প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ওয়ার্ড যুবলীগ নেতাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

সুজন কৈরী :[২] রাজধানীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিশেষ করে গোলাগুলির মতো ঘটনা ঘটিয়ে কেউ পার পাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার গোয়েন্দা একেএম হাফিজ আক্তার।

[৩] তিনি বলেন, ঢাকা শহরের যেকোনও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কোনো গুলির ঘটনা ঘটলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসব বিষয়গুলো কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাফিজ আক্তার এসব কথা বলেন।

[৪] রাজধানীর খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে ২নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিএমপি।

[৫] সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওয়ার্ড যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি’র গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মনিরুজ্জামান সুমন ও ইমন। শুক্রবার কুমিল্লার বরুড়া থানার আমড়াতলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

[৬] সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, গত ১৫ মে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে রেমন্ড টেইলার্সের সামনে রাস্তায় মনিরুজ্জামান সুমন ও তার সহযোগীরা ভিকটিম সাইফুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে সদলবলে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ সাইফুল নিজেই একটি সিএনজিতে উঠে ঢাকা মেডিকেলে যান। খবর পেয়ে ভিকটিমের স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজন ঢাকা মেডিকেলে যান। এই ঘটনায় ১৬ মে ভিকটিমের স্ত্রী সবুজবাগ থানায় ৯জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ। তদন্তকালে শুক্রবার সুমন ও ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে খিলগাঁও থানার ত্রিমোহনী এলাকা থেকে ২টি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।

[৭] হাফিজ আক্তার বলেন, ভিকটিম সাইফুল, কচি, রিপন ও সুমন ছোটবেলার বন্ধু ছিলেন। তারা একসাথেই রাজনীতি শুরু করেন। সাইফুল দলীয় পর্যায়ে ২নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। রিপন ও সুমন দলীয় পর্যায়ে পদ-পদবী না পাওয়ায় তাদের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে তারা পৃথক গ্রুপ তৈরি করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করতে থাকে। রিপন গ্রুপের সদস্য বাশারকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ১ নম্বর অভিযুক্ত ছিলেন ভিকটিম সাইফুল। ওই মামলায় দীর্ঘদিন জেলে থাকার কারণে সুমন গ্রুপ এলাকায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড করতে থাকে। সাইফুল জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সুমন ও রিপন গ্রুপ এলাকায় তাদের আধিপত্য বিস্তার হ্রাস পাওয়ার ভয়ে উভয় গ্রুপ একত্রিত হয়ে সাইফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরই অংশ হিসেবে ঘটনায় দিন রিপন, কচি, সুমন ও ইমনসহ ১২/১৩ জন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় রিপন সাইফুলকে ২ রাউন্ড এবং সুমন ১ রাউন্ড গুলি করে সবাই পালিয়ে যান।

[৭] তিনি আরও বলেন, এই মমামলায় এজাহারনামীয় ৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে ইতোপূর্বে মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে কচি, রাসেল তালুকদার ওরফে চাপাতি রাসেল, উজ্জ্বল তালুকদার ও আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক রিপনসহ অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা হয়েছে।

[৮] সম্প্রতি রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ কী হতে পারে?- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এ গোয়েন্দা প্রধান বলেন, ডিএমপির পরিবেশ এখন শান্ত। যদিও আগে প্রায়ই অস্ত্রের মহড়া দেখা যেতো, হতো বোমাবাজি। গত চার মাস মাসে রাজধানীতে যেখানেই অস্ত্রের মহড়া, বোমাবাজি হয়েছে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্র-গুলি জব্দ করা হয়েছে।

[৯] তিনি আরও বলেন, ২ কোটি জনগণের বসবাসের নগরী রাজধানীতে অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে ডিএমপি। স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, কোনো ধরনের গোলাগুলি, অস্ত্রের মহড়া, ঝনাঝনানি বরদাস্ত করা হবে না।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত