প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনুপম দেব কানুনজ্ঞ : সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে পরীমণির পা দেখানোকে ছিঃ ছিঃ করা যায়, সোহেল তাজের শরীর দেখানো কী হবে?

অনুপম দেব কানুনজ্ঞ : পরীমনিকে নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এতো ঘনঘন আলোচনায় বোধ হয় আর কোনো তারকা আসেননি। তাই তাকে নিয়ে লিখতেও হচ্ছে ঘনঘন। নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘গুনিন’ ছবিতে রাবেয়া চরিত্রে অভিনয় করবেন পরীমনি। শুক্রবার রাতে এই চুক্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরীমনি অভিনীত একটি সিনেমাকেই আমার অভিনয়ের দিক থেকে মানসম্মত মনে হয়েছে। সেটি হচ্ছে স্বপ্নজাল। এই সিনেমাটিও সেলিমেরই পরিচালনা। ফলে এবারও ভালো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে সিগারেট হাতে উন্মুক্ত পা দেখিয়ে নিজের পেইজে ছবি দিয়েছেন পরীমনি। সঙ্গে ক্যাপশন দিয়েছিলেন, ‘সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’। এ নিয়ে হাজারো বাঙালির মতো হৃদয়ে চোট পেয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজও। তিনি নিজের ভেরিফায়েড পেইজ থেকে পরীমনির ছবিসহ একটি নিউজের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, একজন সেলেব্রিটির কাছ থেকে এরকম অশোভন আচরণ কাম্য নয়- আমাদের ছেলে মেয়েদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটা নিয়ে কিছু কথা বলতেই হয়। [১] প্রথমেই বলে নেই, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য আসলেই ক্ষতিকর। এই স্ট্যাটাসে আমিও এর সমর্থন করছি না, বরং এর কেবল প্রচারই নয়, উৎপাদন ও বিক্রিও নিষিদ্ধ করা উচিত বলেই মনে করি। কিন্তু তা কখনই করা হবে না। কারণ এর সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা জড়িত। এমনকি ভূটানের মতো দেশ, যেখানে কয়েকগুণ বেশি দামে সিগারেট নিতে হয়, সিগারেট বিক্রি ও ধূমপান নিষিদ্ধ, সে দেশেও সিগারেট মাদকের মতো লুকিয়ে বিক্রি হয়।

[২] বঙ্গবন্ধুর পাইপ টানার বিষয়টি একটা আইকনে পরিণত হয়েছে। সোহেল তাজ কি সে ছবি প্রচার নিয়ে আপত্তি তুলেছেন কখনও? বঙ্গবন্ধুকে ধূমপান করতে দেখে কি তার ছেলেমেয়েদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে? অতি অনুভূতিশীলদের জন্য বলে রাখি- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরীমনিকে মোটেও তুলনা করছি না। কাউকে ধূমপান করতে দেখলেই যে ছেলেমেয়েরা বিপথে চলে যায় না, সেটা বোঝাতে চাচ্ছি। পরীমনি যদি সেলেব্রিটি হন, বঙ্গবন্ধু তো লিজেন্ড। তাহলে তার প্রভাব মানুষের জীবনে বেশি পড়ার কথা না? অনেক শিশুকেই দেখি মুজিব কোট গায়ে মুজিবের চশমা চোখে তাকে অনুকরণের চেষ্টা করে। কখনও কোনো শিশুকে দেখিনি পাইপ মুখে। শিশুর চরিত্র গঠনে পরিবার, শিক্ষক, সমাজ, ইত্যাদির ভূমিকাই প্রধান। অনেকেই ছোটবেলা থেকে বাংলা সিনেমায় বিভিন্ন নায়ককে শার্টের বোতাম খুলে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে মদের বোতল থেকে মদ খেতে দেখতে দেখতে বড় হয়েছে। তারা সবাই বড় হয়ে মাতাল হয়ে যায়নি। [৩] সিনেমাতেও প্রয়োজনে ধূমপান, এমনকি মদ্যপানের দৃশ্যও দেখানোর অনুমতি রয়েছে। কেবল স্ক্রিনে লিখে দিতে হয় ‘ঝসড়শরহম শরষষং’ অথবা ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’। পরীমনি তার ছবির ক্যাপশনেও সেটি লিখেছেন। তাহলে আপত্তি কী নিয়ে? [৪] তাহলে পা দেখানোতে আপত্তি? পরীমনি মেয়ে হওয়াতেই এটাকে অশোভন মনে করছেন সোহেল তাজ? তিনি যে ফিটনেস সেন্টার পরিচালনা করেন, সেখানে অনেকেই আসেন ব্যায়াম করতে। নিজের এবং সেইসব ছেলেদের খালি গায়ের ছবি দেদারসে নিজের ফেসবুক পেইজে শেয়ার করেন সোহেল তাজ। বাংলাদেশের সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে যদি পরীমনির পা দেখানোকে ছিঃ ছিঃ করা যায়, সোহেল তাজের শরীর দেখানো ছবির কী হবে?

[৫] সোহেল তাজ বড় একটা সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই নিয়মিত বাস করছেন। ফলে তার এবং তার সন্তানদের হলিউড এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়ও আছে। সেখানে থেকেও যদি তিনি পশ্চিমা সংস্কৃতিকে এড়িয়ে চলতে পারেন, পরীমনির কারণে বাংলাদেশে তার হঠাৎ কী সমস্যা হলো তা আমার বুদ্ধিতে আসছে না। পরীমনি এখন যেকোনো আক্রমণের সহজ টার্গেট। এই ছবিও কোনো এক কারণে পরীমনি ডিলিট করে দিয়েছেন। সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু একটা বিষয় অবাক লাগে। আমি কাউকে কখনও বলতে শুনি নাই ‘ভাই, ঘুস খায়েন না, আমাদের ছেলেমেয়েদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ সোহেল তাজও নানা কারণে সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে গেছেন। কখনও কারো নাম বা ছবি উল্লেখ করে একটা স্ট্যাটাস দেননি, ‘ভাই, রাজনীতিটাকে এমন বানাবেন না, আমাদের দেশের সন্তানদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ অনুতর্ক। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত