প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারী পাচার ও মাদক রোধে বিশেষ নির্দেশনা পুলিশের

নিউজ ডেস্ক: মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ এবং নারী ও মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবল পদে আসন্ন নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তারা। কনস্টেবল নিয়োগে কোনো পুলিশ সদস্য দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা ও ক্যাডার কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গতকাল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে তিন দিনব্যাপী ক্রাইম কনফারেন্সের গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। সভায় নারী পাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল ও থানায় মামলার জট কমানো, পুলিশ সদস্যদের বিভাগীয় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, অর্থ ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন, নতুন নিয়মে স্বচ্ছতার সঙ্গে কনস্টেবল নিয়োগ, পুলিশের পদবিন্যাস ও পদ সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন উপমহাপরিদর্শক বলেন, ক্রাইম কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে পুলিশের দাফতরিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বেশি।

বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের পুলিশের কর্মপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা, থানায় মামলার জট কমানো, থানাগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি, ব্যয়ে কৃচ্ছ্র সাধন বিষয়ে আলোচনা হয়। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) মো. কামরুজ্জামান জানান, গতকাল অপারেশনস উইংয়ের কার্যক্রম, বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট, ডেভেলপমেন্ট উইংয়ের কার্যক্রম, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মুলতবি বিভাগীয় মামলা, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা, নতুন নিয়মে কনস্টেবল নিয়োগ, পুলিশের পদবিন্যাস ও পদ সৃষ্টি, গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পুলিশ সদর দফতরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ (মঙ্গলবার) আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অপরাধ পর্যালোচনা সভা শেষ হবে। সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানান, ক্রাইম কনফারেন্সের প্রথম দিনে ডিআইজি এ ওয়াই এম বেলালুর রহমান বিভিন্ন জেলা ও রেঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা, মানব পাচার মামলা, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিদের কাছে এসব অপরাধ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অপরাধ বৃদ্ধির কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয় পাশাপাশি আগামীতে যাতে এসব অপরাধ বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

একইভাবে বেলালুর রহমান দেশের বিভিন্ন জেলা ও রেঞ্জে মাদক মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এ সময় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। সভায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসপিদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, মাদক মামলায় কারও সম্পৃক্ততা আসলে কোনো ধরনের তদবির শোনা যাবে না। মাদকের সঙ্গে যারই সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়াও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত একজন পুলিশ সুপার জানান, পাসপোর্টের ভেরিফিকেশনে পুলিশের বিশেষ শাখা কাজ করে। অনেক সময় নানা কারণে ভেরিফিকেশন দেরি হয়। পাসপোর্টের ভেরিফিকেশনে যাতে অযথা সময় ক্ষেপণ না হয় বিষয়টি মনিটরিং করার জন্য জেলার ডিএসবির প্রধানদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ক্রাইম কনফারেন্সে পুলিশের বাজেট ব্যবস্থাপনায় কৃচ্ছ্র সাধনের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বলা হয়, করোনা সংক্রমণসহ নানা কারণে পুলিশের ট্রেনিংসহ বিভিন্ন বাজেট কমাতে হচ্ছে। ট্রেনিংসহ বিভিন্ন খাতে প্রাপ্ত সরকারি বরাদ্দ ব্যয়ে যথাসম্ভব কৃচ্ছ্র সাধনের জন্য পুলিশ সুপারদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় পুলিশের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজের বিষয়ে তুলে ধরা হয়। এ সময় পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ ও সংস্কারে মানসম্মত কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। স্থাপনা নির্মাণে উন্নত নির্মাণ সামগ্রী এবং ভালো ব্যবহার, মানসম্মত ও রুচিশীল আসবাবপত্র কেনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। জেলার এসপি ও নিজ নিজ ইউনিটের প্রধানদের বিষয়টি মনিটরিং করার কথা বলা হয়েছে। সভায় সব অতিরিক্ত আইজিপি, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার, সব জেলার পুলিশ সুপার, বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আজ আইজিপির নির্দেশনামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে ক্রাইম কনফারেন্স সমাপ্ত হবে।  সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত