প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আকতার বানু আলপনা: সব কাজ সবাইকে দিয়ে হয় না

আকতার বানু আলপনা : [১] এক নাজিরের মনে খুব দুঃখ ছিলো। এজন্য যে, সে সবসময় মন্ত্রীর চেয়ে অনেক বেশি কাজ করে। অথচ মন্ত্রী শুধু অধিনস্তদের হুকুম করে কাজ করিয়ে নেয় এবং নিজে প্রায় কিছুই করে না। তবুও রাজা মন্ত্রীকেই বেশি পছন্দ করেন এবং মন্ত্রীর বেতন নাজিরের চেয়ে অনেক বেশি। একদিন নাজির রাজাকে তার মনোকষ্টের কথা জানালো। শুনে রাজা বললেন, বেশ। তুমি আমার একটা কাজ করে দাও। আমি তোমার বেতন মন্ত্রীর বেতনের সমান করে দেব। -কী কাজ হুজুর? হুকুম করুন। আমি অবশ্যই কররো। -আমার কাছে খবর এসেছে, কিছু মানুষ আমার রাজ্যের সীমানার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। তুমি একটু গিয়ে দেখে আসো তো, আসলে ঘটনাটা কী ঘটেছে? কিছুক্ষণ পর নাজির ফিরে এসে বললো, হুজুর, তারা পাশের রাজ্যের লোক। আমাদের রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছে। তারা কোনো রাজ্য থেকে এসেছে? সেটা তো হুজুর জিজ্ঞেস করিনি। আচ্ছা, আমি জেনে এসে বলছি। আবার নাজির গিয়ে শুনে এসে বললো, হুজুর, তারা কৃষ্ণনগর রাজ্য থেকে এসেছে। -কেন এসেছে? তাদের সমস্যা কী? নাজির আবার গিয়ে শুনে এসে রাজাকে বললো, -হুজুর, কৃষ্ণনগর রাজ্যে বন্যা হয়েছে। ঘরবাড়ি, ফসল সব ডুবে গেছে। তাই তারা প্রাণ বাঁচাতে আমাদের রাজ্যে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

শুনে রাজা মন্ত্রীকে ডেকে পাঠালেন। মন্ত্রী এলে রাজা উজিরের সামনেই মন্ত্রীকে বললেন, -মন্ত্রী, আমার কাছে খবর এসেছে, কিছু মানুষ আমার রাজ্যের সীমানার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। তুমি একটু গিয়ে দেখে আসো তো, আসলে ঘটনাটা কী ঘটেছে? খানিক পর মন্ত্রী এসে বললো, -হুজুর, তারা আমাদের পাশের রাজ্য কৃষ্ণনগরের লোক। কৃষ্ণনগরে বড় বন্যা হয়েছে। ঘরবাড়ি, ফসল সব ডুবে গেছে। তাই তারা আমাদের রাজ্যে সাময়িক আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলেই তারা আবার নিজের রাজ্যে ফিরে যাবে। তাই তাদের নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা করার কোনো দরকার নেই। শুনে রাজা নাজিরকে বললেন, ‘নাজির, এবার কি তুমি বুঝতে পেরেছ, কেন আমি মন্ত্রীকে তোমার চেয়ে বেশি বেতন দিই?’ নাজির লজ্জায় মাথা হেঁট করলো।
মোর‌্যাল অফ দ্য স্টোরি : সব কাজ সবাইকে দিয়ে হয় না। তাই অন্যকে ঈর্ষা করার আগে নিজের ক্ষমতা এবং যোগ্যাতার দৌড় চিন্তা করা উচিত।

[২] এক অফিসের এক কর্মচারী ছিলো খুবই অদক্ষ, অলস ও এবং চরম ফাঁকিবাজ। নাম মফিজ। সে দিনের পর দিন কাজ ফেলে রাখে। প্রায়ই অফিসে আসে না। বস তাকে খুবই অপছন্দ করেন। কিন্তু মফিজের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারেন না। কারণ মফিজ হলো গিয়ে এক মন্ত্রীর শালা। অন্যদিকে ওই অফিসেই আরেকজন কর্মচারী আছেন, যিনি কাজে খুবই দক্ষ এবং অনেক পরিশ্রমী। তবে তিনি বয়স্ক। একদিন অল্প সময়ের মধ্যে খুব জরুরি একটা কাজ করতে হবে। বস সেই বয়স্ক কর্মচারীকেই ডেকে পাঠালেন। তাকে কাজের কথা বলার পর বয়স্ক কর্মচারীটি বললেন, -স্যার, কিছু মনে করবেন না। এটা আমার এরিয়ার কাজ নয়। এই সেক্টরে মফিজ সাহেব কাজ করেন।

তাছাড়া আমি এখন আর অত তাড়াতাড়ি কাজ করতেও পারি না। আপনি বরং মফিজ সাহেবকে কাজটা করতে বলুন। শুনে বস বললেন, তার কথা বলবেন না। ও একটা প্রথম শ্রেণির অপদার্থ! কাজ করলেও ভুলভাল করবে অথবা ফেলে রাখবে। শুধু শুধু সময় নষ্ট হবে। তার চেয়ে একটু সময় নিয়ে হলেও কাজটা আপনিই করুন। শুনে বয়স্ক কর্মচারী বললেন, স্যার, এখন তো মনে হচ্ছে, অপদার্থ হওয়াই ভালো ছিলো। কাজ না করেই দিব্বি বসে বসে বেতন পেতাম। মর‌্যাল অফ দ্য স্টোরি : যারা কাজ করে দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে বা সবার দেখভাল করে, সবসময় তাদের কাছেই আমাদের প্রত্যাশা বেশি থাকে। কিন্তু আমরা কখনোই তাদের সুবিধা-অসুবিধা, ভালোলাগা-মন্দলাগা ইত্যাদিকে গুরুত্ব দিই না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত