প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাতিন রহমান: ‘তোরা তো পারলি না, ওর সঙ্গে তোরা পারলি না’

রাতিন রহমান: ১৯৭২ সালের মে মাস। বঙ্গবন্ধু ছুটছেন তখন জেলায় জেলায়। বিভিন্ন জেলা সফর করে এলেন রংপুরে। উঠলেন রংপুর সার্কিট হাউজে। রংপুর গার্লস হাইস্কুলের পড়তো জেনিফার এলি। ১০ মে রংপুরের কালেক্টরেট মাঠে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতে বান্ধবী ইয়াসমিনের সঙ্গে গিয়েছিলো এলিও। ভাষণ শেষে এলি বান্ধবী ইয়াসমিনকে বললো, ইশ যদি একবার দেখতে পারতাম। দিনটি ১১ মে। পরদিন তাদের সকালের শিফটে স্কুল। স্কুলে গিয়ে এলি শুনলো, বঙ্গবন্ধু তখনও রংপুরেই আছেন। সার্কিট হাউসে শুনেই এলি বেশ কয়েকজনকে নিয়ে ছুটলো সার্কিট হাউসের দিকে। কিন্তু সবাই মনে মনে ভাবছে বোধহয় আর ঢুকতে দেবে না। ঠিক তাই। সার্কিট হাউজে ঢুকতেই বাধা দিলো পুলিশ। এমন সময় এলি ভাবলো এসেছি যেহেতু না দেখে তে আর ফেরা যাবে না। তাই দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকতেই একজন এসে জিজ্ঞেস করলো, এই, তোমরা এখানে কী করছো? ‘এলি বললো, আমরা বঙ্গবন্ধুকে দেখতে চাই।

দেখি যাও যাও এখন বাড়ি যাও। নিরাপত্তা কর্মকর্তা বললেই বঙ্গবন্ধু ভেতর থেকে কথাটি শুনতে পেলেন। তিনি সবাইকে ডেকে পাঠালেন। রুমে তখন অনেক লোক। বঙ্গবন্ধু বললেন, কী চাও তোমরা? ‘এলি বললো, ‘বঙ্গবন্ধুকে দেখতে চাই। বঙ্গবন্ধু মজা করে বললেন, বঙ্গবন্ধু, কে বঙ্গবন্ধু? এলি হেসে বললো, আপনিই তো বঙ্গবন্ধু। আমি আপনার অটোগ্রাফ নেবো। কিন্তু এলির সঙ্গে কোনো কাগজ আনেননি। আর তাই বঙ্গবন্ধু শেষমেয় এলির ডান হাতে নিজের নামের স্বাক্ষর দিয়ে অটোগ্রাফ দিলেন। মাথায় ও হাত বুলিয়ে দিলেন।

সেদিনই বঙ্গবন্ধু ঢাকায় ফিরবেন। সার্কিট হাউসের করিডর দিয়ে হেঁটে বের হচ্ছেন যখন বঙ্গবন্ধু। তখন এলি আবার দেয়ালের ওপরে উঠে গিয়ে স্লোগান দেওয়া শুরু করলো। এলি স্লোগান দিতে দিতে ঘেমে গিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু করিডরে দাঁড়িয়ে হাত উঁচু করে সবাইকে থামালেন। হাতে থাকা ফুলের তোড়া থেকে একটি ফুল এলিকে দিলেন। এলির মাথায় হাত রেখে আদর দিয়ে বললেন, ‘তুই ঘেমে গেছিস তো, এবার থাম। হয়েছে, হয়েছে।’ কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেদের বললেন, ‘তোরা তো পারলি না, ওর সঙ্গে তোরা পারলি না’। ১২ মে এই ছবি ছাপা হয়েছিলো দৈনিক বাংলা ও ইত্তেফাক পত্রিকায়। তথ্য কৃতজ্ঞতা-বিনয় দত্ত। সংগ্রহ কৃতজ্ঞতা-আহমাদ ইশতিয়াক। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত