প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] খুচরা বাজারে কৃত্তিম সঙ্কট তৈরিসহ তিন কারণে বাড়ছে ইলিশের দাম

আব্দুল্লাহ মামুন: [২] ইলিশের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম ও ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাহিদা, সময় মতো জালে ইলিশ ধরা না পড়া কারণেই ইলিশের দাম উর্দ্ধমূখী।

[৩] বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে চাঁদপুরের নদীকেন্দ্রে ইলিশের গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্প পরিচালক আবুল বাশার বলেন, পাইকারি বাজারে আপনি প্রচুর ইলিশ দেখবেন কিন্তু ঢাকাসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে কিনতে গেলে মনে হবে ইলিশের সরবরাহ কম। আসলে ইলিশের সরবরাহ কম না, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীর দখলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ চলে যাচ্ছে। ঢাকা পোস্ট

[৪] তিনি বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। এ সময়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইলিশ মজুতসহ বাজার ব্যবস্থাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে তারা।

[৫] এ ইলিশ গবেষক জানান, অক্টোবর মাস আসছে। ওই সময়ে মা ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। এ সময় জেলেরা ইলিশ ধরতে সাগরে নামতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টা কিন্তু ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই জানেন। ফলে তারা অনৈতিকভাবে ইলিশ মাছ মজুত করে রাখে। পরবর্তী সময়ে বেশি দামে বাজারে বিক্রির আশায়।

[৬] রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরেজমিনে খুচরা ইলিশ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেও তথ্য পাওয়া গেল, বাজারে ইলিশের ঘাটতি নাই, মূলত এক শ্রেণির ব্যবসায়ীই নিয়ন্ত্রণ করছে ইলিশের বাজার।

[৭] খুচরা বিক্রেতারা যা চাহিদা দেয় তার অনেক কম সরবরাহ করছে পাইকাররা- এমন দাবি করেন প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে ইলিশ বিক্রেতা সুরুজ মিয়া। তিনি বলেন, আমরা তো ইলিশ চাই ওনাদের (পাইকারদের) কাছে থেকে। কিন্তু ওনারা দেন না। বলেন যে, ঘাটতি আছে। ফলে বাজারেও একটা টান থাকে ইলিশের। এ কারণ দামও বাড়তির দিকে।

[৮] রাজধানীর উত্তরা এলাকার জহুরা মার্কেটের এ ইলিশ বিক্রেতার দাবি, সব ব্যবসাতেই একটা সিন্ডিকেট কাজ করে। আর ইলিশ তো সোনার হরিণ। এখানে সিন্ডিকেট থাকাটাই স্বাভাবিক। তারা যখন যে দামে কিনেন তখন সেরকম দামেই বিক্রি করার চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যেও দুই একজন আছেন, কৃত্তিম সঙ্কট দেখিয়ে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি করেন।

[৯] রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে ইলিশ নানা দামে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের বেশি ইলিশ ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনছেন ক্রেতারা।

[১০] মৎস্য অধিদফতরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ শাখা) মাসুদ আরা মমি জানান, গত বছর সাড়ে ৫ লাখ টন ইলিশের আহরণ করা হয়। এর আগের বছরে (২০১৮-১৯) ৫ লাখ ৩৩ হাজার মে.টন ইলিশ জালে ধরা পড়ে। চলতি বছর ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় পৌনে ৬ লাখ মেট্রিক টন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত