প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] খুলনার তেরখাদায় ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব উঠছে ক্রয় কমিটিতে

সোহেল রহমান : [২] ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে খুলনার তেরখাদায় ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

[৩] ‘বিল্ড-ওন-অপারেট (বিওও)’ চুক্তির আওতায় ‘নো ইলেক্ট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে বেসরকারি খাতে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে যৌথভাবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘হিরো ফিউচার এনার্জিস (এইচএফই) এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং পানামা’র প্রতিষ্ঠান ‘বিজনেস রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন’ (বিআরআইসি)। মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।

[৪] বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নির্মিতব্য এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে ২০ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ০.১০২৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮.২০ টাকা)। সে হিসাবে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ কিনতে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৩২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

[৫] বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, নির্মিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের এই দর ‘বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড’ (বিউবো) কর্তৃক চুক্তিকৃত অনুরূপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

[৬] বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য উদ্যোক্তা কোম্পানিদ্বয় নিজ অর্থে ও নিজ ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংগ্রহ, পাওয়ার ইভ্যাকুয়েশনের জন্য আনুমানিক ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৩২ কেভি লাইন স্থাপন, বে নির্মাণ এবং উল্লিখিত ট্রান্সমিশন নির্মাণের জন্য ‘রাইট অব ওয়ে’সহ প্রয়োজনীয় জমি, সাব স্টেশন নির্মাণসহ সম্পূর্ণ প্রকল্প ব্যয় নির্বাহ করবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ পরিমাপের জন্য এনার্জি মিটার পিজিসিবির ১৩২/৩৩ কেভি সাব-স্টেশনের ১৩২ কেভি বাস সাইডে স্থাপন করবে। এমতাবস্থায় সার্বিক বিবেচনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প স্থাপনের প্রস্তাবটি গ্রহনযোগ্য বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

[৭] সূত্র জানায়, আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০০৮’ এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২৫ সাল নাগাদ মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

[৮] প্রসঙ্গত: ‘টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (স্রেডা)-এর হিসাব মতে, বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদন করা হচ্ছে।

[৯] সূত্র জানায়, এ প্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য (সৌর) শক্তির উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি বহুমূখীকরণ ও কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রধান উদ্দেশ্য। আলোচ্য ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’র অভিষ্ট-৭ ‘সকলের জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি সহজলভ্য করা’- এর সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ। সম্পাদনা : ভিকটর রোজারিও

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত