প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চমেকে চিকিৎসাধীন ষাটোর্ধ্ব নারীকে নিতে এখনো আসেনি স্বজনরা

মো. শহিদুল ইসলাম: [২] চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ষাটোর্ধ্ব নারী সরস্বতী ধরকে নিতে তার কোন আত্মীয় স্বজন বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আসেনি বলে জানিয়েছেন, হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

[৩] তবে তার ছেলে পবনের সাথে যোগাযোগ হয়েছে, তিনি তার মাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন বলে জানান। আশা করা হচ্ছে চিকিৎসাধী সরস্বতী ধরকে নিয়ে যাবেন স্বজনরা। তার পরও চমেক হাসপাতাল কতৃপক্ষ থেকে নগরীর হালিশহর থানা ও উপজেলার আনোয়ারা থাকাকে অবহিত করা হয়েছে।সরস্বতী ধর এখনো হাসপাতালের ১৮ নম্বর নিউরোমেডিসিন ওয়ার্ডে রয়েছেন। ওই ওয়ার্ডের নার্স এবং পাশে থাকা রোগীর স্বজনরা তার দেখবাল করছেন।

[৪] হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৭ দিন হাসপাতালের বিছানায় পড়ে থাকলেও দেখতে আসেননি কোনও স্বজন। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরস্বতী ধরকে হাসপাতালে ভর্তি করান স্বামী রণজিত ধর। হাসপালের নিয়ম অনুযায়ী রোগী ভর্তি হলে রেজিস্ট্রারে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দুটি নাম্বারও দেওয়া হয়। সেখানে একটি তার স্বামী রণজিত এবং অন্যটি ছেলে পবনের। সেই নাম্বারের সূত্র ধরে ফোন করা হয় স্বামী রণজিতকে। ফোন ধরলেও তিনি খুবই অসুস্থ জানিয়ে ছেলে পবনকে ফোন করতে বলেন।

[৫] ছেলে পবনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, মায়ের অসুস্থতার খবর তার জানা নেই। তিনি এখন খুলনা আছেন এবং সেখানে থেকে কিছুই করা সম্ভব নয়। তার বাবার ফোনে যোগাযোগ করে আনার ব্যবস্থা করছেন বলে জানান।

[৬] সরস্বতী ধরের স্থায়ী ঠিকানা আনোয়ারায় হলেও চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার সবুজবাগে থাকেন বলে রেজিস্ট্রারের উল্লেখ করা হয়।

[৭] নিউরোমেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. পীযুষ মজুমদার বলেন, ষাটোর্ধ্ব এই নারীকে গত কয়েকদিন আগে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের কোনও সদস্য হাসপাতালে আসেনি। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিজের পকেটের টাকা দিয়ে করিয়ে দিয়েছি। রোগীর অবস্থা অগের চেয়ে ভালো। যে অবস্থায় আছে, হালকা ব্যায়াম করলে শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হবে।

তিনি বলেন, হঠাৎ কারও মুখ বাঁকা হয়ে গেলে, কথা জড়িয়ে গেলে, চোখে না দেখলে অথবা এক হাত-পা অবশ হয়ে গেলে, দুর্বলতা বোধ করলে তা স্ট্রোকের লক্ষণ। অনেক সময় এ লক্ষণগুলো খুব দ্রুতই সেরে যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। সিটিস্ক্যান করলে তেমন কিছু পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ এটাকে ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ বলে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ ধরনের স্ট্রোককে ট্রান্সিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) বলে।

[৯] এদিকে মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সরস্বতী ধরকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কেউ নিতে আসেনি। শেষ পর্যন্ত আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাকে নিতে কেউ না আসলে হাসপালের পরিচালকের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। সম্পাদনা: সঞ্চয় বিশ্বাস