প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রেমের বিয়ে পরকীয়ায় শেষ

নিউজ ডেস্ক : ২০০৭ সালে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় লুনা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন রাজু-জরিফুল। একই কারখানায় কাজের সুবাদে তাদের সর্ম্পক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এক সময় তা পরিবারের অমতে বিয়েতে রূপ নেয়। এরপর তারা নারায়ণগঞ্জ এলাকায় চাকরি নেন। বিয়ের পাঁচ বছর পর তাদের সংসার আলোকিত করে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান।

এরপর তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে গাজীপুরের মৌচাক চলে আসেন। মৌচাক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দুজনে দুটি কারখানায় কাজ নেন। বেশ সুখেই চলছিল তাদের সংসার।

সম্প্রতি জরিফুল বাসার পাশের রুমের ভাড়াটিয়ার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান। পরকীয়া ছাড়াও অন্যান্য নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। অতঃপর জরিফুলকে হত্যার মধ্য দিয়ে সেই মধুর প্রেমের সম্পর্কের সলিল সমাধি ঘটান রাজু।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকা থেকে স্ত্রী জরিফুলকে (৩৫) হত্যার অভিযোগে স্বামী রাজু আহম্মেদকে (৩১) গ্রেফতার করে গাজীপুরের পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেফতার হওয়া স্বামী রাজু আহম্মেদ (৩১) জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পাঁচবাড়ীয়া গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। নিহত জরিফুল (৩৫) গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মো. আব্দুল জলিলের মেয়ে।

তারা গাজীপুরের মৌচাক এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। রাজু গাজীপুরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় লিবার্টি গার্মেন্টসের ডায়িং সেকশনের কিউসি ও তার স্ত্রী জরিফুল মৌচাক এলাকার মৌচাক নিটে চাকরি করতেন।

সোমবার বিকেলে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান, ২০০৭ সালে রাজু-জরিফুল দম্পতি প্রেম করে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ৮ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। তাদের এ সন্তান জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে থাকে। জরিফুল পাশের রুমের ভাড়াটিয়া মো. রুবেলের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রুবেলের সঙ্গে জরিফুলের অবৈধ সম্পর্কটি জানতে পেরে ১ সেপ্টেম্বর ওই ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে নতুন বাসায় ওঠেন রাজু।

এদিকে মাস শেষে জরিফুল তার বেতনের টাকা স্বামীকে না দিয়ে তার ছোট ভাই সুজার মোবাইলের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিতেন। স্ত্রী সংসার চালাতে বা মেয়ের ভরণ পোষণের জন্যও কোনো টাকা পয়সা দিতেন না। এসব নিয়েও তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত।

পরে গত বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কারখানার দুপুরের খাবারের বিরতিতে জরিফুলকে কৌশলে গাজীপুরের মাস্টারবাড়ী ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে নির্জন জায়গায় নিয়ে যান রাজু। সেখানে জরিফুলের গলায় থাকা ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যা নিশ্চিত করতে পকেটে থাকা ব্লেড দিয়ে ডান হাতের কবজির নিচে রগ কেটে দেন তিনি। এরপর লাশ রেখে পালিয়ে যান।

পরদিন বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে জরিফুলের লাশটি উদ্ধার করে। পরে গাজীপুর পিবিআই সদস্যরা আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে জরিফুলের হত্যার খবর জানান।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভিকটিমের ভাই মো. সুজা মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে গাজীপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

১৯ সেপ্টেম্বর মহানগর পুলিশ তদন্তকালে গাজীপুর জেলা পিবিআই মামলাটি স্ব-প্রণোদিত হয়ে অধিগ্রহণ করে। এরপর সোমবার ভোর রাতে রাজুকে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে দুপুরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রাজু।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত