প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিপর্যয় থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করেছে আবাসন খাত: কামাল মাহমুদ, সহ-সভাপতি, রিহ্যাব

সুজিৎ নন্দী: [২] রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সহ-সভাপতি ও স্কাইরোজ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল মাহমুদ বলেছেন, করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্যের সব খাতেই বিপর্যয় নেমে আসলেও আবাসন খাত সেই বিপর্যয় থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করেছে।

[৩] তিনি বলেন, গত বছরের প্রথম নয় মাসে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো যে ব্যবসা করেছে, এখন পর্যন্ত এ বছর একই সময়ে তার চেয়ে বেশি বিক্রি বেড়েছে। ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় কিছুটা কমানো হয়েছে। এগুলো সরকারের কাছে আমাদের দাবী ছিলো।

[৪] রিহ্যাব সহ-সভাপতি কামাল মাহমুদ বলেন, আবাসন খাতে অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা সুযোগ দেয় সরকার। ব্যাংক ঋণের সুদের হারও কমেছে। প্রবাসীরাও বিনিয়োগ করছেন। সব মিলিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি বেড়েছে। দিনের পর দিন আবাসন খাত চাঙ্গা হচ্ছে। শুধু এই খাত নয়, পুরো অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অবস্থায় বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় প্রচুর অর্থ আমাদের অর্থনীতিতে যুক্ত হবে। এ সবই রিহ্যাবের দাবী ছিলো।

[৫] কামাল মাহমুদ আরো বলেন, আবাসন খাত চাঙ্গা হওয়ার সঙ্গে জড়িত রড, সিমেন্ট, ইট, বালুসহ ২১১টি নির্মাণ উপখাতের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে। এতে করে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। ফ্ল্যাট নিবন্ধনে আগে ৪ শতাংশ গেইন ট্যাক্স, ৩ শতাংশ স্ট্যাম্প ফি, ২ শতাংশ নিবন্ধন ফি, ২ শতাংশ স্থানীয় সরকার কর ও ৩ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দিতে হতো। এখন স্ট্যাম্প ফি কমিয়ে দেড় শতাংশ, নিবন্ধন ফি ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর দেড় শতাংশ এবং ১ হাজার ৬শ’ বর্গফুট পর্যন্ত ভ্যাট ২ শতাংশ করা হয়েছে। তবে গেইন ট্যাক্স পূর্বেও অবস্থায় আছে।

[৬] রিহ্যাব সহ-সভাপতি কামাল মাহমুদ বলেন, প্রতিটি মানুষের যথোপযুক্ত বাসস্থান পাওয়ার অধিকার জাতিসংঘের ঘোষণা থেকেও প্রমাণিত। আমাদের সংবিধানও বাসস্থানকে মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নিজের একটা বাসস্থান মানুষের স্থিতিশীলতা, আত্মমর্যাদা এবং ব্যক্তিত্বকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশে জমির তুলনায় জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে বাসস্থানের সংকট প্রকট।

[৭] তিনি আরো বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে খুব কম সংখ্যক নাগরিকের পক্ষেই এক কালীন মূল্যে ফ্ল্যাট বা বাসস্থানের সংকলন করা সম্ভব। একটি তহবিল গঠন করে দীর্ঘ মেয়াদী কিস্তির মাধ্যমে এবং সুদের হার কমানো গেলে অন্তত স্বল্প এবং মধ্যবিত্তের মাথা গোজার ঠাঁই হবে। এটা বাস্তবায়ন হলে নাগরিকের যেমন মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে, তেমনি সংকটে থাকা আবাসন শিল্পের একটা গতি আসবে।

[৮] কামাল মাহমুদ বলেন, আবাসন শিল্প গতি ফিরে পেলে সরকার লাভবান হবে। এই খাত থেকে সরকারের রাজস্বের পরিমাণ বাড়বে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাংক এনএইচবি সে দেশে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে হাউজিং সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদের আরেক প্রতিবেশী মায়ানমার মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ সুদে হাউজিং ঋণ দিয়ে থাকে।

[৯] নিজের প্রতিষ্ঠান স্কাইরোজ বিল্ডার্স লিমিটেড প্রসঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল মাহমুদ বলেন, সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আবাসন সমস্যা সমাধানে বেসরকারি পর্যায়ে যে কোম্পানি সততা-সচ্ছতা এবং আইন কানুন ভালভাবে মেনে এই শিল্পের উন্নয়ন কাজে দক্ষতার সাথে কাজ করে আসছে তাদের মধ্যে আমার প্রতিষ্ঠান অবস্থান অনেক উপরে। নিজস্ব মেধা ও শ্রম দিয়ে স্কাইরোজ বিল্ডার্সকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

[১০] কামাল মাহমুদ বলেন, সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে আগামী ৫ বছর ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি আমরা। মধ্যবিত্ত এবং নিন্মবিত্তদের জন্য ভাড়ার টাকায় মাথা গোঁজার ঠাই নিশ্চিত করতে একটি তহবিল অবশ্যই গঠন করতে হবে। আমরা চাই দেশের টাকা দেশে থাকুক। দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধি হোক। কাজেই এই অপ্রদর্শিত অর্থের বিষয়ে সরকারকে সুচিন্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

[১১] রিহ্যাব সহ-সভাপতি কামাল মাহমুদ বলেন, আমাদের আবাসন খাতে আরো একটি সমস্যা হল উচ্চ ব্যাংক সুদ এবং সরকারি কোন তহবিল না থাকা। আবাসন শিল্প রক্ষার্থে অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক রি-ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। যাতে ক্রেতা সাধারণ চাহিদামত ঢাকা শহরের আশে-পাশে বা মিউনিসিপ্যাল এলাকার পার্শ্বে ১৫শ’ বর্গফুট বা তার চেয়ে ছোট ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ গ্রহণ করতে সক্ষম হন।

[১২] তিনি আরো বলেন, এই ক্ষেত্রে ডিবিএইচ, আইডিএলসি, ন্যাশনাল হাউজিং এর মত অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের মাধ্যমে সহজ শর্তে গৃহ ঋণ বিতরন করা যেতে পারে। এছাড়া সরকার চাইলে ফ্ল্যাটের সাইজের উপর ভিত্তি করে দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ ও স্বল্প সুদের হার নির্ধারণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা অতীব জরুরি।

সর্বাধিক পঠিত