প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যমুনার চরে সুগন্ধি চালের ধানের আবাদ বেড়েছে: চাষ হচ্ছে কাটারি জিরাশাইল, গাইঞ্জা

নিউজ ডেস্ক: সুগন্ধি চালের ধানের আবাদ বেড়েছে বগুড়া অঞ্চলে। বিশেষ করে সারিয়াকান্দিতে যমুনার তীর ও চরগ্রামের জমিতে কৃষক ফলাচ্ছে কাটারি ও জিরাশাইল চাল। আগে এই ধান ফলানো হয়নি। বছর চারেক হয় ফলছে। যমুনার তীরে বহুকাল আগে সুস্বাদু চাল গাইঞ্জা ধান ফলে। বংশ পরম্পরায় কৃষক গাইঞ্জা ধান ফলাচ্ছে। গাইঞ্জার পাশপাপাশি তারা কাটারি ও জিরাশাইল চালের ধানের আবাদ শুরু করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাগণ বলছেন, যমুনার তীর ও চরে প্রকৃতি থেকে পলি পড়ায় সুগন্ধি চালের ধান ফলছে। এদিকে বগুড়া অঞ্চলের মাটিতে বহু আগে ফলেছে পোলাও রান্নার অতি সরু সুগন্ধি ‘শাইল্যা’ ধান। কৃষক নিজ উদ্যোগে এই ধান ফলাচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলে দিনাজপুর এলাকা কাটারিভোগ ও বাসমতি চালের প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বহু আগেই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মুঘল শাসনামলে এই এলাকার সুগন্ধি চাল সুখ্যাতি পায়। তারই ধারবাবাহিকতায় কালের প্রবাহে বিচ্ছিন্নভাবে আবাদ হচ্ছে সুগন্ধি নানা জাতের ধানের। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) প্রতিবছর নতুন ধানের উদ্ভাবন করে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে সুগন্ধি চালের তালিকায় যুক্ত হয়েছে চিনিগুঁড়া, কালিজিরা, বাংলামতি। বগুড়া অঞ্চলে এই ধান আবাদ হচ্ছে বিচ্ছিন্নভাবে। তবে কাটারি ও জিরাশাইল চালের ধানের আবাদ বাড়ছে। সারিয়াকান্দি এলাকার পরিচিতি বাড়িয়েছে গাইঞ্জা ধান। এই এলাকার অতিথি আপ্যায়নে গাইঞ্জা ধানের চাল আবশ্যিক। হালে এই ধারা চলে এসেছে বগুড়া নগরীতে।

মাঠপর্যায়ে কৃষক আনন্দের সঙ্গেই জানান, তারা সহজে কাটারি ও জিরাশাইল ধান আবাদ করতে পারছে। বীজের জন্য আগে ছুটোছুটি করতে হতো। এখন বীজের দোকানে এই ধানের কথা বললেই তারা বুঝতে পারেন।

বীজ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বললেন, ব্রি-৫০ জাতটি বাংলামতি নামে পরিচিত। ব্রির বেশ কয়েকটি জাত আছে। যা কাটারি জিরাইশাইল ধানের উপযোগী। কৃষি কর্মকর্তা জানালেন, দেশে বাসমতি চাল ফলছে। তবে এই চালের চেয়ে অব্জলভেদে নানা ধরনের সরু সুগন্ধি চালগুলোর দিকে কৃষকের আগ্রহ বেশি। যেমন বগুড়ার সারিয়াকান্দির কৃষকদের গাইঞ্জা ধানের আবাদের কথা বলতে হয় না। আগে থেকেই জমি ঠিক করে রেখে সময়মতো গাইঞ্জা চারা রোপণ করে।

সরু সুগন্ধি ধানের দাম সাধারণ ধানের চেয়ে কয়েকগুন বেশি। উচ্চ ফলনশীল মোটা ধান বিক্রি হয় প্রতিমণ ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা দরে। উফশী উন্নতজাতের ধান বিক্রি হয় ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা মণ দরে। কাটারি ও জিরাশাইল ধান বিক্রি হয় ১১শ’ টাকা থেকে ১৬শ’ টাকা মণ দরে। গাইঞ্জা ধান বিক্রি হয় প্রতিমণ এক হাজার টাকা থেকে ১২শ’ টাকা মণ দরে। শাইল্যাসহ অন্যান্য সরু সুগন্ধি চালের ধান বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা মণ দরে।

কৃষকরা জানান, সাধারণ ধানের চেয়ে সুগন্ধি ধানের উৎপাদন বিঘা প্রতি অনেক কম। যে কারণে খরচ তুলতে দাম বাড়াতেই হয়। বেশি খরচে কম উৎপাদনের এই ধান সকল কৃষক আবাদ করে না। কেউ অনেকটা শখে, কেউ অল্প জমিতে এই ধান আবাদ করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত