প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মাছের দেশে মাছের আকাল

নুর উদ্দিন: [২] হাওর-বাওড়ের জেলা সুনামগঞ্জে নদী, পুকুর, জলাশয় কিংবা হাওর কোথাও আগের মতো দেশি মাছ নেই। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাছের বাজারে বেড়েছে দেশি মাছের দাম। প্রজনন না হওয়ায় হাওরে মাছের উৎপাদনে কম হয়েছে বলে মতে বিশ্লষকদের।

[৩] হাওরে দেরিতে পানি প্রবেশ এবং সময়মতো মাছের প্রজনন না হওয়ায় এবার হাওরে মাছের উৎপাদন কম হয়েছে। মাছ উৎপাদনের এমন আকাল অবস্থার জন্যে হাওরপাড়ে নির্মিত অপরিকল্পিত বাঁধকে দায়ি করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ফসলরক্ষার নামে জেলার বিভিন্ন হাওরের চারপাশে নির্মিত করা হয়েছে বাঁধ। বন্ধ করা হয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নালা ও ক্লোজার। অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করে পানির ধারা বন্ধ করার ফলে সময় মতো হাওরে পানি ঢুকতে পারেনি। ফলে প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী মাছের প্রজনন না হওয়ায় মাছের উৎপাদন হয়নি। বাঁধ নির্মাণের নামে হাওর, জলাশয়ের সাথে নদীর পানির ধারা বন্ধ করে দিলে আগামীতে মাছের উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন হাওর ও পরিবেশবিদরা।

[৪] জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, হাওর, পুকুর, জলাশয়ে প্রতি বছর মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে ১ লাখ ৩ হাজার মেট্রিকটন। মাছের চাহিদা ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। আমিষের চাহিদা মিটে উদ্বৃত্ত থাকে ৪৮ হাজার মেট্রিক টন মাছ। মাছের উৎপাদন ও প্রজনন বৃদ্ধিতে সরকার রাজস্ব খাত থেকে প্রতি বছরে উপজেলা ভিত্তিক লক্ষাধিক টাকার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। চলতি বছরেও পোনা অবমুক্তকরণের কাজ চলমান রয়েছে।

[৫] দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদনে দেশের শীর্ষতম জেলা সুনামগঞ্জ। গত বছর ৯৮ হাজার ২২৯ টন মাছের উৎপাদন হয়। চিতল, পাবদা, রুই ও আইড় মাছের মতো সুস্বাদু মাছ দেশে-বিদেশে সরবরাহ করা হয়। বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি মাছের উৎপাদন হয়। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ অর্থাৎ ৬ হাজার কোটি টাকার মাছ উৎপাদন করা সম্ভব।

[৬] জেলে ছলিম মিয়া বলেন, জাল বাইয়া মাছ ধইরা পরিবার চালাই। এবছর হাওরে মাছ নেই। জেলে শামস উদ্দিন বলেন, এবছর আষাঢ় মাসের পর হাওরে পানি আসছে। যে কারণে সময় মতো মাছ ডিম ফুটাতে পারেনি।

[৭] হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, মাছের উৎপাদন কম হওয়ার জন্যে দায়ি হাওরের অপরিকল্পিত বাঁধ। যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণ করে পানির ধারা বন্ধ করায় হাওরে সময়মতো পানি প্রবেশ করেনি। যার কারণে পানির অভাবে মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়েছে।

[৮] জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল বলেন, এবার হাওরে দেরিতে পানি প্রবেশ করায় মাছের প্রজনন ঠিকমতো হয়নি। এ কারণে মাছের উৎপাদন কম হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাওরে ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত