প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রউফুল আলম: স্নাতক পাস ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই বেকার দুঃখজনক

রউফুল আলম: স্নাতক পাস ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই বেকার- এটা প্রথম আলোর একটা রিপোর্ট। দুঃখজনক। যন্ত্রণাদায়ক। কষ্টকর। যদিও এই রিপোর্টে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেই ফোকাস করা হয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো দেশের পাবলিক-প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিরও অনেক শিক্ষার্থী বছরের পর বছর বেকার থাকে। ব্যাচেলর পাস করার পর কয়েক বছর ধরে চাকরির প্রস্তুতি নিতে হয়। ইংরেজি শিখে। অংক শিখে। টাই বাঁধা শিখে। কী করে হাঁটতে হয়, ভালো পোশাক পড়তে হয়, ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলতে হয়- এগুলোও নাকি মোটিভেশনাল স্পিকাররা শেখায়।

পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়া শেষ করে আমার জানাশোনা অনেকেই চাকরি না পেয়ে মালয়শিয়া গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছে। আমাদের উচ্চশিক্ষা যে কতোটা পরিকল্পনাহীন, বৈশ্বিকমাণদণ্ডে কতোটা পিছিয়ে সেটা এই জরিপই বলে দিচ্ছে। কিন্তু এগুলো নিয়ে কর্তারা কেউ মাথা ঘামাবে না। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলি। গ্রাম-গঞ্জের কলেজে ব্যাচেলর-মাস্টার্স খুলে দিই। পাড়ায় পাড়ায় ইউনিভার্সিটি কলেজ বানিয়ে রেখেছি। অথচ শিক্ষার মান বজায়ের জন্য যে মানের শিক্ষক, যে মানের সুযোগ-সুবিধা যোগান দেয়া প্রয়োজন, সেটাই করছি না। শিক্ষার মান নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণের ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। ইউনিভার্সিটিগুলোতে বহু সাবজেক্ট (ডিপার্টমেন্ট) আছে যেগুলো থেকে প্রতিবছর কয়েক হাজার স্টুডেন্ট বের হয়। অথচ সেগুলো পড়ে কোথায় চাকরি করবে, সেটা কেউ জানে না। মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নাকি গণহারে উচ্চশিক্ষাÑ এটাই আমরা এখনো ঠিক করতে পারিনি। পাঁচ-ছয় বছর ধরে ইউনিভার্সিটিতে আটকে রেখে একটা তরুণকে যদি রাষ্ট্রের সম্পদ বানানো না যায়Ñএটা যে কতো দুর্ভাগ্য, বুঝানো যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় যদি কর্মমুখী ও কালধারার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিতে না পরে, তাহলে এই শিক্ষা ব্যবস্থা রাষ্ট্রকে কতো দূর নিতে পারবে? ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত