প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এমএলএম ব্যবসার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত, গ্রেপ্তার ১৭

সুজন কৈরী : [২] প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া ‘সুইসড্রাম ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট কোম্পানি’র পরিচালক কাজী আল-আমিনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। গ্রেপ্তার বাকি সদস্যরা হলেন- সালাউদ্দিন, শেখ মো. আব্দুল্লাহ, মনিরা ইয়াসমিন, জাহিদ হাসান, স্বপন মিয়া, শাহজাহান, মিজানুর রহমান, বাদশা অরফে সুলাইমান, ইমাম হোসাইন, আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আনারুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, ফারুক উদ্দিন, আঞ্জুমান আরা বেগম, শেখ রবিন, ইমাম হোসাইন ও মোছা. আছমা বেগম।

[৩] মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ২টি ল্যাপটপ, ১টি প্রজেক্টর, কোম্পানির ব্যবহৃত ২টি সিল, কোম্পানির ২টি ব্যানার, বিভিন্ন ধরনের ৪টি ডায়েরি ও খাতা, ১টি রেজিস্টার, কোম্পানির ১২৫টি লিফলেট, প্রতারণায় ব্যবহৃত সুইসড্রাম কোম্পানির ভুয়া ওষুধ-প্রসাধনী সামগ্রী, সুইসড্রাম কোম্পানির ২৫ সেট ডিস্ট্রিবিউটর ওয়ার্কিং ফাইল, ২৩টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

[৪] র‌্যাব জানায়, প্রতারক চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জৌলুসপূর্ণ ও আকর্ষণীয় রেস্টুরেন্টে ভিকটিমদের নিয়ে প্রতারণামূলক সভা, সেমিনার, মোটিভেশনাল ওয়ার্কশপ, আকর্ষণীয় লাঞ্চ ও ডিনার পার্টির আয়োজন করতো। অসহায়, নিরীহ অর্ধশিক্ষিত এমনকি শিক্ষিত শ্রেণির ভিকটিমরা এ ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে প্রলুব্ধ হয়ে খুব সহজেই প্রতারণার ফাঁদে পা দিতেন এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে চক্রটি বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করতো।

[৫] চক্রটি এস-ফ্যাক্টর নামক একটি ওষুধ (সর্ব রোগের মহৌষধ) যা ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ওষুধ বলে প্রচারণা চালাচ্ছিলো। এই ওষুধ করোনা প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করে বলেও প্রচার করে তারা।

[৬] র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, সম্প্রতি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ও ই-কমার্স ব্যবসার মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে দেশ জুড়ে সমালোচিত হয়েছে ই-কমার্স ব্যবসা। তেমনি একটি প্রতিষ্ঠান সুইসড্রাম কোম্পানি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সুইসড্রাম কোম্পানির অন্যতম পরিচালক কাজী আল-আমিনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

[৭] র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, বেকার ও অসচ্ছল যুবক-যুবতী এমনকি শিক্ষিত লোকজনকে স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্লাটিনাম, গোল্ড, সিলভার ও সাধারণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। কথাবার্তায় পটু, আর্থিকভাবে মোটামুটি স্বচ্ছলদের সদস্য সংগ্রহের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। তাদের মোটা অঙ্কের টাকা প্রদানে বাধ্য করে এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ করে।

[৮] এছাড়াও গ্রাহক সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বোনাস এবং অধিক মুনাফা লাভের কথা বলে কাজী আল-আমিন সদস্যদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন।

[৯] গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোটিভেশনাল বক্তব্য প্রদান ও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সদস্য হিসেবে সুইসড্রাম অ্যাপসে অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কোম্পানিটি। প্রতিষ্ঠানে নতুন সদস্যদের পাঁচটি ক্যাটাগরির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। এক ও দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ৪ হাজার ২০০ থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকার বিনিময়ে এক প্যাকেট ওষুধ ও তৃতীয়-চতুর্থ ক্যাটাগরিতে ২৬ হাজার ২০০ থেকে ৫৮ হাজার টাকার বিনিময়ে ৬ থেকে ১৪ প্যাকেট ওষুধ এবং পঞ্চম ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে ২৮ প্যাকেট ভুয়া ওষুধ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করছিলো। প্রতিষ্ঠানটি তাদের নির্দিষ্ট কোন সাইনবোর্ড ও ঠিকানা ব্যবহার করতো না

[১০] র‌্যাব জানায়, কোম্পানিটির সকল কার্যক্রম প্রতারণামূলক। পণ্যসমূহ বিএসটিআই এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমোদিত নয়। পণ্য আমদানির কোন বৈধ কাগজপত্রও নেই। কোম্পানিটির ভ্যাট বা ট্যাক্স প্রদানের কোনও রেকর্ড নেই। কোম্পানিটির ওষুধ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী প্রসাধনী সামগ্রী শরীর ও ত্বকে ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর। এমনকি এতে ক্যানসার ও অন্যান্য জটিল রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত