প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিমানবন্দরের পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দায়িত্ব পেল সাত বেসরকারী প্রতিষ্ঠান

মারুফ হাসান : [২] প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, আগামী ৬ দিনের মধ্যে মধ্যে বিমানবন্দরের বসবে করোনা ল্যাব। ডিবিসি

[৩] জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দ্বিতীয় তলায় কার পার্কিং এলাকায় আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে।

[৪] এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দরে ল্যাব চালানোর জন্য খুব দ্রুতই এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট ঘোষণা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করা হবে । প্রাথমিকভাবে একটি বেসরকারি ল্যাবকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

[৫] আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবিতে গতকাল(মঙ্গলবার) বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন প্রবাসীরা। কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভের পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা হবে। মানবজমিন

[৬] গত ৬ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপনের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পরেও আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেশে আটকে থাকা প্রবাসীরা। তারা বলেন, র‌্যাপিড টেস্ট ল্যাব বসানোর বিষয়ে কোনো সমাধান না আসা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

[৭] বিক্ষোভকারীরা বলেন, নেপাল, ভারত, শ্রীলঙ্কা এমনকি পাকিস্তানের মতো দেশের বিমানবন্দরগুলোতে ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিমানবন্দরে মেশিনটি স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদাসীনতার কারণে এখনো স্থাপন হয়নি। জাগোনিউজ

[৮]  প্রবাসীরা আরও জানান, করোনা মহামারির সময় হাজারো প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরার পর নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা আটকে আছেন। প্রায় দেড় বছর সময় ধরে তারা দেশে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ধার-দেনা করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এরই মধ্যে অনেকের ভিসা ও আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে ৫০ হাজারের ওপর প্রবাসী তাদের চাকরিস্থলে যেতে না পেরে বাংলাদেশে আটকে পড়েছেন। ফলে এসব প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আরটিভি

[৯] বর্তমানে ঢাকাসহ সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আরটি-পিসিআর মেশিনে করোনার নমুনা পরীক্ষা ও রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি এসব মেশিনেই দ্রুত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার জন্য একাধিক মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা অত্যাবশ্যক বলে মতামত দিয়েছে।বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনে আগ্রহী দুই ডজন প্রতিষ্ঠান

[১০] এদিকে, বিদেশগামী যাত্রীদের প্রয়োজন বিবেচনায় সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশনায় সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শাহজালালসহ একাধিক বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় দুই ডজন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য আবেদন করে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কে কী প্রস্তাব দিয়েছে তা পর্যালোচনার জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। জাগোনিউজ

[১১] সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে শাহজালাল বিমানবন্দরে র‌্যাপিড আরটি-পিসিআর ল্যাবসেবা কার্যক্রম বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির সভা হয়।jagonews24

[১২] বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম গণমাধ্যমেকে জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন একটি শর্ত দেয়া হচ্ছে যে, ফ্লাই করার ৪, ৬ বা ৮ ঘণ্টা আগে যাত্রীকে পিসিআর টেস্ট করতে হবে। বেশ কয়েকটি দেশ থেকে এ রকম বলা হয়েছে। গত কয়েক দিন থেকে আলোচনা চলছিল। আজ এটা প্রিসাইজ করে দেয়া হয়েছে। দু-তিন দিনের মধ্যে টেস্টিং ফ্যাসিলিটিজ করা হবে।

[১৩] এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অবকাঠামো নির্মাণসহ সার্বিক কাজটি করবে। তারা আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করে, যেখানে ২০-২২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার কী সক্ষমতা রয়েছে তা পর্যালোচনা করে দেখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের কারিগরি কমিটির মতামত জানতে চাওয়া হয়। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে কারিগরি কমিটি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নথিপত্র পর্যালোচনা করে এবং মতামত প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত