প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাজা নিজামউদ্দিন: আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা কী?

খাজা নিজামউদ্দিন: সরকার বিদ্যুৎ দিচ্ছে, বিশাল প্রজেক্ট করছে, এই দেশ একদিন ধনী হবে সেটা সত্যি। তবে বড় কিছু সর্বনাশ হয়ে গেছে। এশিয়ার উন্নয়নের মডেল হবে আসলে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনাম যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে, তারা এগিয়ে যাবেই। কারণ কী? সেটা অন্যভাব বলার চেষ্টা করছি। প্রথমে পরিষ্কার কিছু কথা- বাংলাদেশের জব মার্কেট ভারতীয়দের দখলে। এটা কি ইচ্ছে করেই করা হয়েছে নাকি অনিচ্ছাকৃত হয়েছে, জানি না। তবে জব মার্কেট ভারতীয়দের দখলে, মার্কেটিং শ্রীলংকানদের দখলে, হাজার ৫০ পাকিস্তানিও এই দেশে উচ্চ বেতনে কাজ করতেছে। ফিলিপাইনের অনেক তরুণ-তরুণীও এই দেশে বেশ ভালো বেতনে কাজ করছে। আমরা বসে বসে দেখতেছি। আর ৪০/৫০ জন দেশি বস যাদের আমরা বলছি Home Grown CEO তাদের নিয়ে অনেক খুশি হচ্ছি। এই ৪০/৫০ আসলেই দেশের বড় সম্পদ। কিন্তু কথা হচ্ছে এতো কম কেন? কারণ হলো, বিদ্যুৎ সমস্যা প্রথমে টপাটপ কুইকরেন্টাল দিয়ে কিছুটা সামলানো যায়। সেখানে লুটপাট চললেও তখন কিছু করার থাকে না। কারণ বিদ্যুৎ না পেলে মানুষ ভাঙচুর শুরু করে। এরপরে বড় বড় প্ল্যান্ট করা যায়। সরকারের বিদ্যুৎখাতের প্রশংসা করা যায়। এখানে জাদরেল এক মন্ত্রী আছে। I would say, he is dealing with so many complex issues very বিষষ. সমস্যা হচ্ছে- মানব সম্পদে কুইক রেন্টাল চলে না। মানব সম্পদের জন্য একটা দেশে হাই কোয়ালিটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে, ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউশন থাকতে হবে। সেখানে কোন কাজ করা হয় নাই। বরং যদু মধু কদুদের দৌড়াত্ম দেখা গেছে পুরো শিক্ষাখাতে। যদু মধু কদু দিয়ে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকার প্রফেশনালসদের মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। জব মার্কেটে গ্লোবাল লেভেলে ফাইট করার জন্য ঢাবির আইবিএ যা গত ৩ দশকদের ধরে অল্প কিছু ভালো সাপ্লাই দিচ্ছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। হালের কয়েকটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি হয়তো ভূমিকা রাখবে। তবে ম্যাসিভ আকারে যতো দরকার তার ২৫ শতাংশও পাওয়া যায়নি।
সরকার আরও একটি খারাপ কাজ করেছে – সেটা হলো বিসিএস এর ৫/৭ শত সাধারণ পদের জন্য লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়েকে দৌড়ের উপর রেখেছে এবং এদের ৯৯.৫০% তাদের জীবন যৌবন এক বিসিএস এর পেছনে দিয়েও বিসিএস এ যাইতে পারে না। কারণ সিট তো সেই ৫/৭ শত। এটা জাতির সর্বনাশ করেছে। বিলিয়ন বিলিয়ন ঘন্টা ধ্বংস করেছে যে সময়টা যৌবনের সময়। কাজেই এই ধ্বংসের প্রায়শ্চিত্ত বাংলাদেশকে করতেই হবে এবং করছে। পাকিস্তানকে অনেকেই আমরা সকাল বিকাল নানা কথা বলি। কিন্তু বলি না, পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের চেয়ে অনেকে ভালো এবং পাকিস্তানি টপ ম্যানেজারদের সঙ্গে যারা কাজ করেছেন তারা জানেন, বাংলাদেশে যারা আছে, তাদের কোয়ালিটি আমাদের ম্যানেজারদের তুলনায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে বহুগুণ ভালো। তবে মানবসম্পদের কুইক রেন্টাল একদমই যে নেই, তা নয়। যেটা আমাদের ব্যবসায়ীরা করেন – দেশ থেকে তারা যেহেতু তাদের যতো দরকার ততো পান না, তাই বাকিটা বিদেশ থেকে এনে ভরপুর করে ফেলেছেন। ব্যবসা তো আর থেমে থাকতে পারে না। আওয়ামীলীগ সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের আমার অপরাধী মনে হয়।

সরকার থেকে নানা সুযোগ সুবিধা নিতে তারা এতো ব্যস্ত ছিলেন যে, শিক্ষার মান উন্নয়ন আর মানব সম্পদের বিষয়টা তাদের মাথায় আসেনি। সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে। গত ১৩ বছর শিক্ষার মান কমেছে। এর মান বাড়ানোর জন্য কী করেছে, কিছুই খুঁজে পাই না। অথচ ভিয়েতনাম উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ বরাদ্ধ মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য রেখে আমাদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যাছে মাত্র ১০ বছরেই। কারণ ওই মানব সম্পদ। একটা সরকারের সাফল্য ব্যর্থতা থাকে। এ সরকারের অনেক সাফল্য আছে, তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে আসলেই বড় মাপের ব্যর্থতা আছে, যার ঘানি টানতে হবে আগামী ২৫-৪০ বছর। এখনও যদি আমরা ভারতের মতো ম্যানেজমেন্ট স্কিলস এর ভালো ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে পারি, টার্গেট করে অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বাড়াতে ঝাপিয়ে পড়ি, ১০ বছর শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ রাখি, তাহলে ২০৩৫/৪০ এর দিকে সুফল পাওয়া শুরু করবো। Better Late than never. ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত