প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বঙ্গবন্ধু টানেল রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ে চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব নাকচ

সোহেল রহমান : [২] চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’ (সিসিসিসি)-এর প্রস্তাবটি ফেরত পাঠিয়েছে ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’।

[৩] মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

[৪] বৈঠক শেষে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিং-এ অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে নির্মাণাধীন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের জন্য সার্ভিস প্রোভাইডার/অপারেটর হিসেবে টানেলটির নির্মাণ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’ (সিসিসিসি)-কে ‘সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি’-তে নিয়োগের একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়নি। প্রস্তাবটিতে কিছু ব্যত্যয় ও মিসিং লিংক আছে। এগুলো প্রতিপালন করে আসলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

[৫] প্রসঙ্গত, প্রায় ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।

[৬] অর্থমন্ত্রী জানান, এছাড়া ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র সভায় আরও দুটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন সেন্টারে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট’ ‘কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল’ স্থাপনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

[৭] এর আওতায় প্রথম পর্যায়ে দ্রুততম সময়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল’ স্থাপনের পূর্ত কাজ এবং চিকিৎসা যন্ত্রপাতি রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে পিপিএ ২০০৬-এর ধারা ৬৮(১) এবং পিপিআর, ২০০৮-এর বিধি ৭৬(২) অনুযায়ী ‘সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি’-তে ক্রয়ের একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১০ কোটি ২৮ লাখ ২২ হাজার টাকা।

[৮] এ প্রস্তাবটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা চাই না যে, এই মহামারি আমাদের মাঝে আর ফিরে আসুক। তবে আমাদের যদি প্রয়োজন হয়, তবে আরো ফিল্ড হাসপাতাল হবে। আমাদের সার্ভিস ডেলিভারি দিতে হবে। এটা সরকারের প্রথম প্রায়োরিটি। তবে আমরা চাই মহামারি শেষ হয়ে যাক।

[৯] অর্থমন্ত্রী জানান, এছাড়া বৈঠকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা মহাসড়ক ৪- লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি ‘পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নে বিনিয়োগকারী নির্বাচনের লক্ষ্যে দরপত্র পুনঃমূল্যায়নের একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এটিও কমিটি অনুমোদন দেয়নি।

[১০] তিনি আরও জানান, অন্যদিকে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের (১ম ও ২য় শ্রেণি) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের মোট ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭৩৫ কপি বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মনোনীত ২৫টি প্রতিষ্ঠান ৭২টি লটে এসব বই সরবরাহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

[১১] পুঁজিবাজারে তহবিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেÑ তা সরকারি সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। সম্পাদনা : ভিকটর রোজারিও

 

 

সর্বাধিক পঠিত