প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সবুজ পাহাড় আর উঁচু-নিচু টিলার সমাহারে ভরপুর কমলগঞ্জের পদ্ম ছড়া লেক

সোহেল রানা: চারদিকে সবুজ পাহাড় আর উঁচু-নিচু টিলার সমাহার কমলগঞ্জের পদ্ম ছড়া লেক। সবুজের নান্দনিকতা, বিস্তীর্ণ পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিবেষ্টিত নদী, ছড়া, ঝর্ণা ও জলপ্রপাত দুটি পাতা একটি কুড়ির প্রাচুর্যে ভরপুর এক সমৃদ্ধ শস্য ভাণ্ডার মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ।

প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় সিক্ত এই জেলার জনজীবন যেমন সৌহার্দপূর্ণ তেমনি প্রকৃতির মমতায় ভরপুর বিভিন্ন উপজেলাগুলো।তাই তো‘পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনার জেলা’ হিসেবে বারবার উঠে আসে ‘মৌলভীবাজার’ এর নাম। এ জেলারই কমলগঞ্জ উপজেলায় পদ্মছড়া লেক। এটি ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) মাধবপুর চা বাগানের ফাঁড়ি চা বাগান পদ্মছড়া চা বাগানে অবস্থিত। এই অপরূপ লেকটি এখন পর্যটকদের আকর্ষণের পরিণত হয়ে বিনোদনের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। বছরের যে কোনো সময়ে আনন্দভ্রমণ, পিকনিক বা বেড়ানোর জন্য বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে অগণিত পর্যটকরা আসছে এই পদ্মছড়া লেকে।

তবে এখনো দেশের অনেকের কাছেই অচেনা-অজানা এই পদ্মছড়া লেকটি। পাহাড়ের বুকের ভেতর নিজের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রকৃতির সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে। এখানে এলে দেখা যায় ঘন সবুজের সমারোহ। নাকে এসে লাগে সবুজ পাতাদের ঘ্রাণ। মুহূর্তে আপনার মনকে চাঙ্গা করে তুলবে এই লেকের প্রকৃতি। লেকের পানি, সুনীল আকাশ আর শ্যামল সবুজ পাহাড়, ছবির মতো চা বাগানের এই মনোরম দৃশ্য আপনাকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের জগতে। চারদিকে পাহাড়-টিলার মাঝখানে অবস্থিত লেকটি সত্যি অপূর্ব। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,আসলেই সৌন্দর্যের ভাণ্ডার নিয়ে যেন দাঁড়িয়ে আছে এই লেকটি। চারিদিকে সবুজের সমারোহ সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুণ।

এখানে কেউ আসলে বারবার আসতে চাইবেন। এটি আসলেই দৃষ্টি নন্দন একটা লেক পর্যটনের অপার সম্ভাবনা এই পদ্মছড়া লেকটি। শুধু বৈদেশিক আয়ই নয়, কমলগঞ্জকে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে তা কার্যকর করতে পারলে আমূল পরিবর্তন বদলে রাজস্ব,যা আমাদের সামগ্রিক জন্য সহায়ক হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধবপুর চা বাগানের এক স্টাফ বলেন, দেশি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে মাধবপুর লেক, তার সঙ্গে কমলগঞ্জে মনোরম পরিবেশে নয়নাভিরাম সৌন্দর্য নিয়ে পদ্মছড়া লেক একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পদ্মছড়া লেককে দৃষ্টিনন্দন করার লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও চা বাগান স্টাফদের উদ্যোগে কৃষ্ণচূড়া, ফলদ ও ফলজ গাছের শতাধিক চারা রোপণ করা হয়েছে।

চারা রোপণ কার্যক্রমে পদ্মছড়া চা-বাগানের প্রায় অর্ধশত জন চা শ্রমিক সহযোগিতা করেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোতাহের আলী বলেন,এই লেকে অনেক পর্যটক আসছেন তাই লেকটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করার লক্ষ্যে আমরা বৃক্ষ রোপণসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।

এ বছর আমরা লেকের রাস্তার দু-পাশে প্রায় শতাধিক বৃক্ষ রোপণ করেছি। গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয়দের সহযোগিতা চাই। পর্যটনের অপার সম্ভাবনা এই পদ্মছড়া লেকটি। তবে সরকারি বা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ পর্যটনের জায়গাটির দিকে এখনো নজর দেয়নি।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লেকটিকে আকর্ষণীয়ভাবে সংস্কার করা ও পর্যটকদের জন্য আরও উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব বলে জানান স্থানীয়রা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত