প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিফুল হাসান: দায়িত্ব পালনে কতোটা অনঢ় ছিলেন, প্রমাণ করে গেলেন এএসআই পেয়ারুল ইসলাম

শরিফুল হাসান: পুলিশের সহকর্মীদের নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গিয়েছিলেন রংপুরের হারাগাছ থানার এএসআই পেয়ারুল ইসলাম। ঝুঁকি নিয়ে জাপটে ধরেছিলেনও। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ী ছুরিকাঘাতে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে। তবু মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়েননি পেয়ারুল। পরে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিলে প্রাণ হারান। আসলে দায়িত্বে পালনে কতোটা অনড় ছিলেন জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পেয়ারুল ইসলামের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্রপাড়া গ্রামে। বাবা আব্দুর রহমান চন্দ্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ২০১১ সালের ১৫ জানুয়ারি পুলিশে যোগ দেওয়া কনস্টেবল পেয়ারুল ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে এএসআই হন। হারাগাছ থানায় যোগ দিয়ে একাধিক অভিযানে মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হারাগাছ থানার ওসি শওকত হোসেন বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে তিন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে নগরীর বাহার কাছনা এলাকায় যান পেয়ারুল। সেখান থেকে মাদক ব্যবসায়ী পলাশকে ১৫১ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। এ সময় দৌঁড়ে পালাতে যায় পলাশ। তার পেছনে দৌঁড় দেন পেয়ারুল। অনেক দূর গিয়ে জাপটে ধরেন। তখন পেয়ারুলের সঙ্গীরা পেছনে পড়ে যান। এ সুযোগে পেয়ারুলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে পলাশ। ছুরিকাঘাতে পাঁজরে রক্তক্ষরণ হলেও পলাশকে ছাড়েননি। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। একপর্যায়ে সঙ্গী ও স্থানীয়রা এসে পেয়ারুলকে উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে পলাশকে আটক করে পুলিশ। অবস্থার অবনতি হলে পেয়ারুলকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

রংপুরে পুলিশের এএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এক কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন, পেয়ারুল অত্যন্ত সাহসী, দক্ষ, যোগ্য, সৎ, নিষ্ঠাবান ও পেশাদার পুলিশ অফিসার ছিলেন। ওই এএসপি লিখেছেন, পেয়ারুল ইসলামকে দিয়ে আমি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করিয়ে ছিলাম। যে কাজগুলো সারা দেশে আলোড়ন তৈরি করেছিলো। তন্মধ্যে কয়েকটি ছিলো গোবিন্দগঞ্জ থেকে জিনের বাদশা চক্র গ্রেপ্তার, রংপুর শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে দুইজন সরকারি কর্মচারীসহ সরকারি ওষুধ চোরাচালান চক্রসহ বেশ কিছু অভিযানের কথা লিখেছেন। পুলিশের সহকর্মীরা বলছেন, অপরাধীদের সঙ্গে কখনোই আপস করতেন না পেয়ারুল। অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তার অনড় ও অবিচল অবস্থানের কারণে জনগণ ও পুলিশের মাঝে সে খুব জনপ্রিয় ছিলো। পুরো রংপুর মহানগরী জুড়েই তার ব্যাপক সুনাম ও সুখ্যাতি ছিলো। আমরা সিনেমা ও নাটকে নায়ককে দেখি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। এসআই পিয়ারুল তেমনি বাস্তব জীবনের একজন নায়ক ছিলেন। পরম করুনাময় আল্লাহ পেয়ারুল ইসলামকে জান্নাতবাসি করুক। আশা করছি তার কাছ থেকে পুলিশের কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলতা শিখবে। এমন একজন সত্যিকারের পুলিশকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকের সকালটা শুরু করছি। শুভ সকাল সবাইকে। শুভ সকাল বাংলাদেশ। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত