প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনুপম দেব কানুনজ্ঞ: আসছে বছরগুলোতে এঙ্গেলা মের্কেলের অভাব নিঃসন্দেহে অনুভব করবে, জার্মানি ও বিশ্ব

অনুপম দেব কানুনজ্ঞ: টানা চারবার নির্বাচনে জিতে জার্মান চ্যান্সেলর ছিলেন এঙ্গেলা মের্কেল। ১৬ বছর পর মের্কেলবিহীন বুন্ডেসটাগ বা ফেডারেল পার্লামেন্ট নির্বাচন দেখলো জার্মানরা। এই ১৬ বছরে ম্যার্কেল কাজ করেছেন আট জাপানি প্রধানমন্ত্রী, সাত ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী, ছয় অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী, পাঁচ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং চার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। এই সময়ে ইউরোপ ও জার্মানির নানা সংকটের পাশাপাশি শরণার্থী সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ইত্যাদি নানা সংকটেও জার্মানিকে সাফল্যের সঙ্গে শক্ত অবস্থানে ধরে রেখেছিলেন তিনি। সমকামী বিয়ের আইন পাস, পরমাণু বিদ্যুৎ থেকে সরে আসা ইত্যাদি নানা বিতর্কিত ইস্যুতে অনেকের বিপক্ষে গিয়েও শক্ত ভূমিকা রেখেছেন ম্যার্কেল। পাশাপাশি রাশিয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান না নিয়ে মধ্যপন্থি অবস্থান নেওয়ায় তার সমালোচনাও করেন অনেকে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য, কেবল জার্মানিতে নয়, বিশ্বনেতাদের মধ্যেও ম্যার্কেল ছিলেন একজন আস্থার প্রতীক।

রাজনীতি শুরুতে তার ডাকনাম ছিলো ‘das Mädchen’ বা বালিকা। কিন্তু দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এতোটাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি, যে এখন জার্মানরা অনেকেই ম্যার্কেলকে আদর করে ডাকেন ‘Mutti’ বা মা। ম্যার্কেলই জার্মানির প্রথম চ্যান্সেলর যিনি কোনো ধরনের বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই নিজে থেকে সরে দাঁড়ালেন। জার্মান রাজনীতিতে ম্যার্কেলের এখনও এতটাই প্রভাব, চ্যান্সেলর পদে এবার বিভিন্ন দলের যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারাও তার নীতি থেকে খুব বেশি বাইরে না যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। হাঙ্গেরি, পোল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উগ্র ডানপন্থার উত্থান ঘটে চলেছে। জার্মানিতেও নব্যনাৎসিরা প্রকাশ্যে আসার সাহস দেখাচ্ছে। আসছে বছরগুলোতে ম্যার্কেলের অভাব নিঃসন্দেহে অনুভব করবে জার্মানি ও বিশ্ব। Tschüs! Auf Wiedersehen, Frau Bundeskanzlerin. অনুতর্ক। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ