প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‘সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমলে মধ্যবিত্ত কোথায় যাবে’

ভূঁইয়া আশিক রহমান : [২] বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সরকারের বহু কাজে ব্যয় বাড়ছে। হরেক রকম অপচয় ও দুর্নীতি হচ্ছে। একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা বাড়ছে, অপরদিকে সাধারণ মানুষের নির্ভরতার জায়গা সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া রিটার্নের কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয়।

[৩] সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা মানুষগুলোই সরকারকে ট্যাক্স ও নানান রকম ফি দিচ্ছে, সরকারের ব্যয়ভার তারাই বহন করে। ফলে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার যুক্তিতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমিয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমে গেলে মানুষ হতাশ হবে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমালে মধ্যবিত্ত কোথায় যাবে। এই মানুষগুলোর অনেকে হয়তো শেয়ারবাজারে যাবেন। তাদের জোর করে শেয়ারবাজারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে না তো? শেয়ারবাজারে গেলে তো কষ্টের টাকাগুলো হারাবে।

[৪] সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, মুনাফা বেশি থাকায় মানুষ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে ঝুঁকছিলো। প্রতি বছরই বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় তার চেয়েও বেশি বিক্রি হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সরকারের সুদের দায় অনেক বেড়ে গেছে। এতে সরকারের অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি বা উন্নয়নমূলক কাজের রিসোর্স প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। সে বিবেচনায় সুদের হার তিনস্তর নির্ধারণ করেছে। এটা ঠিকই আছে।

[৫] ১৫ লাখ টাকার নিচে যাদের বিনিয়োগ তাদের মুনাফা কমানো হয়নি। ফলে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তের জন্য ক্ষতিকর কিছু হবে না। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করলে অর্থটা সরকারের কাছে যায়। একদিকে সরকারের কাছে অর্থ আসে, অপর দিকে সুদের হার ক্রমশই বাড়ছে। কাজেই সঞ্চয়পত্রের সুদের হারের সঙ্গে বিনিয়োগের প্রত্যেক্ষ সম্পর্ক নেই।

[৬] সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ফলে শেয়ারবাজারে পুঁজি সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে দেখেশুনে বিনিয়োগ করতে হবে। ভালো কোম্পানি, কোম্পানির আর্নি পার শেয়ার, নেট এসেট ভ্যালু, ডিভিডেন্ড রেকর্ড কেমন, কোন সেক্টরের কোম্পানিÑসবকিছু বিবেচনায় নিয়েই বিনিয়োগ করতে হবে। এতে বিনিয়োগে ঝুঁকি কমবে।

[৭] রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির বলেন, কারও কারও মতে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য খারাপ হলো কিনা। আমার মতে, এটা কোনো প্রভাব ফেলবে না মধ্যবিত্তের ওপর। কারণ ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ হলেই কেবল সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কম হবে। ১৫ লাখ টাকার ওপরে যাদের বিনিয়োগ তারাই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

[৮] মানুষ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে। তাদের তো সরকারকে ইন্টারেস্ট দিতে হবে। টাকাও ফেরত দিতে হবে। কিন্তু সরকার তো জনগণের বিনিয়োগকৃত টাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ বিনিয়োগ করতে পারছে না বা বিনিয়োগ হচ্ছে না। ফলে সরকারকে সাবসিডি দিতে হচ্ছে। এই সাবসিডি দীর্ঘমেয়াদে বেড়ে যাবে। একটা সময় তা বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এই বোঝা পরবর্তী প্রজন্মকে দীর্ঘদিন ধরে বহন করতে হবে। সার্বিক দিক বিবেচনায়, সরকারি সিদ্ধান্ত ঠিক আছে বলেই মনে করি আমি।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত