প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: ‘ইনস্টিটিউট ফর ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ ইন সায়েন্স’ গঠনের স্বপ্ন ও আবেদনে বিপুল সাড়ার সারমর্ম

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন : ‘ইনস্টিটিউট ফর ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ ইন সায়েন্স’ গঠন নিয়ে ফেসবুক পোস্টে প্রচুর কমেন্টস, মেসেজ, অনুদানের অশ্বাস ইত্যাদি পেয়েছি। এরকম সারা পাবো আমি ভাবতেই পারিনি। এই বিপুল পরিমাণ সারা দেখে আমি আনন্দিত, আমি উদ্বেলিত, আমি উচ্ছ্বসিত। আসলে কবি যেমন করে বলেছেন ‘ছোট ছোট বালুকণা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল।’

আমাদের সকলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র, দান অনুদান এবং চেষ্টা মিলে বিশাল কিছু করা মোটেই কঠিন কোনো কাজ নয়। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদেরকে আশার ভেলায় চড়ে এ ইনস্টিটিউট গড়তেই হবে। একটু পরিচয় করিয়ে দেই কারা যুক্ত আছে এ প্রচেষ্টায়। এ ইসনটিটিউট খোলার সঙ্গে যুক্ত আছেন বাংলাদেশের অন্যতম একজন প্রতিভাবান পদার্থবিদ। যার নাম ড. আরশাদ মোমেন (Arshad Momen)। ছাত্রাবস্থা থেকে তাকে চিনি যদিও সে আমার চেয়ে ৩ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। তখন থেকেই সে আমার বন্ধু হয়ে যায়। তুখোড় মেধাবী হিসাবে তার খ্যাতি আছে। আমি যখন প্রফেসর সালামের ইনস্টিটিউট আইসিটিপি ইতালিতে পড়তে যাই সে আমাকে ধরে ফেলে। সে হয়ে যায় আমার সহপাঠী। সেখান থেকে ডিগ্রী শেষে আমেরিকার Syracuse University থেকে পিএইচডি এবং বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট-ডক শেষে দেশে ফিরে আসেন। তার হাত ধরেই বাংলাদেশের ফিজিক্স অলিম্পিয়াড শুরু হয় এবং তাকে পাওয়া মানে ফিজিক্স অলিম্পিয়াড পেয়েছে যোগ্যতম একজন কোচ। শিক্ষার্থীরা প্রতিবছরই বাংলাদেশের জন্য পুরস্কার পাওয়া সেই যোগ্যতারই স্বাক্ষর।

আমাদের এ প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত আছেন ড. মাহবুব মজুমদার। সবাই জানেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড যে অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছে তার পেছনের মানুষটি কে। সে মানুষটি হলো ড. মাহবুব মজুমদার (Mahbub Majumdar)। তার স্কুল কলেজ সবই আমেরিকাতে। তারপর এমআইটি ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করে ট্র্যাক পরিবর্তন। একেবারে তত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের কেন্দ্র ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যাপ্লায়েড ম্যাথেটিক্স অ্যান্ড থিওরিটিক্যাল ফিজিক্স থেকে পিএইচডি। যেখানে পড়েছেন আমাদের জামাল নজরুল ইসলাম, স্টেফান হকিং প্রমুখ। সেখান থেকে পিএইচডি শেষে ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে পোস্ট-ডক শেষে বাংলাদেশে চলে এসেছেন। ১৫-২০ বছর যাবৎ আমাদের ইয়ং শিক্ষার্থীদের অনবরত অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছেন। তার হাত ধরে আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এখন এমআইটি হার্ভার্ড স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। আমাদের সঙ্গে আছে তীব্র আলী। Tibra Ali ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যাপ্লায়েড ম্যাথেটিক্স অ্যান্ড থিওরিটিক্যাল ফিজিক্সের বিখ্যাত থার্ড পার্ট করে সেখান থেকেই পিএইচডি করেন। তারপর ক্যানাডার বিখ্যাত পেরিমিটার ইনস্টিটিউটে গবেষক হিসাবে বেশ কয়েক বছর কাজ শেষে দেশে ফিরে এখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সে কেমন ছাত্রপ্রিয় মানুষ তার একটা উদাহরণ দেই। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী ছাত্রের নাম অর্পণ পাল। সে আইসিটিপিতে ডিপ্লোমা করার জন্য ফেলোশিপ পায় কিন্তু শর্ত হলো অনার্স পাস হতে হবে। সে তখন অনার্সের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। এদিকে করোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ তাই পরীক্ষা হচ্ছে না।সেই সময় তীব্র আলী এগিয়ে আসে। তাকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে সেখান থেকে ডিগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যার কারণে অর্পণ পাল আইসিটিপিতে যেতে পেরেছে। সেখানে গিয়ে আমেরিকায় ভর্তি হওয়ার জন্য তার ট্রান্সক্রিপ্ট লাগবে। সেতো তখন ICTP-তে। এই তীব্র আলী আমাকে ফোন করে ট্রান্সক্রিপ্ট তোলার নানা বিষয় জেনে নিজে দৌড়াদৌড়ি করে ট্রান্সক্রিপ্ট তুলে পাঠিয়েছে। এরকম ছাত্র পাগল শিক্ষক কজন আছে? অর্পণ পাল বর্তমানে আমেরিকায় পিএইচডি করছে।

আমাদের সঙ্গে যুক্ত আছে ড.রাকিবুর রহমান (Rakib Rahman)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান থেকে যেকোন ছাত্র বের হয়েছে নিঃসন্দেহে রাকিবুর রহমান তার মধ্যে অন্যতম সেরা ছাত্র। তার সঙ্গে গত বছর আমার সাবজেক্টে একটি গবেষণা করেছি। নিজে অন্য ফিল্ডের হয়েও তারমধ্যে নতুন কিছু শেখার যে আগ্রহ আমি দেখেছি তা বিরল। প্রথমে আমি আমার সাবজেক্ট নিয়ে আলোচনা করেছি।

সেটা শিখে আমাকে অসংখ্য প্রশ্ন করে তার উত্তর জানতে চেয়েছে। সে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আমি নিজেও শিখেছি এবং একসময় দেখি সেও আমার সাবজেক্টে প্রায় এক্সপার্ট। আমাদের যৌথভাবে লেখা আর্টিকেলটি খুবই ভালো একটা জার্নালে প্রকাশি হয়েছে। এ কাজ করতে গিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি কতোটা মেধাবী এবং কর্মঠ গবেষক সে। রাকিবুর রহমানও প্রফেসর আব্দুস সালামের ইনস্টিটিউট ICTP থেকে ডিপ্লোমা করা। তারপর নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি। এরপর ইতালির বিখ্যাত ংপড়ঁষধ হড়ৎসধষব, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস বিশ্ববিদ্যালয় ও জার্মানি ম্যাক্স প্ল্যাংক থেকে ৩ টা পোস্ট-ডক অভিজ্ঞতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। তার গবেষণা পত্রের সংখ্যা এবং পোস্ট-ডক অভিজ্ঞতার সংখ্যা দেখে তাকে সরাসরি অধ্যাপক বানানো উচিত ছিলো।

ন্যূনতম সহযোগী অধ্যাপকতো অবশ্যই। অনেক চেষ্টা করেও কর্তৃপক্ষকে বোঝানো যায়নি তাকে অতি দ্রুত সহযোগী অধ্যাপক বানানো হউক। এটাই বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হালচাল। ব্যতিক্রমী মানুষকে যোগ্য সম্মানটুকু দিতেও কার্পণ্য। আমাদের সঙ্গে আরও যুক্ত আছেন ড. সাজিদ হক। সাজিদ University of Wisconsin-Madison থেকে পিএইচডি করে বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার University of Cape Town-এ পোস্ট-ডক হিসাবে কাজ করছে। তার গবেষণার বিষয় String theory and Cosmology! অত্যন্ত মেধাবী একজন গবেষক। আমাদের সঙ্গে যুক্ত আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. তানভীর হানিফ। তিনি ক্যানাডার University of Western Ontario থেকে মাস্টার্স এবং পিএইচডি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। তিনিও অত্যন্ত মেধাবী একজন গবেষক। আমাদের সঙ্গে যুক্ত আছে ড. সৈয়দ হাসিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি ক্যানাডার Concordia University থেকে পিএইচডি করেন। এরপর মালয়েশিয়া থেকে পোস্ট ডক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দেন।

কিছুদিন আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি ছেড়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষক। পদার্থবিজ্ঞানে পড়ে একজন গাণিতিক পদার্থবিদ হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলেন। আমাদের সঙ্গে যুক্ত আছে ড. তালাল আহমেদ। আমার ছাত্রদের মাঝে অন্যতম মেধাবী। ড তালাল আহমেদও প্রফেসর আব্দুস সালামের ইনস্টিটিউট ওঈঞচ থেকে ডিপ্লোমা শেষে ইতালির অন্যতম প্রেস্টিজিয়াস প্লেস হিসাবে খ্যাত ঝওঝঝঅ থেকে পিএইচডি করেন। পিএইচডি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দেন। তাত্বিক পদার্থবিদদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশী গবেষক। আমি তাকে নিয়ে প্রচণ্ড আশাবাদী। এই এক ঝাঁক মেধাবী মানুষ ইনস্টিটিউট ফর ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ ইন সাইন্স গঠনের স্বপ্ন দেখছে। আশা করি সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ যে যেখানেই থাকুক না কেন সবাই মিলে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হবেন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত