প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জার্মানির ব্রান্ডেনবার্গ গেইট, যেখানে ইতিহাস কথা বলে

সালেহ্ বিপ্লব: [২] বার্লিন শহরের এই গেইট সুবিখ্যাত এবং ঐতিহাসিক। এই নিওক্লাসিকাল স্থাপত্য তৈরি করা হয় প্রুশিয়ার রাজা দ্বিতীয় ফ্রেডরিক উইলিয়ামের নির্দেশে। ১৭৮৮ সালে নির্মাণ শুরু, উদ্বোধন হয় ১৭৯১ সালের ৬ আগস্ট। এক সময় এটি ছিলো নগরীর প্রবেশদ্বার। প্রাসাদ অভিমুখী এভিনিউর শুরুতেই ছিলো এর অবস্থান। হিস্টোরিহিটডটকম, উইকিপিডিয়া

[৩] রাজা উইলিয়াম শান্তির প্রতীক হিসেবে এই গেইট বানিয়েছিলেন, এমন কথা প্রচলিত আছে। তবে আভিজাত্যপূর্ণ এই স্থাপনাকে ঘিরে নানা জনের মুখে শোনা যায় নানা ইতিহাস।

[৪] ১৭৯৩ সালে গেইটের মাথায় মুকুট হিসেবে স্থান পায় একটি ‘কোয়াড্রিগা’ মূর্তি। কোয়াড্রিগা মানে চার ঘোড়ায় টানা একটি রথ। এই মূর্তির রয়েছে কৌতুহল জাগানো ইতিহাস।

[৫] ১৮০৬ সালে ফরাসী সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপোর্টের বাহিনী বার্লিন দখল করে। নেপোলিয়ন কোয়াড্রিগা মূর্তিটিকে প্যারিস নিয়ে যান, যুদ্ধে বিজয়ের স্মারক হিসেবে তিনি এটি রেখে দেন। ১৮১৪ সালের ১১ এপ্রিল ইউরোপীয় দেশগুলোর জোট সম্রাট নেপোলিয়নকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করে, তাকে নির্বাসিত করা হয় ইটালির এক দ্বীপে। সে সময় ‘কোয়াড্রিগা’ মূর্তি আবার ফিরে যায় বার্লিনে, ব্রান্ডেনবার্গ গেইটের মুকুট হয়ে সেখানেই আছে এখনো।

[৬] নাৎসী বাহিনী ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে ব্রান্ডেনবার্গ গেইটকে তাদের দলীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করতো। দুই জার্মানির মধ্যে শীতল যুদ্ধের স্মৃতিও বহন করছে এই গেইট।

[৭] ১৯৬১ সালে দ্ইু জার্মানিকে বিভক্ত করে নির্মাণ করা হয় বার্লিন প্রাচীর, প্রাচীরের ভেতরে নো-ম্যানস ল্যান্ডে ছিলো ব্রান্ডেনবার্গ গেইটের অবস্থান, সেই প্রাচীর ভেঙ্গেছে ১৯৮৯ সালে। আর এই ২৮ বছর ব্রান্ডেনবার্গ গেইট ছিলো রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের প্রাণকেন্দ্র ছিলো। বিদেশি অতিথিরাও যেতেন সেখানে। খুন হওয়ার ৫ মাস আগে, ১৯৬৩ সালের জুন মাসে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি।

[৮] রোনাল্ড রিগ্যান যান ১৯৮৭ সালে। বার্লিনে তার বক্তৃতা মঞ্চের ব্যাকড্রপ হিসেবে ছিলো ব্রান্ডেনবার্গ গেইট। আর বার্লিন প্রাচীরের নো ম্যানস ল্যান্ডে দাঁড়িয়ে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান মিখাইল গর্বাচেভের উদ্দেশ্যে সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, ‘মিস্টার গর্বাচেভ, টিয়ার ডাউন দিস ওয়াল।’ তখন সোভিয়েত রাশিয়ায় সবেমাত্র পরিবর্তনের সূচনা করেছেন গর্বাচেভ, এক বছর আগে প্রণয়ন করেছেন পেরেস্ত্রয়কা-গ্লাসনস্ত। সেই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের বাক্যটি ছিলো খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ। অবশ্য আর তিন বছর পরই, ১৯৯০ সালে পরিবর্তনের হাওয়ায় পতন গড়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের।

[৯] দুই জার্মানি এক হওয়ার পর ব্রান্ডেনবার্গ গেইট খুলে দেওয়া হয় ১৯৮৯ সালের ২২ ডিসেম্বর। সেদিন পশ্চিম জার্মানির চ্যান্সেলর হেলমুট কোহল ও পূর্ব জার্মানির প্রধানমন্ত্রী হ্যান্স মড্রো এক সাথে হেঁটে যান গেইট ধরে, সেদিন থেকে জার্মানির ঐক্যের প্রতীক এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য।

[১০] এখনও সারাবিশ্বের পর্যটকদের মন কাড়ে ব্রান্ডেনবার্গ গেইট। এর মাথায় বসানো মূর্তিটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে, যাতে দেখা যাচ্ছে, রোমানদের বিজয়ের দেবী ভিক্টোরিয়া চার ঘোড়ার রথ হাঁকিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক উপভোগ করেন সেই পৌরাণিক সৌন্দর্য্য।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত