প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেই নেই ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার

ইত্তেফাক: আমার সন্তানের বয়স তখন নয় মাস, আমি কোথাও ভ্রমণ করার সময় খুবই অস্বস্তিতে পড়তাম। আমার সন্তান দুধ খাবে কিন্তু আমি দিতে পারছি না। কোর্টে অনেক নারীকে দেখেছি খোলা জায়গায় বাধ্য হয়ে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছে। সামনে দাঁড়িয়ে মা অথবা শাশুড়ি এই দৃশ্য আড়াল করার চেষ্টা করছেন। আমি জানতে পারলাম আমাদের এ সম্পর্কিত একটি নিদের্শনা আছে, কিন্তু দশ বছর হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তখন আমি আমার নয় মাসের সন্তানকে নিয়ে কোর্টে রিট করি। কারণ ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যত্ প্রজন্মের পুষ্টির জন্য আর নারী ক্ষমতায়নের জন্য কোনভাবেই বিষয়টি অবহেলা করা যাবে না।’ বলছিলেন আইনজীবী মা ইসরাত হাসান।

প্রধানমন্ত্রী নারীকে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে এবং সুস্থ-সবল ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ২০০৯ সালে দেশের সব কর্মক্ষেত্রে (প্রতিষ্ঠান) ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের নির্দেশনা দেন। এর প্রায় ১০ বছর পর ২০১৯ সালে নয় মাসের শিশু উমাইর বিন সাদীকে নিয়ে তার মা আইনজীবী ইসরাত হাসান রিট করেন। রিট আবেদনের ভিত্তিতে কর্মক্ষেত্র, বিমানবন্দর, বাস, রেলওয়ে স্টেশন ও শপিংমলে মাতৃদুগ্ধ দান কক্ষ ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে রুল জারি করেন আদালত। এই রুলের প্রেক্ষিতে তখন ১১ থেকে ১২ টি ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরসহ কয়েকটি রেলওয়ে স্টেশনও। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে প্রতিটি কারখানায় বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে বিষয়টি মানা হচ্ছে কি না তা মনিটরিংয়ের নির্দেশনাও দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ১২ বছর পরও দেশে মাত্র ৩০ শতাংশ কর্মস্থলে ব্রেস্টফিডিং কর্নার আছে বলে জানা গেছে। ৭০ শতাংশ কর্মক্ষেত্রেই মানা হয়নি নিদের্শনা। অথচ ৩৮ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে কাজ করেন।

একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন শ্যামা শারমিন রহমান। তার দুই ছেলে। ছেলেদের জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হলে, অফিসে যোগ দেওয়ার সময় তিনি শিশুদের জন্য মায়ের দুধ সংরক্ষণ করে ফ্রিজে রেখে আসতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মজীবী মা জানান, তার অবর্তমানে চিকিত্সকের পরামর্শে শিশুকে ফরমুলা দুধ খাওয়ানো হয়েছে। তারা দুজনেই জানতে চান কেন ১২ বছরেও কর্মক্ষেত্রে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার হয়নি।

তবে চিকিত্সকের ফর্মুলা দুধের নাম দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ড. এস কে রায়। তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশে ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প খাদ্য (বিপণন নীতিমালা) আইন’ করা হয়। ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী কোন চিকিত্সক প্রসূতি মাকে মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কোন দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন না, এটা করলে তার রেজিষ্ট্রেশন বাতিল হবে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, চিকিত্সকরা নিজেদের প্যাডে নয়, অন্য কাগজে ফর্মুলা দুধের নাম লিখে দিচ্ছেন হরহামেশাই।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত