে পণ্য রাখা নিয়ে জটিলতা তো রয়েছেই। সঙ্গে সঙ্গে একটি স্ক্যানার মেশিন দীর্ঘদিন নষ্ট থাকার কারণে এখানে সবসময় লম্বা লাইন লেগেই থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, পণ্য না নিয়েই বিমান উড়াল দিয়েছে। এ অবস্থা নিরসনে কার্গো ভিলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দিলেও সুরাহা হয়নি।

রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, করোনা মহামারির কারণে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে পণ্য রপ্তানি একবারেই বন্ধ ছিল। করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ার পর সেসব দেশে রপ্তানি অনেক বেড়েছে। ঐসব দেশে যেসব দোকান বন্ধ ছিল সেসব এখন খুলছে। ক্রেতারা রপ্তানিকারকদের থেকে দ্রুত পণ্য চাইছেন। যে কারণে পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়েছে। অনেকে দ্রুত পণ্য পেতে আকাশ পথে পণ্য পাঠানোর তাগিদ দিচ্ছেন। যে কারণে কার্গো ভিলেজে পণ্যের জট লেগে আছে।

কিন্তু কনটেইনার পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? এ প্রশ্নের জবাবে শিপিং এজেন্টের কর্মকর্তারা বলছেন, কনটেইনারের ভাড়া নির্ভর করে ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ের ওপর। এখন বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য বাইরে রপ্তানি হচ্ছে, সে পরিমাণ পণ্য বাংলাদেশে আমদানি হচ্ছে না। এতে এখানে কনটেইনারের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে। আমদানি এবং রপ্তানি একটি ব্যালেন্স (সমতা) আসলে ভাড়াও কমে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতি দিন ৫০০ টনের মতো পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত আগস্ট মাসে ৬৫ হাজার কনটেইনার পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত মোট ৫৪ হাজার কনটেইনার পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

 

সর্বাধিক পঠিত