প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ক্যাম্পের ভিতরেই অবৈধ বেকারীঃগুড়িয়ে দিয়েছে এপিবিএন পুলিশ

কায়সার হামিদ: [২] আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দুটি বেকারী গুড়িয়ে দিয়েছেন এপিবিএন পুলিশ। অবৈধভাবে স্থাপিত বেকারীতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন নিম্নমানের খাদ্য পণ্য তৈরী করে তা বাজারজাত করছিল রোহিঙ্গারা। পুলিশ অভিযানে ঐ ২ টি বেকারী কারখানা থেকে বিভিন্ন মালামাল, ডিপ ফ্রিজ, কম্পিউটার ও অনান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

[৩] কক্সবাজার-১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের এক বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) কুতুপালং -৫ ও ৮/ওয়েষ্ট ক্যাম্পে এধরণের এক অভিযানের কথা জানানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩ টা থেকে সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত ইরানী পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের আওতায় এ অভিযান ও ব্লক রেইড চালানো হয়।

[৪] এতে ক্যাম্প-৮/ওয়েস্ট এর ই ব্লক ও ক্যাম্প ৫ এর ডি ব্লকে রোহিঙ্গা মৃত আবুল কালামের ছেলে আমির হাকিম(৪৫) ব্লক-এ /৪২, ক্যাম্প ৮ ডব্লিউ এর শেডে অবৈধভাবে বেকারী স্থাপন পূর্বক বিস্কিট, পাউরুটি, বনরুটিসহ ইত্যাদি মালামাল তৈরীকালে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ট্রে জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ক্যাম্প ৮ ডব্লিউ এর ই ব্লক এবং ক্যাম্প ৫ এর ডি ব্লকের মধ্যবর্তী নামার বাজারে অবৈধভাবে দোকানে ডিপ ফ্রিজ ব্যবহার করায় ০২টি ডিপ ফ্রিজসহ কিছু কম্পিউটার সামগ্রী উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।

[৫] রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের ভিতরেই আলাদা জগত তৈরী করছে। চলে তাদের নিজস্ব আইন কানুন, সালিশ বিচার, জেল জুলুম, জরিমানা। কত রকমের যে অবৈধ ও বেআইনী কর্মকাণ্ড করছে তারও সঠিক কোন হিসেব নেই। উখিয়ার কুতুপালং থেকে টেকনাফের ৩৪ টি ক্যাম্পে কয়েক হাজার ইজিবাইক ও সিএনজি অটোরিকশা চালায় রোহিঙ্গারা। এসবে অধিকাংশের মালিকও তারা।

[৬] লোকেমুখে শুনা যায়, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বানানো হচ্ছে বাংলাদেশী বিভিন্ন ব্রান্ডের পানীয় সামগ্রী, ভেজাল ইয়াবাসহ কতকিছু। আসলে কতটুকু সত্য তা সেখানে অনুসন্ধান করে খবর নেওয়ার তেমন সুযোগও নেই। রয়েছে চরম নিরাপত্তাহীনতা। তবে যতসব গুরুতর অপকর্ম আছে তার প্রায় সেখানে ঘটছে বলে জানা গেছে।

[৭] ইতিমধ্যে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে লক্ষ লক্ষ ইয়াবা, ইয়াবা তৈরীর উপাদান, বাংলাদেশী মুদ্রা, স্বর্ণ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল কতকিছুই না জব্দ করেছে। যা অব্যাহত রয়েছে। এধরনের অবৈধ ও বেআইনী তৎপরতা আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে থেমে নেই। এবার আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে ক্যাম্পের ভিতর সন্ধান পেয়েছেন খাদ্য সামগ্রী পণ্য উৎপাদনের ২ টি কারখানার।

উখিয়া বণিক সমিতি সভাপতি একরামুল হক বলেন, এগুলো আমাদের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি। উখিয়ার পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের কর্মকাণ্ড অর্থনীতির পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমরা বারবার বলে আসছি রোহিঙ্গাদের আরও বেশী নজরদারিতে রাখা হউক। ক্যাম্পের ভিতরে শত শত সিএনজি ও ইজিবাইক রোহিঙ্গারা চালাচ্ছে অবাধে। আর স্থানীয় লোকজনের কোন গাড়ী ভাড়া নিয়ে ক্যাম্পে প্রবেশ করলেই করা হয় নানা হয়রানি। সম্পাদনা: সঞ্চয় বিশ্বাস

সর্বাধিক পঠিত