প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৬৭ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা

সুজন কৈরী :[২] বৃহস্পতিবার ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার কায়সারের নেতৃত্বে একটি দল প্রতিষ্ঠানটির ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্তকালে গ্রামীন ব্যাংকের এই অনিয়ম বের হয়।

[৩] রাজধানীর মিরপুরের ২ নম্বর সেকশনে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সেবার কোড এস ০৫৬ এর আওতায় ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। কিন্তু ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি এখনো নিবন্ধন গ্রহণ করেনি। মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ এর ধারা ১৫ এর উপধারা (১) অনুযায়ী করযোগ্য পণ্যের সরবরাহকারী বা করযোগ্য সেবাদানকারীকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

[৪] ভ্যাট গোয়েন্দা জানিয়েছে, তদন্তকালে প্রতিষ্ঠানটি সি.এ. ফার্মের প্রত্যায়িত বার্ষিক অডিট প্রতিবেদন এবং প্রতিষ্ঠানের দাখিলকৃত অন্যান্য দলিলাদি আড়াআড়ি পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত চলাকালীন প্রতিষ্ঠানের একাধিকবার আত্মপক্ষ সমর্থনে বিভিন্ন তথ্যাদি ও বক্তব্য আমলে নেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে প্রদত্ত বিভিন্ন সেবা থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৯১০টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৯০টাকা উৎঘাটন করা হয়। ভ্যাটযোগ্য প্রদত্ত সেবা থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে এই অপরিশোধিত ভ্যাটের উপর ভ্যাট আইন অনুযায়ী ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২শতাংশ হারে ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৬টাকা সুদ প্রযোজ্য হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে উৎসে ভ্যাট বাবদ ৮ কাটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ৮১৯টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির উৎসে কর্তন বাবদ প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ২৩ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার ৭৪ টাকা। এতে অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ১৫ কোটি ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৬টাকা উদঘাটন করা হয়। এই অপরিশোধিত ভ্যাটের উপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর/ পর্যন্ত মাসিক ২শতাংশ হারে ৭ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৭ টাকা সুদ প্রযোজ্য হবে।

[৫] ওই মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির মোট অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ৪৫ কোটি ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯৪৬ টাকা এবং সুদ বাবদ ২১ কোটি ২৩ লাখ ২২ হাজার ৬৮৩টাকাসহ মোট ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬২৯ টাকা ভ্যাট পরিহারের তথ্য উদঘাটিত হয়। এই টাকা সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে আদায়যোগ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দা আরও জানিয়েছে, উদঘাটিত পরিহারকৃত রাজস্ব আদায়ের আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও অনিয়ম মামলা সংশ্লিষ্ট ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যাতে প্রতি মাসের সকল আয় ও ক্রয়ের তথ্য অনুযায়ী প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধ করে তা মনিটরিংয়ের জন্যও সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

[৬] অন্যদিকে গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠানটিকে অতি সত্ত্বর ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়ার জন্য এবং তাদের মাসিক রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত