প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিদ্দিক মাহমুদ: হোমিও ওষুধ কাজ করে প্রেক্ষিতে একটি জরুরি বিশ্লেষণ

সিদ্দিক মাহমুদ: হোমিও ওষুধ ঠিক কীভাবে হয়, সেটা আমরা জানি না বলে অনায়াসে আমরা বলে ফেলি, ওটাতে তো শুধু পানি থাকে! আর এটাতে ফাঁকি দেওয়া যায়, ভেজাল মেশানো হয়, ইত্যাদি। একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই। আমরা ছোট্ট বেলায় মাঠে, রাস্তায় পড়ে গিয়ে, নিজেরা মারামারি করতে গিয়ে আঘাত পাই, ছাল ছিলে যায়, হয়তো রক্ত পড়তে থাকে। আমাদের মধ্যে যারা একটু বুদ্ধিমান, ছুটে গিয়ে কিছু ঘাস ছিঁড়ে হাতের তালুতে ঘসে আঘাত পাওয়া যায়গায় লাগিয়ে দেই, কেউ বা গাঁদা পাতা ছিড়ে এনে হাতে ডলে ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দেয়। এই যে ঘাস বা গাঁদা পাতার রস। এটা উত্তম ডিসইনফেকটান্ট। ডেটল / স্যাভলনের মতো। যারা হোমিও গবেষক তারা এই রকম গাছ-পাতা-শিকড়-ফল-ফলের শাঁস, খনিজ পদার্থ, বালি, শ্যাওলা ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করে ওষুধ বের করেন।

কীভাবে? মনে করুন, এক ফোঁটা ঘাস বা গাঁদা পাতার রসের সঙ্গে ১০০০ ফোঁটা পিওর এলকোহল (না, মদ না) বা ডিসটিল্ড ওয়াটার মিশ্রিত করে সেই শিশিটা ধীরে ধীরে বিশেষ নিয়মে ১০০ বার হাতের তালুতে ঝাঁকা দেন। তারপর ওই মিশ্রণ থেকে মাত্র এক ফোঁটা তরল নিয়ে আবার আগের মতো ১০০০ ফোঁটা পিওর এলকোহল বা ডিসটিল্ড ওয়াটার মিশ্রিত করে শিশিটা ধীরে ধীরে একই নিয়মে ১০০ বার হাতের তালুতে ঝাঁকা দেন। এভাবে চলতে থাকে। হোমিও বিজ্ঞানী বলতে পারেন, কখন সেই এক ফোঁটা ঘাস বা গাঁদা পাতার রস ওষুধ হয়ে গেলো! আর ওই যে বিভিল্ল মাত্রার পিওর এলকোহল বা ডিসটিল্ড ওয়াটার মিশ্রিত অনুপান অনুযায়ী যে তরল তৈরি হলো, সেই অনুপান আমরা জানি ৩, ৬, ১২, ৩০, ২০০, ১০০০, ১০,০০০ মাত্র। আর এই অনুপানই এক এক ধরণের রোগে কাজ করবে। এবার আসি, নকল আর ভেজালের ব্যাপারটা। আপনি যখন ডাক্তারের কাছে যাবেন, আপনার রোগ-ইতিহাস শুনে ডাক্তার এক শিশি ডিসটিল্ড ওয়াটারে বাক্সের ভেতর থেকে একটা ছোট শিশি বের করে শিশি থেকে ৫/৬টা ফোঁটা ওষুধ ঢেলে দিয়ে বেশ ক’বার ঝাকালেন। আপনার ওষুধ তৈরি হয়ে গেলো।

এমন করে এক শিশি ৫০ ফোঁটা ওষুধ দিয়ে ৫০০ জনের রোগের ওষুধ বানানো হয়ে যায় ওই ঝাঁকি দেওয়ার মধ্যে দিয়ে। হোমিওপ্যাথি ওষুধে কোনো ‘এক্সপায়ারী ডেট’ নেই। পাঁচ-দশ বছরের পুরাতন শিশি থেকে এক ফোঁটা ওষুধ আজও আপনার শরীরে কাজে লাগবে। ডাক্তার আপনাকে বলবেন, প্রতিবার ওষুধ খাওয়ার সময় শিশিটা ঝাঁকি দিয়ে খেতে। তার মানে প্রতিবার আপনার শিশির ওষুধ ঝাঁকি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়ে গেলো ও সেটা আরও উন্নত শক্তিতে আপনার রোগের বিরুদ্ধে কাজ করবে। আমি নিজে ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কেবল হোমিওপ্যাথি ওষুধের ওপরই আছি! আমার বয়স এখন ৭৬ বছর! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত