প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিয়ের ৭দিন পর কিশোরীকে ফেলে পালিয়ে গেল প্রেমিক

আশরাফুল নয়ন: [২] ফরিদপুরের এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক সপ্তাহ আগে নওগাঁর আত্রাইয়ে নিয়ে আসে রাজিব (২২) নামে এক যুবক। আবার আত্রাই থেকে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের ঢাকা বাস স্ট্যান্ডে তাকে রেখে পালিয়ে যায় রাজিব। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর রাজিব না আসায় ওই কিশোরী কান্না করতে থাকে।

[৩] স্থানীয়দের সহায়তায় ‘৯৯৯’ এ ফোন করা পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নেয়। কিশোরী নিশি আক্তার (১৬) ফরিদপুর সদর উপজেলার কুশুমদী গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলীর মেয়ে বলে জানা গেছে।

[৪] ভুক্তভোগী কিশোরী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার যুবক রাজিব এর সঙ্গে কিশোরী নিশি মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজিব তাকে তার গ্রামের বাড়িতে আত্রাইয়ে নিয়ে আসে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে দু’জনে ঢাকায় যাবে বলে আত্রাই থেকে নওগাঁর ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে আসে। বাসস্ট্যান্ডের শাহ ফতেহ আলী কাউন্টারে কিশোরী নিশিকে বসিয়ে রেখে রাজিব পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ তে ফোন করা হলে কালীতলা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. আনিসসহ সঙ্গীয় ফোর্স মেয়েটিকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর থানায় নেয়।

[৫] কিশোরী নিশি আক্তার জানান, মোবাইল ফোনে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক হয়। আমাদের সম্পর্ক প্রায় এক বছরের। আমাকে বিয়ের কথা বলে রাজিব নওগাঁর আত্রাইয়ে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। এর পর নওগাঁ সদর উপজেলার একটি কাজী অফিসে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ে করে এক সপ্তাহ তার বাড়িতে ছিলাম। তার বাড়িতে থাকা অবস্থায় পরিবারের কোন সদস্যরা ছিলনা। আমি জানতে চাইলে সে বলে আমার পরিবারের সদস্যরা সবাই ঢাকাতে চাকুরি করে। সেখানেই তোমাকে নিয়ে যাবো।

[৬] শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দু’জনে ঢাকা যাবো বলে বাসস্ট্যান্ডে আসি। কিন্তু আমাকে রেখে বাসের টিকিট কাটতে যাবে বলে আর ফিসে আসেনি রাজিব। তার পর আমি আশে পাশে অনেক খোঁজা-খুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পাইনি। আমার ভ্যানিটি ব্যাগ, মোবাইল, টাকা ও কাপড় সব কিছু রাজিবের বড় ব্যাগে ছিল। কৌশল করেই আগে থেকেই তার কাছে রেখেছিল বলে মনে হচ্ছে। তার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাস স্ট্যান্ড এলাকার একটি মোবাইল রিচার্জ এর দোকান থেকে তার মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাই। এর পর আমি সেখানে বসে কান্নাকাটি করতে লাগলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।

[৭] নওগাঁ শহরের স্থানীয় ঢাকা বাস স্ট্যান্ড এলাকার মতিউর রহমান জানান, আমরা মেয়েটিকে কাঁদতে দেখে তারাতারি ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করার পরামর্শ দিলে স্থানীয় মোবাইল রিচার্জ এর দোকান থেকে ফোন দেয়। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে মেয়েটিকে থানায় নিয়ে যায়। মেয়েটির কান্না দেখে মনে হয়েছিল খুব ভয় পেয়ে আছে।

[৮] নিশির দেয়া তথ্য অনুযায়ী রাজিরের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হয় (০১৩০৪- ৪২৬৯২৭) নাম্বারে কিন্তু একাধিকবার ফোন করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

[৯] এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) রাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘৯৯৯’ কল পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। তার পর থানায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু রাত সাড়ে ৮টার দিকে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে নিশিকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ার কারনে কিছুটা অসুস্থ অনুভব করছে।

[১০] আমরা তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি নিশির বাড়ির দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী। এছাড়া মেয়েটি কতটুকু সত্য কথা বলছে সেটাও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহ তদন্ত করছি। সম্পাদনা: সঞ্চয় বিশ্বাস

সর্বাধিক পঠিত