প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অতিরিক্ত ঋণে অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে সতর্ক করলেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী

রাশিদ রিয়াজ : যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বলেছেন ঋণের সীমা বাড়াতে কংগ্রেসের ব্যর্থতা তার দেশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা এক প্রবন্ধে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করত। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট গত মাসে জরুরিভাবে নগদ অর্থ ব্যবহারে সাশ্রয়ী পদক্ষেপের আহ্বান জানায় যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে তার ট্রিলিয়ন ডলারের ফেডারেল ঋণ খেলাপি হওয়া থেকে বিরত রাখা যায়। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেস ছয় সপ্তাহের ছুটিতে যাওয়ার আগে ঋণের সীমা স্থগিত করতে ব্যর্থ হয় এবং ওয়াশিংটনে ফিরে আসার পর রিপাবলিকানরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় অস্বীকৃতি জানায়।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে, লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক নগদ অর্থ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকালের বিলম্ব চলছে এবং প্রায় ৫০ মিলিয়ন সিনিয়র মার্কিন নাগরিক অনির্দিষ্টকালের জন্যে সামাজিক নিরাপত্তা চেক নাও পেতে পারেন। মার্কিন সেনাদের বেতন দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। পারিবারিকভাবে শিশু সুবিধা হিসেবে বিশেষ ভাতা বন্ধ হলে এর ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ পরিবার বিপাকে পড়তে পারে। ইয়েলেন বলেন এধরনের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে বিলম্বের পেছনে কানো যথাযথ কারণ বা বৈধতা নেই, নেই কোনো আর্থিক দায়বদ্ধতা। ঋণের সীমা বাড়াতে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানরা যদি একমত না হতে পারেন তাহলে তা মার্কিন অর্থনীতিতে চরম সংকট সৃষ্টি করবে। ফেডারেল সরকারের বিদ্যমান ঋণ পরিশোধের জন্য নগদ টাকা শেষ হওয়ার আগে ঋণের সীমা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে ডেমোক্রেটদের একক উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান জ্যানেট ইয়েলেন। সিনেট মাইনরিটি নেতা মিচ ম্যাককনেল ইতিমধ্যে বলে দিয়েছেন তারা বাইডেন প্রশাসনের ঋণের সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাবে সমর্থন করবেন না। গত পহেলা আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ঋণের সীমা পুনঃনির্ধারণ হয় এবং সরকারের ঋণের পরিমান ছিল তখন ২৮.৪ ট্রিলিয়ন ডলার যা যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিরও বেশি। গত দেড়বছরে করোনভাইরাস মহামারীতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি নগদ সহায়তা হিসেবে দিতে হয়েছে।

এ কারণেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের মধ্যে থেকে অতিরিক্ত আরো ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আগামী ১০ বছরে বাজেট বরাদ্ধে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ অনুমোদনের ব্যাপারে কঠোর সমালোচনা চলছে। আইনপ্রণেতারা বলছে জরুরি ভিত্তিতে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া না হলে চলতি মাসের শেষ দিকে মার্কিন সরকার শাটডাউনের মুখে বা অচলাবস্থার মধ্যে পড়বে। ১৯৮০ সালের পর থেকে এপর্যন্ত মার্কিন সরকারগুলোর এধরনের অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে অন্তত ১০ বার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ২০১৮ সালের শেষ দিকে ও ২০১৯ সারের প্রথম দিকে মোট ৩৫ দিনের অচলাবস্থার মধ্যে পড়ে মার্কিন প্রশাসন। গত ষাটের দশক থেকে কংগ্রেস মার্কিন সরকারগুলোর ঋণের সীমা বাড়িয়েছে ৮০ বার। এর ফলে দেশটির সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৯ ট্রিলিয়ন, এবং মোট দায় – যার মধ্যে ফেডারেল ঋণ ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি দায় মিলে এর পরিমান ৮৫ ট্রিলিয়নেরও বেশি, যা মার্কিন জিডিপির চারগুণেরও বেশি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত