প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেড় বছর পর আবারো শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখরিত হবে জবি

অপূর্ব চৌধুরী: [২] বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপে আকস্মিকভাবেই থমকে যায় বিশ্ব। গত বছরের মার্চে এদেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়। দেশের সবচেয়ে মুখরিত প্রাঙ্গন হিসেবে খ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় ১৭ মার্চ। এরপর বাড়তে থাকে করোনার সংক্রমণ। খোলেনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও (জবি) একই ধারাবাহিকতায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ।

[৩] পুরান ঢাকার হাজারো বিল্ডিং-স্থাপনার মধ্যেও এক টুকরো সবুজ প্রকৃতির মধ্যেই গড়ে উঠেছে সময়ের অন্যতম সেরা এই বিদ্যাপীঠ। স্বাভাবিক অবস্থায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণার মধ্য দিয়ে শুরু হত সকালটা। লাল বাসে ক্যাম্পাসে আসা, শান্তচত্বরে বসে আড্ডা দেওয়া, সময়মতো ক্লাসে যাওয়ার চিন্তা, বিভাগের করিডোরে গ্রুপ স্টাডি কিংবা ক্লাস শেষে আবারও প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে উঠার চিত্রে নিয়মিতই শিক্ষার্থীদের দেখা যেত।

[৪] ক্লাস-পরীক্ষা শেষে আবারো আড্ডা,গান ও সুরের তালে জ্যাম ঠেলে লাল বাসে করেই বাসায় ফেরার জন্য একটি অন্যরকম আগ্রহ কাজ করত তাদের মধ্যে। মাত্র ৭ একরের জবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের এই প্রাণোচ্ছলতার চিত্রই যেন সবচেয়ে নান্দনিক ।

[৫] মহামারীর থাবায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই প্রাণোচ্ছলতার চিত্রই যেন হারিয়ে গেছে। নিস্তব্ধতায় ঘেরা এই জবি ক্যাম্পাস যেন বড়ই অপরিচিত ছিল।

[৬] তবে দীর্ঘসময় পর আবারো আগের রূপে ফিরতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। গত ৭ই সেপ্টেম্বর উপাচার্যের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের এক বৈঠকে আগামী ৭অক্টোবর থেকে সশরীরে সেমিস্টার পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মূলত এই সিদ্ধান্তের পরপরই শিক্ষার্থীদের মনে আবারও সেই পুরনো রঙিন স্মৃতি ভেসে বেড়াচ্ছে।

[৭] দীর্ঘ সময় পর আবারো সহপাঠী, শিক্ষকদের সাথে দেখা করার সুযোগ ঘিরে শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত। এরই অংশ হিসেবে গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। অধিকাংশই আবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশে পাশেই মেস-বাসা খুঁজছে।

[৮] এদিকে দেড় বছর পর আবারো শিক্ষার্থীদের বরণ করতে সব প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যারই অংশ হিসেবে পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে স্বল্পমূল্যে অধিক খাবার আইটেমের ব্যবস্থা করে ক্যান্টিন খুলে দেওয়া সহ আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতিই নেওয়া হচ্ছে।

[৯] দীর্ঘ সময় পর আবারো সমবেত হওয়ার আগেই নানা রকম স্মৃতিচারণ ও পরিকল্পনা করছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকে আবার প্রত্যাশা করছেন পরীক্ষা উপলক্ষে খোলা হলেও আর বন্ধ হবেনা একাডেমিক কার্যক্রম। আবার অনেকে প্রত্যাশা করছেন পৃথিবী থেকে অতি দ্রুতই চলে যাবে মহামারি করোনা ভাইরাস। তাহলে আর তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আলাদা হতে হবেনা।

[১০] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অমৃতা বিশ্বাস রিয়া। দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে আবারও সহপাঠীদের সাথে দেখা হবে বলে উচ্ছ্বসিত এই শিক্ষার্থী বলেন, “আয় আরেকটি বার আয় রে সখা প্রাণের মাঝে আয় মোরা সুখের দুখের কথা কব প্রাণ জুড়াবে তায়”। মহামারীতে ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ি এসেছি। তারপর আর ফিরে যাওয়া হয়নি। দীর্ঘ দিন প্রিয় ক্যাম্পাস, প্রিয় বন্ধু এবং প্রিয় শিক্ষকদের সাথে দেখা হয় নি। করোনা দিন দিন বেড়েই চলেছিল এবং আমরা শঙ্কিত অবস্থায় দিন পার করেছি। ভেবেছি আদৌও ফিরতে পারব কি না প্রাণের বিদ্যাপীঠে।

[১১] এই শিক্ষার্থী বলেন, সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় মহামারীর প্রকোপ অনেকটা কমে এসেছে। টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের। ১৭ মাস পর স্কুল কলেজ খুলে দিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়েও পরীক্ষার তারিখ দিয়েছে। পরীক্ষা শুরুর মাধ্যমে আবারো বিশ্ববিদ্যালয় ফিরে পাবে তার চিরচেনা রূপ।শান্তচত্ত্বর, কাঁঠালতলা, বিবিএ বিল্ডিং আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হবে। দেখা হবে প্রিয় শিক্ষকদের সাথে। খুবই উচ্ছ্বসিত আমি!

[১২] ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ রাফসান জামিল রাজু তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পাস লাইফ মানেই আরেকটি পরিবার। যেখানে প্রায় প্রতিদিনই এই পরিবারের সদস্যের সাথে দেখা হয়। ক্লাস, মিড, আড্ডা, বন্ধুদের সাথে হ্যাং আউট সবমিলিয়ে ক্যাম্পাস লাইফ ভালোই যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করোনা মহামারীর প্রভাবে সরকারী নির্দেশনায় বন্ধ হয়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।ধীরে ধীরে যখন এই বন্ধের সময়টা বাড়তে থাকলো তখন থেকেই মিস করা শুরু হলো ক্যাম্পাস লাইফ।

[১৩] এই শিক্ষার্থী বলেন, অবশেষে প্রায় দেড় বছর পর ক্যাম্পাস খুলছে। এর অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এটা ভেবেই খুশি লাগছে যে আবার লাল বাসের গেটে দাঁড়িয়ে গান গাইব, সিনিয়রদের থেকে ট্রিট নেওয়া, ক্লাস করা, আড্ডা দেওয়া সব হবে। শিক্ষার্থীহীন ক্যাম্পাস যেনো ফিরে পাবে নতুন প্রাণ। সুস্থ শহরে এবং সুস্থ ক্যাম্পাসে আবার সবাই একত্রিত হয়ে হাসি খুশি থাকবো। সকলের পাশাপাশি থাকবো এটাই প্রত্যাশা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত