প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালিদ খলিল: বাংলাদেশে উর্দু ভাষা ও সাহিত্য চর্চা

খালিদ খলিল: উর্দু ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবর্গের অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় উপগোত্রের একটি ভাষা। দিল্লি ও মিরাটের আশেপাশে যে পশ্চিমা হিন্দি ভাষা প্রচলিত ছিলো, উর্দু তারই একটি শাখা। ভারতে মুসলিম শাসক ও তাঁদের সহযোগীদের আগমনের ফলে দিল্লি ও তার আশেপাশে প্রচলিত হিন্দি ভাষার সঙ্গে প্রায় দু’শতক (১২০০-১৪০০) ধরে ফারসি শব্দের মিশ্রণের ফলে উর্দু ভাষার জন্ম হয়। এ মিশ্রিত বুলিকে ভাষাবিদগণ খাড়িবুলি, রিখতা এবং হিন্দুস্থানি বলেছেন। উর্দু’ একটি তুর্কি শব্দ, যার অর্থ সৈন্য। মুগল সম্রাট শাহজাহানের (১৬২৮-১৬৫৮) সেনানিবাসের নাম ছিল উর্দু-এ-মুআল্লা। এখানে বিভিন্ন এলাকার সৈন্যরা খাড়িবুলি তথা হিন্দুস্থানিতেই কথা বলত। শাহজাহান তাঁর সেনানিবাসের নামে এ ভাষার নামকরণ করেন উর্দু। আঠারো শতকে ঢাকা চাল ব্যবসায়ের প্রধান কেন্দ্র ছিলো এবং ব্যবসায়ীরা ছিলেন মাড়োয়াড়ি। তাঁরা বাংলাভাষী চাল বিক্রেতাদের সঙ্গে হিন্দুস্থানি বা রিখতা ভাষায় কথা বলতেন। তাছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সভা ও কোর্ট-কাচারিতে হিন্দুস্থানির ব্যবহার প্রচলিত ছিলো। উর্দু সাহিত্যের চর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে দিল্লি, লক্ষেèৗ ও লাহোর কেন্দ্রের ন্যায় এক সময় বাংলার কলকাতা ও ঢাকা কেন্দ্রও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। উর্দু ভাষার মতো উর্দু সাহিত্যও তার উৎসভূমি দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ক্রমে উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রসার লাভ করে। আঠারো শতকের গোড়ার কবি ওলী আওরাঙ্গবাদীর (১৬৬৮-১৭৪৪) সাহচর্যে দিল্লিতে উর্দু কাব্যচর্চার সূত্রপাত হয়। পরবর্তী সময়ে ফায়েজ (মৃত্যু ১৭১৫), মাজমুন (মৃত্যু ১৭৪৭), আরজু (মৃত্যু ১৭৪৮) প্রমুখ কবিসাহিত্যিক ফারসির পাশাপাশি উর্দুতেও কাব্যরচনা করেন। এর আনুমানিক এক শতক পরে বাংলাদেশে উর্দু সাহিত্যচর্চা আরম্ভ হয়।

ব্রিটিশ আমলের গোড়ার দিকে মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যম ছিলো উর্দু, কারণ তখন হাদীস, ফিকাহ, তাফসির প্রভৃতি প্রধানত উর্দু ভাষায় লেখা হতো। পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববাংলার শহর ও গ্রাম-গঞ্জে উর্দু ভাষা প্রসারের প্রধান কারণ ছিলো মাদ্রাসার এ ধর্মীয় শিক্ষা। বাংলাদেশের মুসলিম অভিজাত শ্রেণির প্রায় সবাই উর্দু বলতে সক্ষম ছিলেন। ব্রিটিশ আমলে এবং পরবর্তীকালেও মুসলিম নেতৃবৃন্দ ধর্মীয় জলসায় এবং রাজনৈতিক সভায় উর্দুতে বক্তৃতা দিতেন। কলকাতার পাশাপাশি ঢাকায় আধুনিক ধারায় উর্দু কাব্যচর্চা শুরু হয় আঠারো শতকের শেষ দিকে। নবাব শামসউদ্দৌলার (১৭৭০-১৮৩১) পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় মির্জা জান তাপিশসহ বহু উর্দু কবির সমাগম ঘটে এবং ধীরে ধীরে উর্দু কাব্যের একটি নতুন গতিধারা সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর উর্দুর চর্চা অনেকটাই কমে যায়। স্কুল পর্যায়ে উর্দু বিভাগগুলি বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও উর্দু বিষয়ের ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কমতে থাকে। উর্দু পত্রপত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায় এবং উর্দুতে খবর ও নাটক প্রচারও বন্ধ হয়ে যায়। তবে বাংলাদেশ বেতার বহির্বিভাগ থেকে উর্দু ভাষায় খবর প্রচার শুরু করে। বর্তমানে আর মুশায়রা অনুষ্ঠিত না হলেও বাংলা ও উর্দু গজলের চর্চা শুরু হয়েছে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত