প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা থাকছে না, কিছু ভুল সিদ্ধান্তও আছে

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন ২০২৩ সাল থেকে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা থাকছে না। এইটা একটা অত্যন্ত ভালো সংবাদ। কিন্তু একই সাথে শিক্ষার মানের বারোটা বাজানোর জন্য কিছু ভুল সিদ্ধান্তও আছে যেমন:

১। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ হবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষার ওপর। এইবার ফলাফলে লোকাল এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার ছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতা, যুবনেতা, পাতিনেতাদের দৌরাত্ব শুরু হবে। কলেজের শিক্ষকদের উপর খবরদারি বেড়ে যাবে। এর আগে ল্যাবের নম্বরগুলো নিজ নিজ কলেজে শিক্ষকদের হাতেই ছিল আর ওটা যে কেমন ছিল তা আমরা সবাই জানি। এবার আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা নাকি কলেজের বার্ষিক পরীক্ষার মত হবে। অর্থাৎ এইটার ভার নির্ধারণের যেই বার ছিল সেটা নামিয়ে ভারকে কমানো হলো। তাছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াটা এখন লোকাল লেভেলে নিয়ে যাওয়া হলো।

২। এসএসসি পরীক্ষা হবে শুধু দশম শ্রেণীর পাঠ্যক্রমের ওপর। এর মাধ্যমেও এসএসসির ভার কমানো হলো।

৩। জাতীয় শিক্ষাক্রমে নবম-দশম শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের বিভাজন করা হবে না। অর্থাৎ এর মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানকে এক করে একটি বিজ্ঞান পড়ানো হবে যার অর্থ হলো আগে যতটুকু পদার্থবিজ্ঞান পড়তো তার তিন ভাগের এক ভাগ পড়বে। একই কথা সত্য রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে।

৪। কারিগরি শিক্ষা প্রাধান্য পাবে। এর মানে হলো পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান সিলেবাসকে প্রায় অগুরুত্বপূর্ণ করে জোর দেওয়া হবে কারিগরি শিক্ষার উপর। এতে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে? যারা ভালো এবং তুখোড় মেধাবী ছাত্র তারা ওই তিনটি বিষয় কম পড়ে কারিগরি বিষয় বেশি পড়ার কারণে দেশে কারিগরের সংখ্যা হয়ত কিছুটা বাড়বে কিন্তু পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা তৈরী হওয়ার সম্ভবনা কমে যাবে। বিজ্ঞানের আগে সবার জন্য কারিগরি বিষয় পড়তে বাধ্য করা মানে দেশের ১২ টা বাজিয়ে দেওয়া। এমনিতেই আমাদের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানে তেমন ভালো না। এখনতো এই পদ্ধতি চালু হলে অফিসিয়াললি আরো খারাপ বানানোর লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া হবে। এইসব না করে বরং বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্যের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা নামে আরেকটি শ্রেণী যোগ করা যেতে পারতো।

নতুন এই পদ্ধতি চালু করার ফলে কি হবে? অভিবাকরা এখন বাধ্য হবে তাদের সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে। মানে বাংলা মাধ্যমের কফিনে শেষ পেরেগটা মেরে দেওয়া হচ্ছে। একজন ডাক্তার এবং একজন ব্যারিস্টারকে যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় তখনই বুঝে গিয়েছিলাম শিক্ষা শেষ। আগে বিজ্ঞান না শিখে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানী না হয়ে টেকনিশান হবে। পৃথিবীর কোন দেশে এই মডেল আছে? আমরা কি এমন আঁতেল হয়ে গেলাম যে বিশ্বকে নতুন মডেল দিতে হবে? বিশ্বতো আমাদের একঘরে করে ফেলবে। নাকি সরকারের টার্গেট হলো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য কারিগর বানানো?

সর্বাধিক পঠিত