প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সরাইলে নিখোঁজের ১৫৪ দিনেও উদ্ধার হয়নি গৃহবধূ গুলশান

আরিফুল ইসলাম: [২] ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে গুলশান (৩৩) নামে এক ইতালি প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ হন। থানায় সাধারণ ডায়েরি করার ১৫৪ দিনেও গুলশানের সন্ধান করতে পারেনি পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বলিবাড়ি গ্রামের ইতালি প্রবাসী আলাল উদ্দিনের স্ত্রী গুলশান।

[৩] পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ১০ বছর স্বামী ইতালিতে থাকায় গৃহবধূ গুলশান দুই সন্তান নিয়ে ইউনিয়নের বিটঘর গ্রামে বাবার বাড়িতেই থাকতেন। গত ২১ এপ্রিল বিটঘর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন প্রবাসীর স্ত্রী গুলশান। এ ঘটনায় পরদিন ২২ এপ্রিল সরাইল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন গুলশানের বাবা জাহাঙ্গীর মিয়া।

[৪] এদিকে গুলশান নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। গুলশানের শ্বশুরবাড়ি এবং বাবার বাড়ির লোকদের মধ্যে একেঅপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা চলছে। দু’পক্ষই একেঅপরের ওপর অভিযোগ আনছে ‘গুলশানকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে।’

[৫] গুলশানের বাবা জাহাঙ্গীর মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মেয়ে তার নিখোঁজ হয়েছে ১৫৪ দিন অতিক্রম করেছে; অথচ পুলিশ তার মেয়ের সন্ধান দিতে পারছে না। জাহাঙ্গীর মিয়া দাবি করেন, ২১ এপ্রিল আশুগঞ্জ উপজেলায় গিয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে বিটঘর গ্রামে ফেরার পথে গুলশানকে অপহরণ করেন তার প্রবাসী স্বামী আলাল উদ্দিনের ভাইয়েরা এবং এক ভাতিজা।

[৬] অপরদিকে প্রবাসী আলাল উদ্দিনের বড় ভাই হারিছ চৌধুরী জানান, তার ছোট ভাই আলাল ১০ বছর যাবত ইতালিতে থাকেন। এই সময়ের মাঝে ইতালি থেকে আলাল স্ত্রী গুলশানের ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ এবং শ্বশুর জাহাঙ্গীর মিয়ার ব্যাংক হিসাবে ৭৯ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। ক’মাস আগে আলাল উদ্দিন দেশে ফেরার খবর পাঠালে ওই ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে জাহাঙ্গীর মিয়া তার মেয়েকে নিখোঁজ করে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়েছেন।

[৭] এ ব্যাপারে ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, গৃহবধূ গুলশানকে উদ্ধারে আমরা ইতোমধ্যে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হই। উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে গুলশানের বাবা এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশকে সহযোগিতা না করে; তারা নিজেরা কাঁদা ছুড়াছুড়িতে ব্যস্ত।

সর্বাধিক পঠিত