প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের পাশে ডিসি দিলসাদ বেগম

সোহেল মিয়া: [২] আশ্রয়ণের অসহায় বাসিন্দাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে এবং তাদের আত্ন-কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সরকারে। আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের নিয়ে সরকারের মহতি এই উদ্যোগগুলো যাতে সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন ও প্রতিফলন হয় সেজন্য তৃণমূলে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম।

[৩] জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দেওয়া ঘরের বাসিন্দাদেরকে কিভাবে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো যায় সেজন্য নিয়মিত আশ্রয়ণে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম।

[৪] তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বালিয়াকান্দির নবাবপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম পরিদর্শনে যান এবং তাদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন। এ সময় তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে দুঃস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য চারটি সেলাই মেশিন আশ্রয়নের চারজন নারীকে প্রদান করেন।

[৫] সেলাই মেশিন বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) হাসিবুল হাসান, নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন আলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা প্রমূখ।

[৬] সেলাই মেশিন পেয়ে খুশিতে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন আশ্রয়ণের এই চার নারী। তারা তাৎক্ষণিক ভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, আমাদের জমি ছিলনা, ঘর ছিল না। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতাম। শেখের বেটি আমাদেরকে জমি দিয়েছে, ঘর দিয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছে। এখন আমরা পোলাপান নিয়ে বেশ সুখেই বাস করছি। এখন আবার সেলাই মেশিন পেলাম। এটা ভাবতেও পারছিনা।

[৭] এ সময় তারা আরো বলেন, ঘরে উঠার পর থেকেই সব সময় আমাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন ডিসি ও ইউএনও স্যার। মাঝে মাঝেই ইউএনও স্যার আমাদের এই পল্লীতে এসে আমাদের সুখ-দুঃখের খবর নেন। আজ ডিসি স্যার নিজে এসে আমাদের ছেলে-মেয়েদের খবর নিলেন। আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখি।

[৮] রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসাবে রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলা পাংশা, বালিয়াকান্দি, কালুখালী, গোয়ালন্দ ও সদরেতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৭৬০ টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৪৩০ টিসহ মোট ১ হাজার ১৯০ টি অসহায় পরিবার পাকা ঘর পেয়েছে। এ সকল অসহায় মানুষের ভাগ্যে উন্নয়নে এবং আত্নকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই কাজগুলো যাতে সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন হয় সেজন্য আমরা তৃণমূল থেকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার চেষ্টা করছি।

[৯] এ সময় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আশ্রয়ণে যারা থাকছে তাদের বিষয়ে সরকারি সহায়তায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় এদেরকে নিয়ে আসতে না পারলে দেশ পিছিয়ে পড়বে। আশ্রয়ণের বাসিন্দারা এখন তারা তাদের সন্তানদেরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন।

সর্বাধিক পঠিত