প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৪ কিশোরী হারিয়ে শোকের গ্রামে পরিণত হয়েছে গাজীপুরের পাইনশাইল

এ.এইচ.সবুজ: [২] সদর উপজেলার পাইনশাইল গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুরাগ নদের পানিতে গোসল করতে গিয়ে পানির স্রোতে হারিয়ে গেলো চার (৪) কিশোরী। দিনভর খোঁজাখোঁজির পর সন্ধ্যায় তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করতে পারলেও এখনো পাওয়া যায়নি ১ জনের মরদেহ। এই চারজন কিশোরীকে হারিয়ে শোকের গ্রামে পরিণত হয়েছে গাজীপুরের পাইনশাইল গ্রাম।

[৩] এ ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার পাইনশাল গ্রামে। স্কুল পড়ুয়া ৪ কিশোরীর অকাল মৃত্যুতে শোকের মাতম বয়ে যাচ্ছে পরিবার ও গ্রামে। এরকম মৃত্যু যেন কোনভাবেই মানতে পারছেন না গ্রামের মানুষেরা। গ্রামের মানুষগুলো কেউ কেউ বসে কাদঁছেন খালের ধারে এবং আবার কেউ কেউ শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সান্তনা দেওয়ার জন্য ভীড় করছেন তাদের বাড়ির আঙিনায়।

[৪] সাদিয়া আক্তার রিচি (১৫) ও রিয়া (১০) দুটো মেয়েই ছিলো একমাত্র সহায়-সম্বল পাইনশাইল গ্রামের সোলাইমানের। রিচি ছিলো ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির হাইস্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ও রিয়া ছিলো শম্পা মডেল স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। কিন্তু নিয়তির নির্মম খেলায় পানির স্রোতে তিনি (সোলাইমান) হারিয়েছেন একমাত্র সম্বল দেই মেয়েকেই।

[৫] সোলাইমানের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার আদরের দুই মেয়েকে হারিয়ে এবং তার কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে গ্রামের আকাশ-বাতাস। গ্রামবাসীও ছলছল চোখে দেখছেন ও শুনছেন দুই মেয়েকে হারানোর কান্নার বিলাপ।

[৬] সোলাইমানের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, রিয়া বাড়ির পাশে খালের পাড়ে বসে আখ খাইতেছিলো। ও আমার কাছে বায়না ধরেছিলো তাকে নিয়ে গোসল করতে। কিন্তু আমি বললাম না মা যাওয়া যাবেনা কারণ নদীতে অনেক স্রোত। এই বলে বাজারে চলে আসি। একটু পরেই খবর আসে রিচি ও রিয়াকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। এই কথা বলেও সে বারবার কেঁদে উঠছেন।

[৭] একই গ্রামের মঞ্জুর আলমের মেয়ে মোসা. মায়া বেগম (১৫)। সে ছিলো হাজী জমির উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। হায়েত আলীর মেয়ে আইরিন আক্তার (১৪) পাইনশাইল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলো। তাদের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। তারাও নিজ সন্তান হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েছেন। সম্পাদনা: সঞ্চয় বিশ্বাস

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত