প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শেয়ারবাজারে সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন

মাসুদ মিয়া : [২] দেশের শেয়ারবাজার সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে পাশাপাশি সূচক বেড়েছে তবে লেনদেন কমেছে।

[৩] এ বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে ব্যাংকের অবণ্টিত লভ্যাংশ জমা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি তোলার পর গত সপ্তাহ থেকেই পুঁজিবাজারে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। সূচকের উঠা-নামার ভিড়ে গত কয়েক মাসে যেসব কোম্পানির শেয়ারদর ব্যাপকভাবে বেড়েছিল, সেগুলো সংশোধনে যেতে শুরু করে।

[৪] তবে একটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবণ্টিত লভ্যাংশ তহবিলে স্থানান্তর নিয়ে আপত্তি তুলে নিয়েছে। এরপর তহবিলে ব্যাংক থেকে টাকা আসছে।

[৫] তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি আসেনি। আর এই বিষয়টি নিয়ে তাই বিভ্রান্তি এখনও রয়ে গেছে।

[৬] আর বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হতো না। বিভ্রান্তিতে লেনদেনে খরা দেখা দিয়েছে, গত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএসইতে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। ফলে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৭ পয়েন্ট বেড়ে যায়। আর শুরুর একঘণ্টা ১৩ মিনিটের মাথায় সূচকটি বাড়ে ৫০ পয়েন্ট।

[৭] এরপর কিছু প্রতিষ্ঠানের দরপতন হওয়ায় সূচক নিম্নমুখী হয়। তবে একবারের জন্যও সূচক ঋণাত্মক হয়নি। অবশ্য লেনদেনের শেষদিকে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর হারানোর কারণে সূচকের বড় উত্থান আটকে যায়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বেড়েছে, দাম কমেছে ১৬৩টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির দাম।

[৮] এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭ হাজার ২০৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর শরিয়াহ্ ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে ও ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

[৯] সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৭৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় দুই হাজার ৩৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ২৭১ কোটি ২১ লাখ টাকা।

[১০] টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ৭৪ কোটি ২৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রূপালী ইন্স্যুরেন্স।

[১১] এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বেক্সিমকো ফার্মা, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, সাইফ পাওয়ার টেক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো।

[১২] অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩২৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৬টির, কমেছে ১৩১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮টির। সম্পাদনা : ভিকটর রোজারিও

সর্বশেষ