প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাফর ওয়াজেদ: শচীন কর্তার কুমিল্লা শহরের বাড়ি

জাফর ওয়াজেদ : উপমহাদেশের সর্বকালের সেরা সুরকার,সঙ্গীতজ্ঞ ও লোকগীতি/পল্লীগীতি র সংগ্রাহক দের মধ্যে অন্যতম শচীন দেব বর্মন জন্মগ্রহণ করেন আমাদের কুমিল্লা শহরে। তাঁর শৈশব কৈশোর ও কেটেছে কুমিল্লা শহরেই।

তাঁর পিতা নবদ্বীপ চন্দ্র ছিলেন স্বাধীন পার্বত্য ত্রিপুরার সিংহাসন এর একজন উত্তরাধিকারী ও অন্যতম দাবীদার। কিন্তু প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে তিনি অসফল হন এবং তৎকালীন পার্বত্য ত্রিপুরার জমিদারি বর্তমান বৃহত্তর কুমিল্লা (তখন চাকলা রোশনাবাদ নামে অভিহিত)তে বসবাস শুরু করেন। এখানেই শচীন কর্তার জন্ম। ত্রিপুরার রাজপরিবারের সকল পুরুষ সদস্য কর্তা নামে অভিহিত হতেন। তিনি ছিলেন তাঁর পিতার পঞ্চম পুত্র। অন্যান্য ভাই-বোন দের মধ্যে শচীন কর্তা সবচাইতে সচ্ছন্দ মেলামেশা করতেন প্রফুল্ল কর্তা ও তাঁর পরিবারের সাথে। প্রফুল্ল কর্তা ছিলেন কুমার নবদ্বীপ চন্দ্রর তৃতীয় পুত্র। তিনি বসবাস করতেন ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায়। শচীন কর্তা আগরতলা গেলে ভাই প্রফুল্ল কর্তা ও বৌদি ললনা দেবীর আতিথ্য গ্রহণ করতেন।ললনা দেবী নেপালের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তিনি আগরতলায় অত্যন্ত সম্মানের পাত্রী ছিলেন।

তাঁদের বাসস্থান ছিল রাজপ্রাসাদ এর অতি নিকটে, ুেযখানে এখন রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন অবস্থিত। শচীন কর্তা পড়াশোনা ও সঙ্গীত সাধনার এক পর্যায়ে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় ও আরো পরে বোম্বাই গমন করেন। এক পর্যায়ে কুমিল্লা শহরের চর্থা এলাকায় অবস্থিত শচীন কর্তার এই পারিবারিক বাড়ি টি পোড়ো বাড়িতে পরিনত হয় এবং তাঁদের সম্পত্তি অবৈধ দখলে যেতে থাকে। বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই ভবন অবৈধ দখলমুক্ত হয়ে সংস্কার হয়েছে। ঐ ভবনে একটি স্মৃতি যাদুঘর চালু করা হচ্ছে।

কুমিল্লা র চর্থা এলাকার বাড়িটির পুরানো ও বর্তমান ছবি নেট থেকে সংগৃহীত। ললনা দেবীর ছবি আমার বন্ধু রানা যোধবীর জং এর কাছ থেকে পাওয়া। তিনি নেপালী বংশোদ্ভূত ত্রিপুরার বাসিন্দা। তাঁর পূর্ব পুরুষ রানা বোধজং বাহাদুর রাজন্য শাসিত ত্রিপুরার চীফ সেক্রেটারি পদে বৃত হয়ে আগরতলা আসেন ও স্থায়ী হন। তাঁর নামানুসারে আগরতলার বোধজং চৌমুহনী ও বোধজং স্কুল এখনো বিদ্যমান। লেখক : মহামপরিচালক, পিআইবি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত