প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন পদ্মা সেতুকেন্দ্রিক সমন্বিত দক্ষিণবঙ্গ উন্নয়ন মেগা প্রকল্প: ড. আতিউর রহমান

ভূঁইয়া আশিক রহমান: [২] পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদেরের তথ্যমতে, পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, মূল সেতুর বাকি মাত্র সাড়ে পাঁচ শতাংশ আগামী ১০ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। সেতুর আর্থিক অগ্রগতি (ব্যয়) ৯০ দশমিক ১৮ শতাংশ।

[৩] নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিতব্য স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে। এই সেতু চালু হলে আমাদের অর্থনীতিতে কী যোগ করবে? জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে ম্যাক্রো ইকোনোমিতে দক্ষিণ বাংলার প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশেরও বেশি হবে । দেশের মোট জিডিপিতে ১ থেকে দেড় শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ হবে। পদ্মা সেতু চালু হলে দেশে সমন্বিত উন্নতি হবে। এই সেতু নির্মাণের ফলে সারাদেশ কানেকটেড হয়ে গেলো। এতোদিন ২১টি জেলা অন্য জেলাগুলোর সঙ্গে খুব সহজে কানেকটেড হতে পারছিলো না। পদ্মা সেতু নির্মাণের কারণে নতুন একটা কানেক্টিভিটি দেখতে পাচ্ছি। পদ্মা সেতু নির্মাণে শুধু বাংলাদেশেরই অর্থনৈতিক উন্নতি হবে না, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে তা যুক্ত হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও ভুটানের সঙ্গে কাজ করা সহজ হবে। কানেক্টিভিটির হাব হিসেবে পদ্মা সেতু যোগসূত্র হবে।

[৪] এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, দক্ষিণবাংলায় যে সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা আছে, এর মধ্যে শিপবিল্ডিং অন্যতম। পটুয়াখালী অঞ্চলে অনেকেই জাহাজ তৈরি করেন। জাহাজ শিল্প একটা বড় গতি পাবে পদ্মা সেতু চালু হলে। ঢাকা থেকে খুব সহজেই চলে যাওয়া যাবে কুয়াকাটায়। ষাটগম্বুজ মসজিদ, বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ আছে ওই অঞ্চলে। প্রচুর মানুষ ঘুরতে যাবেন। পর্যটনশিল্প বিকশিত হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। প্রচুর ক্ষুদ ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠবে, যা আমরা ঢাকা, ঢাকার আশেপাশে এবং চট্টগ্রামে দেখি। কাঁচামাল খুব দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে নারায়ণগঞ্জ কিংবা ঢাকা থেকে ।

[৫] সমন্বিত দক্ষিণবাংলা উন্নয়ন মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়ার সময় এসেছে। দক্ষিণ বাংলায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আছে, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে। একটা মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে কাজগুলো করতে হবে। ওই অঞ্চল পদ্মা সেতু সংলগ্ন হওয়ায় অর্থায়নও সহজ হবে। আমরা ইচ্ছে করলে একটা বন্দর চালু করতে পারি। পদ্মা সেতু কিংবা সুন্দরবনের নামে একটা ‘গ্রিন বন্ড’ তৈরি করতে পারি। যা দিয়ে ছোট ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের ব্যবস্থা করা যাবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ইতোমধ্যেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প চালু করেছে। এর একটা অংশ দক্ষিণ বাংলার পদ্মা সেতুকে মাথায় রেখে বরাদ্দ করলে ওই এলাকার উন্নয়ন দ্রুত হবে।

[৬] বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর আরো বলেন, পদ্মা সেতুর দুই পাড়ে বড় বড় রিসোর্ট ও হোটেল হবে। এমন সুন্দর ভিউ যেখানে আছে সেখানে চীনের সাংহাইয়ের মতো শহর গড়ে তোলা সম্ভব। পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে আমাদের শুধু অর্থই নয়, জনগোষ্ঠীকেও তৈরি করতে হবে। প্রশিক্ষণ দিয়ে ছোটখাটো উদ্যোক্তাদের তৈরি করতে হবে। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। ড. আতিউর রহমান বলেন, ১ শতাংশে সুদে সরকার ব্যাংকগুলো অর্থ দিচ্ছে। ব্যাংকগুলো ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে উদ্যোক্তাদের। এরকম প্রকল্প কি দক্ষিণবঙ্গের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য করা যায় না? ৫০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকা কি দক্ষিণ বাংলার জন্য বরাদ্দ রাখা যায় না?

[৭] পদ্মা সেতু আমরা প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছি। এখন রেলওয়ের কাজটা শুরু হবে। একইসঙ্গে গ্যাসের পাইপলাইন, ফাইবার অপটিক পাইপলাইন যাচ্ছে। দুই পাশের সড়কগুলো উন্নত দেশের মতো তৈরি হয়েছে। ভাঙাতে একটা শহর গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন রেলস্টেশন গড়ে উঠছে। বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কর্মযজ্ঞ চলছে। অবকাঠামোগুলো তৈরি হয়ে গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক বেড়ে যাবে। নীতিমালা সহজ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা করা দরকার বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। সম্পাদনা: হাসান হাফিজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত