প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভুল চিকিৎসায় ৯ মাসের শিশুর মৃত্যু, ডাক্তার গ্রেপ্তার

মো. সাগর আকন: [২] ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় ৯ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বরগুনায়। অভিযুক্ত ওই ডাক্তার মাসুম বিল্লাহকে শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

[৩] শিশুটির পরিবারসূত্রে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নং ইউনিয়নের চালিতাতলী গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে ইয়ামিন (৯ মাস) জ্বর ও সর্দি কাশি জনিত অসুস্থ হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য সাইদুলের স্ত্রী ও মা বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে শিশু চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসক মাসুৃম বিল্লাহ তখন শিশুটিকে দেখে জরুরী ভিত্তিতে বিভিন্ন টেষ্ট করানাের জন্য বলে।

[৪] পরে চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ টেস্টের রিপাের্ট দেখে বলে, শিশু ইয়ামিনের হার্টে সমস্যা আছে। ওই চিকিৎসক শিশুটিকে এক দিন পর পর নিজের চেম্বারে এসে ৪টি ইঞ্জেকশন করানাের কথা বলে। এবং গত রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে নিজ হাতে একটি ইঞ্জেকশন করে দেয় এবং বাসায় নিয়ে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ সেবন করানাে কথা বলে ওই চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ । ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। তারপর রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ওই চিকিৎসকের পরামর্শ মত ঔষদ সেবনের পর পরই খিচুনি দিয়ে শিশুটি মারা যায়।

[৫] শিশুটির বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিশু ডাক্তার মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যাই। রোববার বিকেলে ডাক্তার আমার ছেলেকে একটি ইঞ্জেকশন দেয় এবং বলে বাসায় নিয়ে গিয়ে পেসক্রিপশন মত অষুধ খাওয়াতে। তার কথা মতন তার লেখা ওষুধ ইয়ামিনকে খাওয়ানোর সাথে সাথেই ইয়ামিনের পেট ফুলে-ফেপে ওঠে। ইয়ামিন নিস্তেজ হয়ে পরে। কিছুক্ষণ পর আমার ৯ মাসের ছেলে ইয়ামিন খিচুনি দিয়ে মারা যায়।

[৬] তিনি আরও বলেন, আমি বিষয়টি আমার আত্মীয় স্বজন সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে জানিয়ে আমার সন্তানের মরদেহ দাফন করি। আমার শিশু সন্তান মাসুম বিল্লাহর অপচিকিৎসায় মারা গেছে। আমি এবং আমার পরিবার ওই ঘাতক ডাক্তারের বিচার চাই।

[৭] অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান বলেন, ভুল চিকিৎসায় ৯ মাসের শিশু ইয়ামিনের মৃত্যু অভিযোগে গতকাল রাতে মাসুম বিল্লাহ নামে এক গ্রাম্য চিকিৎসককে টাউন হল এলাকা থেকে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। দুপুরের পর ওই ডাক্তারকে আদালতের মাধ্যম জেল হাজতে পাঠানো হবে।

সর্বাধিক পঠিত