প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমিনুল ইসলাম: আমাদের শিক্ষার মানের আন্তর্জাতিক স্কোর এতো কম কেন?

আমিনুল ইসলাম: বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময় শিক্ষকদের বলতে শুনতাম, ৬০ পারসেন্ট মার্ক্স দেবো কেন? ৬০ পারসেন্ট মার্ক্স পাওয়ার জন্য আমাদের কতো পরিশ্রম করতে হয়েছে জানো? তোমরা কি আমাদের চাইতে মেধাবী? অথচ আমরা পড়তাম জিপিএ সিস্টেমে। ৬০ ভাগ নম্বর যেখানে তেমন কোনো নম্বরই না। অথচ আমাদের শিক্ষকরা সেটা বুঝতে চাইলেন না। তারা ক্লাসের অর্ধেকের বেশি ছেলে-মেয়েকে ৬০-এর নিচে নম্বর দিয়ে পাস করেছিয়েন। অর্থাৎ তারা সবাই জিপিএ-৩ এর নিচে পেয়েছে। আরেক শিক্ষক প্রকাশ্যে একবার আমাকে বলেছেন-কেন তোমাদের বেশি নম্বর দেবো? এরপর পাস করে আমাদের আগে বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে চলে যাবে, তাই না? এই হচ্ছে আমাদের শিক্ষকদের মন মানসিকতা। তারা তাদের শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে।

নিজেদের আপডেট করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তারা বুঝতেও চায়নি জিপিএ সিস্টেমে ৬০ ভাগ নম্বর, মানে জিপিএ-৩ মানে খুব একটা ভালো রেজাল্ট না। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে-৩ মানে তারা মনে করে মোটেই কোনো ভালো রেজাল্ট না। আমাদের শিক্ষকরা সেই ৩০ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে জিপিএ সিস্টেম চালু করেছেন। কিন্তু পড়ে থাকলেন সে ‘ক্লাস’ সিস্টেমে। নম্বর দেওয়ার আগে ভাবতেন ৬০ পারসেন্ট মার্ক্স? এটা তো ফার্স্ট ক্লাস নম্বর। আমরা নিজেরাই তো এই নম্বর পাইনি। তাহলে শিক্ষার্থীদের দেবো কেন। কিংবা পেয়ে থাকলে ভাবতেন, তারা কি আমাদের মতো মেধাবী? কেন, দেবো নম্বর। পাস করার পর কতো ছাত্রকে শিক্ষকদের এই প্রাচীন চিন্তা-ভাবনার জন্য সাফার করতে হয়েছে, আমার জানা নেই। তো, প্রথম আলো পত্রিকায় পড়লাম, আন্তর্জাতিক স্কেলের মানদণ্ডে বাংলাদেশের শিক্ষার মান ২ দশমিক ৮, ভারত ও শ্রীলংকার শিক্ষার মান ২০ দশমিক ৮ এবং পাকিস্তানের শিক্ষার মান ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। আমরা ভারত-পাকিস্তান- শ্রীলংকার ধারে কাছেও নেই। থাকবো কি করে-আমাদের শিক্ষকরা তো মনে করেন তারাই কেবল মেধাবী। শিক্ষক হয়ে যাওয়ার পর জগতের আর সবাইকে তাদের অমেধাবী মনে হয়। তারা প্রথমেই ধরে নেন- শিক্ষার্থীরা তাদের চাইতে অমেধাবী।

আমাকে তো আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ক্লাসের মাঝে প্রকাশ্যে বলে বসেছিলেন-কই থেকে এসেছো? মনে তো হয় বস্তি থেকে উঠে এসেছো। অর্থাৎ এই শিক্ষক মনে করেন- বস্তি থেকে উঠে আসলে ইউনিভার্সিটিতে পড়া যাবে না। এটি আবার তিনি প্রকাশ্যে ক্লাস রুমে সকল ছাত্র-ছাত্রীর সামনে বলেছেন। তো, আমাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার মান কেবল ২ দশমিক ৮। কিন্তু আমরা কি জন্ম নেওয়ার সময় একজন আমেরিকান, ইউরোপীয়ান, ভারতীয় কিংবা পাকিস্তানি বাচ্চার চেয়ে কম মেধা নিয়ে জন্মাই? তাহলে আমাদের স্কোর এতো কম কেন? আচ্ছা, উগান্ডা দেশটির স্কোর কতো? যে উগান্ডা নিয়ে আমরা হাসাহাসি করি, সে উগান্ডা কি আমাদের চাইতে এগিয়ে? আমাদের নিচে আর কয়টি দেশ আছে? আমরা না নিজেদের অনেক মেধাবী মনে করি? তাহলে আমাদের স্কোর এতো কম কেন? কারণ সবচাইতে মেধাবী বলতে আমরা যাদের বুঝি। সেই শিক্ষকরা আমাদের পুরো দেশটাকে মেধা শূন্য বানিয়ে ছেড়েছে। যেই দেশে একজন শিক্ষক কোনো মেধাবী ছাত্র দেখলে মনে করেন, এই ছেলেকে বেশি নম্বর দিলে আমার আগে বিদেশে স্কলারশিপ পেয়ে চলে যাবে। সে দেশ মেধা শূন্য হবে এটাই স্বাভাবিক। যে দেশে সকল মেধা স্রেফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিসিএস ক্যাডারে পাওয়া যায়, সেই দেশের মেধা অবশ্য দেশীয় মানদণ্ডে আন্তর্জাতিক। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত